জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ: দায়িত্ব পাচ্ছেন হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটররা
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এখন থেকে কোনো ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি ‘নিবন্ধন সহকারী’ (Authorized User) হিসেবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন অথবা একাধিক ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তবে তাঁর পরিবর্তে ‘হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’কে নিবন্ধন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা যাবে।
সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন? বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ নানাবিধ দাপ্তরিক কাজের চাপ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম্পিউটার পরিচালনায় কারিগরি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা অথবা অতিরিক্ত কর্মচাপের কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁদের নিজস্ব ‘ইউজার আইডি’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ তৃতীয় কোনো অনিবন্ধিত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এর ফলে সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সেবাকে আরও সহজীকরণ করতেই রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সিস্টেমের নিরাপত্তা ও আইনি সতর্কবার্তা: নিবন্ধনের মতো স্পর্শকাতর কাজে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা একটি ‘ফৌজদারি অপরাধ’। এগুলো কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। নতুন এই নিয়মের ফলে অনুমোদিত নয় এমন ব্যক্তিদের কাছে ইউজার আইডি শেয়ারিং বন্ধ হবে, যা সিস্টেমের নিরাপত্তা ও জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করবে।
কার্যকরী পদক্ষেপ: রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে পাঠানো এই নির্দেশনার অনুলিপি সকল বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সকল ইউনিয়ন পরিষদকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৮ ও বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের এই দায়িত্ব অর্পণের ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নাগরিক সেবার ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

