Latest News

আয়কর রিটার্নে স্বর্ণ বিক্রির আয় দেখানোর নতুন নিয়ম: কীভাবে কর হিসাব করবেন?

আয়কর রিটার্নে স্বর্ণ বিক্রি থেকে অর্জিত আয় কীভাবে দেখাতে হবে এবং কীভাবে কর হিসাব করতে হবে—এ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়। বিশেষ করে উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনি আয় (Capital Gain) নির্ধারণের নিয়ম অনেকেই জানেন না।

সম্প্রতি প্রচারিত একটি নির্দেশনামূলক উদাহরণে দেখানো হয়েছে, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৬ অনুযায়ী স্বর্ণ, রৌপ্য, রত্ন, হীরা, ধাতব মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনি আয়ের ওপর ৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য। তবে ব্যবহারকারীর দেওয়া নোটে ১৫ শতাংশ করের উল্লেখ থাকলেও সংযুক্ত উদাহরণে ৫ শতাংশ কর দেখানো হয়েছে। তাই করদাতাদের সর্বশেষ আইন, অর্থ আইন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী হার নিশ্চিত করে রিটার্ন দাখিল করা উচিত।

স্বর্ণ বিক্রির আয় কীভাবে নির্ধারণ হবে?

স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো—

মূলধনি আয় = বিক্রয়মূল্য – ক্রয়মূল্য (বা অর্জনমূল্য)

যদি স্বর্ণ নিজে কিনে থাকেন এবং ক্রয়ের তথ্য, চালান বা মূল্য সংরক্ষিত থাকে, তাহলে বিক্রয়মূল্য থেকে সেই মূল্য বাদ দিয়ে মূলধনি আয় নির্ধারণ করা হবে।

উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্বর্ণের ক্ষেত্রে কী হবে?

যদি কোনো করদাতা উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে স্বর্ণ পান এবং পূর্ববর্তী আয়কর রিটার্নে সেই সম্পদের মূল্য শূন্য (০) অথবা মূল্য অজানা হিসেবে দেখানো থাকে, তাহলে বিক্রির সময়—

  • বিক্রয়মূল্যের সম্পূর্ণ অংশই মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য হতে পারে।
  • অর্থাৎ অর্জনমূল্য শূন্য ধরা হলে বিক্রয়মূল্য থেকেই করযোগ্য মূলধনি আয় নির্ধারণ হবে।

এ কারণে প্রথমবার সম্পদ ঘোষণার সময় যথাসম্ভব সঠিক বাজারমূল্য উল্লেখ করা ভবিষ্যতে কর হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

উদাহরণে কী দেখানো হয়েছে?

প্রদত্ত উদাহরণ অনুযায়ী—

  • একজন করদাতা উপহার হিসেবে ২ ভরি স্বর্ণ পেয়েছিলেন।
  • পূর্বের রিটার্নে স্বর্ণের মূল্য শূন্য দেখানো হয়েছিল।
  • পরে তিনি ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বর্ণটি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
  • যেহেতু অর্জনমূল্য শূন্য ধরা হয়েছে, তাই ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকাই মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য হয়েছে।
  • উদাহরণে দেখানো হার অনুযায়ী ৫ শতাংশ কর হিসাব করলে কর দাঁড়ায় ৬২ হাজার টাকা

অনলাইন আয়কর রিটার্নে কীভাবে তথ্য দেবেন?

স্বর্ণ বিক্রির তথ্য অনলাইন রিটার্নে সাধারণত নিম্নোক্ত অংশে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়—

১. Transfer of Personal Effects

এখানে উল্লেখ করতে হবে—

  • সম্পদের ধরন (Gold)
  • ক্রেতার নাম
  • TIN/NID (প্রযোজ্য হলে)
  • ইনভয়েস নম্বর
  • ক্রয় বা অর্জনের তারিখ
  • বিক্রয়ের তারিখ
  • বিক্রয়মূল্য (Sales Value)
  • অর্জনমূল্য (Cost of Acquisition)
  • মূলধনি আয় (Capital Gain)

২. Assets & Liabilities

এই অংশে উল্লেখ করতে হবে—

  • সম্পদের ধরন (Gold)
  • কীভাবে অর্জিত হয়েছে (Purchase/Gift/Inheritance)
  • অর্থবছর শেষে অবশিষ্ট পরিমাণ
  • একক (যেমন ভরি)
  • মূল্য

যদি বিক্রির পর আর স্বর্ণ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে পরবর্তী রিটার্নে সেই অনুযায়ী সম্পদের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।

করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

কর বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • স্বর্ণ কেনার চালান, ব্যাংক লেনদেন বা বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা উচিত।
  • উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রে প্রথম রিটার্নেই যথাসম্ভব বাস্তবসম্মত মূল্য উল্লেখ করা ভালো।
  • বিক্রির সময় বাজারমূল্য, বিক্রয় রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে কর নির্ধারণে জটিলতা কমে।
  • অনলাইন রিটার্ন দাখিলের আগে বর্তমান অর্থ আইন ও এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী করহার এবং রিটার্ন পূরণের নিয়ম যাচাই করা উচিত।

উপসংহার

স্বর্ণ বিক্রি থেকে আয় হলে তা আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত স্বর্ণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রিটার্নে সম্পদের মূল্য কীভাবে দেখানো হয়েছে, তার ওপর মূলধনি আয়ের পরিমাণ নির্ভর করতে পারে। তাই অনলাইন রিটার্নের Transfer of Personal Effects এবং Assets & Liabilities অংশে তথ্য যথাযথভাবে প্রদান করলে কর-সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *