উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন ২০২৬ । সভাপতি ইউএনও, উপদেষ্টা স্থানীয় সংসদ সদস্য?
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে গতিশীলতা আনতে ‘উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের স্মারক সংশোধনপূর্বক আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কে.এম. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত এই আদেশে কমিটির কাঠামো, কার্যপরিধি এবং সভার নিয়মিতকরণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিটির কাঠামো
নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য কমিটির ‘মুখ্য উপদেষ্টা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা প্রশাসক এবং ভাইস চেয়ারম্যানগণ ‘উপদেষ্টা’ হিসেবে থাকবেন। কমিটির মূল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-কে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে। উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন:
-
সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
-
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
-
উপজেলা স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা।
-
উপজেলা পর্যায়ের সকল ইউপি চেয়ারম্যান।
-
মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি ও ৫ জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি (১ জন নারীসহ)।
-
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবং প্রেস ক্লাব সভাপতি।
কমিটির মূল লক্ষ্য ও কার্যপরিধি
অফিস আদেশে কমিটির জন্য ৯টি সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো: ১. উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও অপরাধ দমনে পরিকল্পনা গ্রহণ। ২. খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং অপরাধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ। ৩. মাদক ব্যবসা ও সেবন নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টি। ৪. অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। ৫. জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রেরণ।
অন্যান্য নির্দেশনা
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভায় মিলিত হতে হবে। তবে প্রয়োজনে যেকোনো সময় জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে। সভার কার্যবিবরণী নিয়মিতভাবে মুখ্য উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া, প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমোদনক্রমে অনধিক ৫ জন সরকারি কর্মকর্তাকে এই কমিটিতে ‘কো-অপ্ট’ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা পাবেন। সভার কার্যক্রমে তথ্য-উপাত্তসহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আদেশটি মন্ত্রীপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।



