১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে ৯ম পে স্কেল ২০২৬ : বৈষম্য কমছে, বড় সুখবর নিম্নস্তরের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের
সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবম পে স্কেল নির্ধারণে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক ও দেশীয় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনাই এই নতুন পে স্কেলের মূল লক্ষ্য।
বেতন বৈষম্য হ্রাস: নিচের স্তরে সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে সবচেয়ে বেশি
প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এতে নিচের স্তরের (নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের) কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে, তুলনামূলকভাবে ওপরের স্তরের বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কিছুটা কম সুবিধা পেতে পারেন।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত আগের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে।
-
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে (বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২%)।
-
সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এর ফলে নিচের দিকের গ্রেডগুলোতে বেতনের বৃদ্ধির হার ১০০% থেকে সর্বোচ্চ ১৪২% পর্যন্ত ছুঁতে পারে, যা নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীদের বাজারদরের সাথে মানিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আওতাভুক্ত হচ্ছেন যারা: আধা-স্বায়ত্তশাসিত কর্মীদের বড় সুখবর
নতুন এই পে স্কেলের আওতায় শুধু মূল ধারার সরকারি চাকরিজীবীরাই নন, বরং রাষ্ট্রায়ত্ত ও সামাজিক খাতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
-
সরকারি চাকুরিজীবী ও মাঠ প্রশাসন
-
স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী (যাদের জন্য আসছে বড় সুখবর)
-
শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী
-
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
-
স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক
-
বিচার বিভাগের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী
পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ
নতুন পে স্কেলে শুধু কর্মরতরাই নন, বড় ধরনের সুখবর পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পেনশনের হার শতভাগের (১০০%) বেশি বৃদ্ধি করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এই খসড়ায়।
৩ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে এই বিশাল অর্থনৈতিক চাপ একবারে না নিয়ে ৩টি আলাদা অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। ১. প্রথম ধাপ (১ জুলাই থেকে): নতুন অর্থবছর শুরুর সাথে সাথেই বর্ধিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ (সম্ভাব্য ৫০%) কার্যকর হবে। ২. দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ: পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি মূল বেতন এবং চিকিৎসা, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সব ভাতা নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।
পরবর্তী ধাপ: সচিব কমিটির এই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত ও বাজেট বরাদ্দের পরপরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে। গেজেট প্রকাশে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগলেও, নতুন স্কেলের আর্থিক সুবিধা আগামী ১ জুলাই থেকেই গণনা করা হবে।

