পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটর: সরকারি বেতন নির্ধারণ ওয়েবসাইট ব্যবহার যেভাবে করবেন
নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি পে ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা iBAS++-এর Pay Fixation মডিউলের মাধ্যমে।
অর্থ বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন পার্থক্য বা বকেয়া হিসাবও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে।
অর্থাৎ, এতদিন নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখন বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শুরু হয়েছে। তবে শুধু অনলাইনে কয়েকটি তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না; চাকরির রেকর্ড, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
নতুন পে স্কেলে কী পরিবর্তন হচ্ছে
সরকার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের গেজেট প্রকাশ করে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এতে ২০টি গ্রেডের কাঠামো বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন একই হারে বা একই অঙ্কে বাড়বে না। ব্যক্তির বর্তমান গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, চাকরির ইতিহাস, পদোন্নতি, পূর্ববর্তী উচ্চতর গ্রেড বা স্কেল এবং নতুন কাঠামোর সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর চূড়ান্ত বেতন নির্ভর করবে।
এ কারণেই পে ফিক্সেশন এত গুরুত্বপূর্ণ।
iBAS++-এ পে ফিক্সেশন কীভাবে হবে
সরকারি iBAS++ পোর্টালে বর্তমানে “Pay Fixation-2026 GoB Staff – Running (Without User ID)” এবং “Pay Fixation-2026 New Recruitment (All Grades)”-সহ সংশ্লিষ্ট অপশন দেখা যাচ্ছে।
পে ফিক্সেশনের প্রক্রিয়াটি সাধারণভাবে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
১. iBAS++ Pay Fixation মডিউলে প্রবেশ
প্রথমে iBAS++-এর নির্ধারিত Pay Fixation মডিউলে প্রবেশ করতে হবে। কর্মচারীর ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এ পর্যায়ে ভুল মডিউল নির্বাচন না করে নিজের চাকরির ধরন অনুযায়ী সঠিক অপশন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
২. NID ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই
পে ফিক্সেশনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরসহ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
iBAS++-এর অনলাইন ব্যবস্থায় NID, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে পরিচয় যাচাই এবং মোবাইল বা ই-মেইলে পাঠানো চার সংখ্যার Verification Code ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই পে ফিক্সেশন শুরুর আগে নিজের NID ও চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের মধ্যে কোনো অমিল আছে কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি।
৩. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারীর কার্যকর মূল বেতন।
নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে পুরোনো বেতনসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হবে। তাই ৩০ জুনের মূল বেতন ভুল হলে নতুন বেতন নির্ধারণেও সমস্যা হতে পারে।
এ ছাড়া প্রস্তুত রাখতে হবে—
- বর্তমান পদবি
- বর্তমান গ্রেড
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য
- পদোন্নতির তথ্য
- টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেডের তথ্য
- বদলি বা পদ পরিবর্তনের প্রাসঙ্গিক তথ্য
- প্রযোজ্য অন্যান্য সার্ভিস রেকর্ড।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
৪. শুধু আবেদন করলেই পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে না
পে ফিক্সেশন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—কর্মচারী অনলাইনে তথ্য জমা দিলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে না।
অনলাইনে দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট চাকরির নথি ও সার্ভিস রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তথ্যের সঙ্গে নথির কোনো অসংগতি থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সব তথ্য সঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও অনুমোদনের পর প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে।
এ কারণেই কর্মচারীদের এখন থেকেই নিজের সার্ভিস বুক, পূর্ববর্তী ফিক্সেশন, পদোন্নতির আদেশ এবং উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত কাগজপত্র হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৫. নতুন মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে
পে ফিক্সেশনের মূল উদ্দেশ্য হলো পুরোনো বেতন কাঠামো থেকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী ব্যক্তির প্রাপ্য মূল বেতন নির্ধারণ করা।
একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান গ্রেড দেখেই নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে না। তার পূর্ববর্তী মূল বেতন ও চাকরির ইতিহাসও বিবেচনায় আসবে।
ফলে একই গ্রেডে কর্মরত দুই কর্মচারীর পুরোনো বেতন বা সার্ভিস ইতিহাস আলাদা হলে নতুন পে ফিক্সেশনের ফলও আলাদা হতে পারে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো সাধারণ চার্ট দেখে নিজের নতুন বেতন চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। চূড়ান্ত বেতন হবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর তথ্য ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী iBAS++-এ নির্ধারিত বেতন।
উচ্চতর গ্রেডের হিসাবেও প্রভাব পড়বে
নতুন পে স্কেলে একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরতদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর অধীনে একই পদে ৮ বছর চাকরি সম্পন্ন করে পদোন্নতি না হলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর একই পদে আরও ৬ বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে আগের কাঠামোয় কেউ একই পদে দুই বা ততোধিক নির্বাচন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোর অধীনে উচ্চতর গ্রেডের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হবে।
ফলে পে ফিক্সেশনের সময় শুধু বর্তমান বেতন নয়, অতীতে কোন তারিখে কী ধরনের উচ্চতর বেতন সুবিধা পাওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া কীভাবে আসবে
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সূত্রের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না।
কারণ বকেয়া নির্ভর করবে—
পুরোনো মূল বেতন বনাম নতুন মূল বেতন + কার্যকর তারিখ + সংশ্লিষ্ট ভাতা/কর্তনের হিসাব
এর ওপর।
অর্থাৎ একজনের বেতন ৫ হাজার টাকা বাড়লে তিন মাসের বেতন পার্থক্য এক রকম হবে, আর অন্যজনের বেতন ১০ হাজার টাকা বাড়লে পার্থক্য অন্য রকম হবে।
অক্টোবরের বেতন নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নতুন বেতন ও বকেয়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধস্তন অফিসগুলোকে iBAS++-এ প্রয়োজনীয় তথ্য ও অনুমোদিত কাঠামো সম্পন্ন করতে হবে।
তবে এটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পে ফিক্সেশন, যাচাই ও বেতন বিল প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ হওয়ার ওপর।
কারা এখনই বেশি সতর্ক হবেন
পে ফিক্সেশনের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে এমন কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন—
পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারী:
সাম্প্রতিক পদোন্নতি ও পদোন্নতির তারিখ সঠিকভাবে দিতে হবে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারী:
আগে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডের তথ্য ভুল হলে নতুন হিসাব প্রভাবিত হতে পারে।
টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মচারী:
পুরোনো সুবিধাগুলোর তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বদলি বা পদ পরিবর্তন হওয়া কর্মচারী:
কর্মস্থল ও পদসংক্রান্ত রেকর্ডের সঙ্গে iBAS++ তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।
যাদের NID বা জন্মতারিখে অসংগতি আছে:
অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
MPO শিক্ষক ও বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে সময় আলাদা হতে পারে
সব সরকারি চাকরিজীবীর নতুন বেতন একই সময়ে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি MPOভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।
তাই সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫–২০ অক্টোবরের পে ফিক্সেশন সময়সূচিকে সব ধরনের সরকারি বা সরকারি-অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একইভাবে প্রয়োগ করা ঠিক হবে না।
পে ফিক্সেশনের আগে ১০টি বিষয় প্রস্তুত রাখুন
নতুন বেতন নির্ধারণের আগে কর্মচারীদের অন্তত নিচের তথ্যগুলো যাচাই করে রাখা উচিত—
১. NID নম্বর
২. জন্মতারিখ
৩. নিজের মোবাইল নম্বর
৪. বর্তমান পদবি
৫. বর্তমান গ্রেড
৬. চাকরিতে যোগদানের তারিখ
৭. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন
৮. পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশনের তথ্য
৯. পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেড/টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেডের তথ্য
১০. প্রয়োজনীয় সার্ভিস রেকর্ড ও আদেশের কপি।
ভুল তথ্য দিলে কী করবেন
অনলাইনে তথ্য দেওয়ার সময় কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে অনুমান করে তথ্য বসানো উচিত নয়।
বিশেষ করে—
- পুরোনো মূল বেতন,
- পদোন্নতির তারিখ,
- উচ্চতর গ্রেড,
- টাইম স্কেল,
- সিলেকশন গ্রেড,
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ
এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসন বা হিসাব শাখার রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
তথ্য ও চাকরির নথির মধ্যে অসংগতি থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
২০ অক্টোবর কেন গুরুত্বপূর্ণ
৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর—এই ১৬ দিনের সময়সীমা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময়ের মধ্যে অনলাইন পে ফিক্সেশন, সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং পরবর্তী হিসাব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এই সময়সীমার কথা বলা হয়েছে।
তবে কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে তথ্যগত সমস্যা দেখা দিলে তার ব্যক্তিগত পে ফিক্সেশন বা বেতন বিল প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে iBAS++ Pay Fixation এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন ধাপ। গেজেটে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর এবার ব্যক্তিভিত্তিক বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।
৫ অক্টোবর থেকে পে ফিক্সেশন শুরু, ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য এবং এরপর নতুন বেতন ও প্রায় তিন মাসের বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয়ই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন বেতন ও বকেয়ার অঙ্ক এক হবে না। সেটি নির্ভর করবে ব্যক্তির গ্রেড, ৩০ জুনের মূল বেতন, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন পে স্কেলের বিধান অনুসারে iBAS++-এ সম্পন্ন হওয়া চূড়ান্ত পে ফিক্সেশনের ওপর।
সুতরাং এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—তথ্য প্রস্তুত রাখা, iBAS++-এ সঠিক তথ্য দেওয়া, পুরোনো সার্ভিস রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং Final Submission-এর আগে নতুন বেতনের হিসাব ভালোভাবে যাচাই করা।

