Pay Fixation ফিক্সেশন

iBAS++-এ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পে-ফিক্সেশন: ৭ ধাপে তথ্য যাচাই ও বেতন নির্ধারণ

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম এখন iBAS++-এর Pay Fixation-2026 ব্যবস্থার মাধ্যমে এগোচ্ছে। অর্থ বিভাগের জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ সংক্রান্ত সরকারি পেজটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখেও হালনাগাদ রয়েছে, আর বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট আর্কাইভে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬—চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

এরই মধ্যে iBAS++-এর লগইন ব্যবস্থায় “Pay Fixation-2026 GoB Staff – Running (Without User ID)” অপশন দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণভাবে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য Running পদ্ধতিতে পে-ফিকেশনের একটি নির্দিষ্ট অনলাইন কাঠামো চালু করা হয়েছে।

প্রদত্ত iBAS++ স্ক্রিনশট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, Running পে-ফিকেশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে শুরু করে পারিবারিক তথ্য, চাকরির ইতিহাস, পূর্ববর্তী বেতনস্কেল, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন বেতন নির্ধারণ—সবকিছু ধারাবাহিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


iBAS++ Pay Fixation-2026-এ তিন ধরনের প্রক্রিয়া

নতুন পে-ফিকেশন ব্যবস্থায় GoB Staff-এর অধীনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দেখা যাচ্ছে—

১. Running — বর্তমানে চাকরিতে কর্মরত এবং স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।

২. Promotion — পদোন্নতির কারণে নতুন পদ বা গ্রেডে বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে।

৩. Higher Grade — উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে।

এ কারণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করতে হবে। সবার জন্য Running অপশন প্রযোজ্য নয়।


প্রথম ধাপ: সাধারণ তথ্য

পে-ফিকেশনের শুরুতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৌলিক পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে।

এখানে রয়েছে—

  • হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • মোবাইল নম্বর
  • নাম—বাংলা
  • নাম—ইংরেজি
  • টিআইএন
  • ই-মেইল

এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী ধাপের বেতন নির্ধারণের সঙ্গে কর্মচারীর পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

iBAS++-এর বর্তমান পে-ফিকেশন ব্যবস্থার অনলাইন ফর্মেও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, এনআইডি, বাংলা ও ইংরেজি নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল এবং ই-মেইলের মতো মৌলিক তথ্যের ক্ষেত্র দেখা যাচ্ছে।

তথ্য ভুল থাকলে কী করবেন?

কোনো কর্মচারীর মাস্টার ডাটায় নাম, জন্মতারিখ বা অন্য মৌলিক তথ্য ভুল থাকলে পে-ফিকেশন ফর্মে নিজের মতো করে পরিবর্তন করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধন করা নিরাপদ।


দ্বিতীয় ধাপ: পারিবারিক তথ্য

দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে পারিবারিক তথ্য।

এখানে সাধারণত—

স্বামী/স্ত্রীর তথ্য

  • বৈবাহিক অবস্থা
  • নাম
  • এনআইডি
  • জন্মতারিখ

সন্তানের তথ্য

  • নাম
  • সম্পর্ক
  • এনআইডি অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর

প্রতিবন্ধী সন্তানের তথ্য

প্রযোজ্য হলে প্রতিবন্ধী সন্তানের তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

এই তথ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাস্টার ডাটায় আগে থেকেই তথ্য থাকলে তা পুনরায় দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে প্রদর্শিত তথ্য সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।


তৃতীয় ধাপ: অফিস ও চাকরির তথ্য

পে-ফিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুটগুলোর একটি হচ্ছে চাকরির ইতিহাস।

এই অংশে প্রথম যোগদান এবং বর্তমান চাকরির অবস্থান—দুই ধরনের তথ্য বিবেচনা করা হয়।

প্রথম যোগদানের তথ্য

এখানে থাকতে পারে—

  • যোগদানের তারিখ
  • ক্যাডার/সার্ভিসের নাম
  • সার্ভিস পরিচিতি নম্বর
  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ
  • অধিদপ্তর/পরিদপ্তর
  • মাঠ পর্যায়ের অফিস বা অপারেশনাল ইউনিট
  • প্রথম পদবি
  • সাবস্টেনটিভ গ্রেড

বর্তমান অফিসের তথ্য

এরপর বর্তমান কর্মস্থলের—

  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ
  • অধিদপ্তর/পরিদপ্তর
  • অধস্তন অফিস/অপারেশনাল গ্রুপ
  • মাঠ পর্যায়ের অফিস/ইউনিট
  • বর্তমান পদবি
  • বর্তমান পদমর্যাদা
  • বর্তমান গ্রেড/স্কেল
  • বর্তমান বেতন

ইত্যাদি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

iBAS++-এর বর্তমান সিস্টেমে মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে অধিদপ্তর, অধস্তন অফিস, মাঠ পর্যায়ের অফিস, বর্তমান পদবি, গ্রেড ও বর্তমান বেতনের মতো তথ্যের ক্ষেত্রও দেখা যাচ্ছে।


চতুর্থ ধাপ: উচ্চতর স্কেল ও গ্রেডের তথ্য

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিজীবনে আগে টাইম স্কেল, সিনিয়র স্কেল, উচ্চতর স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার তথ্য নতুন পে-ফিকেশনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

  • উচ্চতর স্কেল/গ্রেডের ধরন
  • সংশ্লিষ্ট পদবি
  • প্রাপ্তির তারিখ
  • তৎকালীন বেতনস্কেল
  • গ্রেড
  • নির্ধারিত মূল বেতন

একাধিক উচ্চতর স্কেল বা গ্রেডের ইতিহাস থাকলে প্রতিটি আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন হতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন শুধু বর্তমান পদ বা গ্রেডের ওপর নির্ভর করে না; পূর্ববর্তী পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, স্কেল পরিবর্তন এবং নির্ধারিত বেতনের ধারাবাহিকতাও পে-ফিকেশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাই পুরোনো কোনো উচ্চতর গ্রেড বাদ পড়লে পরবর্তী হিসাব যাচাই করার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।


পঞ্চম ধাপ: পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য

এরপর আসে পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের ইতিহাস।

বিশেষ করে ২০০৯ ও ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলের অধীনে কর্মচারীর বেতন কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল, তার তথ্য নতুন বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে সাধারণত দেখা যেতে পারে—

  • সংশ্লিষ্ট পদবি
  • স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ
  • বেতন নির্ধারণের তারিখ
  • গ্রেড
  • স্কেল
  • নির্ধারিত মূল বেতন

iBAS++-এর বিদ্যমান ট্রানজিশন/পে-ফিকেশন ফর্মেও ৩০ জুন ২০১৫-এর পুনঃনির্ধারিত গ্রেড, মূল বেতন, ব্যক্তিগত বেতন এবং ১ জুলাই ২০১৫-এর পুনঃনির্ধারিত মূল বেতনের মতো তথ্যের ক্ষেত্র রয়েছে।

অর্থাৎ পুরোনো বেতন কাঠামোর ধারাবাহিকতা নতুন ফিক্সেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


ষষ্ঠ ধাপ: জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী মূল হিসাব

সবচেয়ে বেশি আগ্রহের জায়গা হলো ষষ্ঠ ধাপ। এখানেই ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন এবং নতুন বেতনস্কেল-২০২৬-এর বিধান বিবেচনায় এনে নতুন বেতন নির্ধারণের ফলাফল তৈরি হওয়ার কথা।

প্রদত্ত স্ক্রিনশটের উদাহরণে গ্রেড-১৬-এর ১২,৪৯০ টাকা মূল বেতন ধরে একটি হিসাব দেখানো হয়েছে।

উদাহরণে—

৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন: ১২,৪৯০ টাকা
পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ: ৯,৩০০ টাকা
পার্থক্য: ৩,১৯০ টাকা

এরপর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন স্কেলে গ্রেড-১৬-এর প্রারম্ভিক ধাপ এবং সমধাপ/উচ্চতর ধাপ বিবেচনায় হিসাব এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্ক্রিনশটে প্রদর্শিত উদাহরণে নতুন স্কেলের ধাপ হিসেবে ২৫,৪০০ টাকা এবং পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট-সম্পর্কিত হিসাবে ২৬,৭০০ টাকা পর্যন্ত হিসাব দেখানো হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—এই উদাহরণকে প্রত্যেক গ্রেড ও প্রত্যেক কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। প্রত্যেকের ৩০ জুন ২০২৬-এর প্রকৃত মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, গ্রেড, পূর্ববর্তী ফিক্সেশন, উচ্চতর গ্রেড/স্কেল এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী ফলাফল আলাদা হতে পারে।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর মূল সরকারি আদেশটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ হিসেবে গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।


১ জুলাই ২০২৬-এর বেতন নির্ধারণে ইনক্রিমেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পে-ফিকেশনের হিসাব বুঝতে গিয়ে অনেকেই শুধু নতুন স্কেলের সমধাপ দেখে বেতন ধরে নিচ্ছেন। কিন্তু স্ক্রিনশটের উদাহরণটি দেখাচ্ছে, নতুন স্কেলের ধাপ এবং ইনক্রিমেন্টসহ প্রাপ্য বেতন একই বিষয় নয়।

উদাহরণে—

নতুন স্কেলের সমধাপ: ২৫,৪০০ টাকা

এরপর ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করে—

২৬,৭০০ টাকা

দেখানো হয়েছে।

আবার প্রদত্ত উদাহরণে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির একটি অংশ বিবেচনার পর ১৮,৯৪৫ টাকা, এবং ইনক্রিমেন্টসহ ২০,২৪৫ টাকা দেখানো হয়েছে।

এখানে মূল শিক্ষা হলো—পে-ফিকেশন স্ক্রিনে একাধিক মধ্যবর্তী অঙ্ক দেখা গেলেও চূড়ান্ত প্রাপ্য বেতন কোনটি, তা সিস্টেমের নির্ধারিত ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।


২০২৭ সালে ধাপে ধাপে পরবর্তী বৃদ্ধি

প্রদত্ত উদাহরণে নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি অংশ ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার হিসাবও দেখানো হয়েছে।

উদাহরণ অনুযায়ী—

১ জানুয়ারি ২০২৭

আরও ২৫ শতাংশ অংশ যোগ করার হিসাব দেখানো হয়েছে।

৩,২২৭.৫০ টাকা অতিরিক্ত যোগ হওয়ার পর—

প্রাপ্য বেতন: ২৩,৪৭২.৫০ টাকা

১ জুলাই ২০২৭

অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অংশ যুক্ত হলে—

মোট: ২৬,৭০০ টাকা

এবং ইনক্রিমেন্টসহ উদাহরণে—

চূড়ান্ত মূল বেতন: ২৮,০০০ টাকা

তবে বাস্তব পে-ফিকেশনে কর্মচারীর নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে সিস্টেম যে ফলাফল দেবে, সেটিই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর জন্য প্রাসঙ্গিক হবে।


সপ্তম ধাপ: সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত দাখিল

প্রথম ছয় ধাপ শেষ হওয়ার পর আসে সারসংক্ষেপ।

এখানে আগের সব তথ্য এক জায়গায় দেখা যাবে। এটি মূলত সাবমিট করার আগে শেষবারের মতো যাচাই করার সুযোগ।

সাবমিট করার আগে অন্তত নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা উচিত—

  • এনআইডি
  • নাম
  • জন্মতারিখ
  • মোবাইল
  • হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
  • প্রথম যোগদানের তারিখ
  • প্রথম পদবি
  • প্রথম গ্রেড
  • বর্তমান অফিস
  • বর্তমান পদবি
  • বর্তমান গ্রেড
  • পূর্ববর্তী বেতনস্কেল
  • উচ্চতর গ্রেড/স্কেল
  • ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন
  • নতুন পে-ফিকেশনের ফলাফল

এরপর “দাখিল করুন” নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট ডিডিওর কাছে পে-ফিকেশন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


⚠️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: সাবমিটের পর এডিটের সুযোগ নেই

পে-ফিকেশন করার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে।

প্রদত্ত সিস্টেম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে আগের ধাপে ফিরে গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে। তথ্য দাখিল করার পর আর এডিট করা যাবে না—এমন সতর্কবার্তা স্ক্রিনে দেওয়া হয়েছে।

তাই শুধু নতুন বেতন কত দেখাচ্ছে সেটি দেখে দ্রুত সাবমিট না করে প্রতিটি ট্যাব পুনরায় যাচাই করা জরুরি।


পে-ফিকেশনের আগে যে ১০টি বিষয় যাচাই করবেন

১. এনআইডি নম্বর সঠিক কি না
২. বাংলা ও ইংরেজি নামের বানান ঠিক কি না
৩. জন্মতারিখ সঠিক কি না
৪. প্রথম যোগদানের তারিখ ঠিক আছে কি না
৫. প্রথম পদ ও গ্রেড সঠিক কি না
৬. বর্তমান অফিস, পদ ও গ্রেড ঠিক আছে কি না
৭. পূর্বে পাওয়া উচ্চতর গ্রেড/স্কেলের কোনো তথ্য বাদ পড়েছে কি না
৮. ২০০৯/২০১৫সহ পূর্ববর্তী স্কেলের তথ্য সঠিক কি না
৯. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন সঠিকভাবে এসেছে কি না
১০. নতুন বেতন নির্ধারণের ফলাফল প্রত্যাশিত বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না


সরকারি ওয়েবসাইটে পে-ফিকেশন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি

এটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ধারণা নয়—সরকারি ওয়েবসাইটেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

অর্থ বিভাগের জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ পেজ বর্তমানে সক্রিয় এবং ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ হয়েছে।

এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে iBAS++-এর Pay Fixation Sub System-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রেরণ সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করেছে।

এ থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রস্তুত ও সিস্টেমভিত্তিক পে-ফিকেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।


নতুন পে-ফিকেশনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব কোন তথ্যের?

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নতুন পে-ফিকেশনে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬-এর প্রকৃত বেতন

নতুন বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে পূর্ববর্তী বেতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরোনো বেতন ভুল থাকলে নতুন হিসাবও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, চাকরির সম্পূর্ণ ইতিহাস

প্রথম যোগদান থেকে বর্তমান পদ পর্যন্ত পদ, গ্রেড, উচ্চতর স্কেল ও পূর্ববর্তী ফিক্সেশনের তথ্যের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে যাচাই

কারণ একবার দাখিল করার পর তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত বা অনুপস্থিত হতে পারে। তাই ডিডিও বরাবর জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি ধাপ যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।


একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: পে-ফিকেশন আর বেতন বিল এক বিষয় নয়

অনেক কর্মচারীর মধ্যে একটি ভুল ধারণা থাকতে পারে—পে-ফিকেশন সম্পন্ন হলেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন ব্যাংক হিসাবে চলে আসবে।

বাস্তবে বিষয়গুলো আলাদা।

পে-ফিকেশন হলো নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া। এরপর সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ কার্যক্রম, অনুমোদন, বেতন বিল প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন নির্ধারিত বেতন বাস্তব বেতন পরিশোধে প্রতিফলিত হবে।

তাই iBAS++-এ বেতন নির্ধারণের ফলাফল দেখা এবং ব্যাংক হিসাবে নতুন বেতন জমা হওয়া—দুটি আলাদা পর্যায়ের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।


নতুন পে-ফিকেশন নিয়ে কর্মচারীদের জন্য মূল বার্তা

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক পে-ফিকেশন।

নতুন iBAS++ ব্যবস্থায় কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে চাকরির ইতিহাস এবং পূর্ববর্তী বেতন কাঠামো পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য একত্রিত করে নতুন বেতন নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে কর্মচারীদের শুধু নতুন বেতন কত হবে তা জানলেই হবে না; বরং কোন তথ্যের ভিত্তিতে সেই বেতন নির্ধারিত হচ্ছে, সেটিও বুঝতে হবে।

বিশেষ করে Running, Promotion ও Higher Grade-এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন, পুরোনো বেতন ও স্কেল যাচাই এবং সাবমিটের আগে চূড়ান্ত তথ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে

Pay Fixation-2026 → GoB Staff → Running → তথ্য যাচাই → পূর্ববর্তী স্কেল ও গ্রেড যাচাই → জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর হিসাব → সারসংক্ষেপ → চূড়ান্ত যাচাই → দাখিল।

এই ধারাবাহিকতাই বর্তমানে iBAS++-ভিত্তিক পে-ফিকেশন ব্যবস্থার মূল কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রদত্ত স্ক্রিনশটের ১২,৪৯০ টাকা থেকে ২০,২৪৫/২৮,০০০ টাকার উদাহরণটি একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব; এটিকে সব গ্রেডের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ বেতন হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ এবং iBAS++-এর সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত ফলাফল অনুসরণ করাই নির্ভরযোগ্য। সরকারি গেজেটটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের আর্কাইভে সেটি তালিকাভুক্ত আছে।

তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং iBAS++-এর সরকারি অনলাইন সিস্টেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *