এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ: বর্তমান আইনি বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট
এমপিওভুক্ত (MPO-ভুক্ত) বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ ও এর আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যমান আইনে সরাসরি কোনো বাধা না থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।
বর্তমান আইনি বিধান ও প্রচলিত নিয়ম
সাধারণত প্রজাতন্ত্রের সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সরাসরি ৩ বছরের ‘কুলিং-অফ’ বা অপেক্ষার বাধ্যতামূলক বিধান নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক তার চাকরি থেকে যথাযথ নিয়মে পদত্যাগ করে ইউনিয়ন পরিষদ বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। অতীতেও অনেক শিক্ষক শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নতুন সুপারিশ ও বিতর্ক
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ইসি চাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যাতে সরকারি বেতনের অংশীদার হওয়ার সুবাদে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত আইনে রূপ নেয়নি। এটি কার্যকর করতে হলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনুমোদনের পর তা জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস এবং পরবর্তীতে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। ফলে ইসি কেবল একটি ‘সুপারিশ’ বা প্রস্তাব পেশ করেছে, যা এখনো বলবৎ হওয়া আইনের অংশ নয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ইসির এই সম্ভাব্য উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও আপত্তি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মোর্চা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিদ্যমান সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সম্পূর্ণ সরকারি চাকরিজীবী নন, তাই তাদের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
করণীয় ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা
আপনি যদি একজন এমপিওভুক্ত কলেজের অধ্যাপক হন এবং ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী চাকরি থেকে পদত্যাগ সাপেক্ষে আপনি প্রার্থী হতে পারবেন। তবে সামনে নির্বাচন বা এর তফসিল ঘোষণার সময় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইনের সর্বশেষ সংশোধন বা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা জরুরি। চূড়ান্তভাবে আইন সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মই বহাল থাকবে।

