11 Grade Pay Fixation: গ্রেড-১১ কর্মচারীর বেতন ৩০,২৩০ থেকে ইনক্রিমেন্টসহ ৪৭,২০০ টাকা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কে কত টাকা মূল বেতন পাবেন, তা নির্ধারণে এখন পুরোনো বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, চাকরির ইতিহাস ও পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের তথ্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system-এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই একটি খসড়া বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে গ্রেড-১১-এর একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত হিসাব সামনে এসেছে। ওই হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫-এর সর্বোচ্চ ধাপে থাকা একজন কর্মচারীর ৩০ হাজার ২৩০ টাকা মূল বেতন নতুন স্কেলে নির্ধারণের পর ৪২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্য অঙ্ক ভিন্ন হবে। পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং ইনক্রিমেন্টসহ তা ৪৭ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর হিসাবও নথিতে রয়েছে।
তবে শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট নথিতে ‘খসড়া’ উল্লেখ রয়েছে। তাই এটিকে চূড়ান্ত সরকারি বেতন নির্ধারণী আদেশ হিসেবে নয়, বরং নতুন পে-স্কেলে একজন গ্রেড-১১ কর্মচারীর বেতন কীভাবে নির্ধারণ হতে পারে—তার একটি বাস্তবধর্মী নমুনা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
গ্রেড-১১-এর নতুন বেতনস্কেল কত?
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ গ্রেড-১১-এর বেতনক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এই গ্রেডে নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা।
নতুন স্কেলে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরাসরি পুরোনো মূল বেতনকে নতুন স্কেলের কোনো ধাপে বসিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত নিয়মে হিসাব করা হয়। প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে বর্তমান বেতনের অতিরিক্ত অংশ বের করা হয়। এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করে সংশ্লিষ্ট স্কেলের পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হয়।
পুরোনো স্কেলে কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ৩০,২৩০ টাকা
আলোচিত খসড়া বিবরণী অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ১৯৯৭ সালে রেডিও টেকনিশিয়ান পদে চাকরিতে যোগ দেন। যোগদানের সময় তিনি ১৪তম গ্রেডে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত রয়েছেন।
জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-১১-এর বেতনক্রম ছিল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। ফলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ওই কর্মচারীর মূল বেতন ছিল স্কেলটির সর্বোচ্চ ধাপ—৩০ হাজার ২৩০ টাকা।
এখান থেকেই নতুন পে-ফিক্সেশনের হিসাব শুরু হয়েছে।
৪২ হাজার ৮০০ টাকা কীভাবে নির্ধারিত হলো?
নতুন গ্রেড-১১-এর প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে পুরোনো স্কেলে কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
তাই পুরোনো স্কেলে প্রারম্ভিক ধাপের ওপরে তাঁর বেতনের পার্থক্য—
৩০,২৩০ − ১২,৫০০ = ১৭,৭৩০ টাকা।
এবার নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ করলে পাওয়া যায়—
২৫,০০০ + ১৭,৭৩০ = ৪২,৭৩০ টাকা।
কিন্তু নতুন স্কেলে ৪২ হাজার ৭৩০ টাকা নামে নির্দিষ্ট ধাপ না থাকায় প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এর পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হয়। ফলে খসড়া বিবরণীতে ৪২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন নির্ধারণের হিসাব দেখা যাচ্ছে।
অর্থাৎ—
পুরোনো মূল বেতন: ৩০,২৩০ টাকা
নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন: ৪২,৮০০ টাকা
বৃদ্ধির পরিমাণ: ১২,৫৭০ টাকা
এটি পে-ফিক্সেশনের মূল হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১২ হাজার ৫৭০ টাকা বাড়ল কীভাবে?
নতুন স্কেলে নির্ধারিত ৪২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে পুরোনো মূল বেতন ৩০ হাজার ২৩০ টাকা বাদ দিলে—
৪২,৮০০ − ৩০,২৩০ = ১২,৫৭০ টাকা।
অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ নতুন নির্ধারিত মূল বেতন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির পার্থক্য ১২ হাজার ৫৭০ টাকা।
তবে এই পুরো ১২ হাজার ৫৭০ টাকা প্রথম দিন থেকেই হাতে পাওয়ার মতো করে কার্যকর হচ্ছে না। নতুন বেতনস্কেলের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হচ্ছে।
৫০ শতাংশ, ৭৫ শতাংশ ও ১০০ শতাংশ—তিন ধাপে সুবিধা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর বাস্তবায়ন কাঠামো অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১০০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। একই সময়ে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের জন্য ধাপের হার আলাদা।
অর্থাৎ গ্রেড-১১-এর ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নতুন বেতন নির্ধারণ হয়ে গেলেও সেটির আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে।
প্রথম ধাপ: ১ জুলাই ২০২৬
মোট বেতন বৃদ্ধির পার্থক্য—
১২,৫৭০ টাকা।
এর ৫০ শতাংশ—
১২,৫৭০ × ৫০% = ৬,২৮৫ টাকা।
পুরোনো বেতনের সঙ্গে এটি যোগ করলে—
৩০,২৩০ + ৬,২৮৫ = ৩৬,৫১৫ টাকা।
খসড়া বিবরণীতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাব যুক্ত করে প্রথম ধাপে ৩৮ হাজার ৬১৫ টাকা প্রাপ্য অঙ্ক দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ ৩০ জুনের ৩০ হাজার ২৩০ টাকার তুলনায় প্রথম পর্যায়ে ইনক্রিমেন্টসহ অঙ্কটি ৮ হাজার ৩৮৫ টাকা বেশি।
দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি ২০২৭
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোট বর্ধিত অংশের ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ প্রথম ধাপের ৫০ শতাংশের পর আরও ২৫ শতাংশ বর্ধিত অংশ কার্যকর হবে।
১২ হাজার ৫৭০ টাকার ২৫ শতাংশ—
৩,১৪২.৫০ টাকা।
খসড়া বিবরণীতে ধাপে ধাপে হিসাব করে এই পর্যায়ে ৪১ হাজার ৭৫৭.৫০ টাকা অঙ্কটি দেখানো হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—পে-ফিক্সেশন বিবরণীতে মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও ধাপে কার্যকর সুবিধা পৃথকভাবে গণনা হতে পারে। ফলে শুধু শতাংশের সাধারণ সূত্র দিয়ে প্রতিটি ঘরের অঙ্ক পুনরুৎপাদন করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।
তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ সুবিধা কার্যকর হবে।
আলোচিত খসড়া বিবরণী অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন হবে—
৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।
এর সঙ্গে প্রযোজ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হলে মূল বেতন দাঁড়াবে—
৪৭ হাজার ২০০ টাকা।
অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ জুলাই ইনক্রিমেন্টসহ যে অঙ্কটি পাওয়া যাচ্ছে, তা পুরোনো ৩০ হাজার ২৩০ টাকার তুলনায়—
৪৭,২০০ − ৩০,২৩০ = ১৬,৯৭০ টাকা বেশি।
শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৫৬.১ শতাংশ।
এক নজরে পুরো বেতন বৃদ্ধির হিসাব
| সময় | বেতন/প্রাপ্য অঙ্ক | পুরোনো বেতনের তুলনায় বৃদ্ধি |
|---|---|---|
| ৩০ জুন ২০২৬ | ৩০,২৩০ টাকা | — |
| ১ জুলাই ২০২৬ | ৩৮,৬১৫ টাকা* | ৮,৩৮৫ টাকা |
| ১ জানুয়ারি ২০২৭ | ৪১,৭৫৭.৫০ টাকা* | ১১,৫২৭.৫০ টাকা |
| ১ জুলাই ২০২৭ | ৪৪,৯০০ টাকা | ১৪,৬৭০ টাকা |
| ১ জুলাই ২০২৭, ইনক্রিমেন্টসহ | ৪৭,২০০ টাকা | ১৬,৯৭০ টাকা |
* সংশ্লিষ্ট খসড়া বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী।
‘৪২,৮০০’ ও ‘৪৭,২০০’—দুটির পার্থক্য কোথায়?
অনেক কর্মচারীর কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—নতুন স্কেলে যদি মূল বেতন ৪২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে আবার ৪৪ হাজার ৯০০ বা ৪৭ হাজার ২০০ টাকা কোথা থেকে আসে?
এর উত্তর হলো, পে-ফিক্সেশনে নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন এবং ধাপে কার্যকর প্রাপ্য বেতন একই বিষয় নয়।
৪২ হাজার ৮০০ টাকা হলো পে-ফিক্সেশনের হিসাব অনুযায়ী নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন। এরপর ধাপে বাস্তবায়ন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পরবর্তী অঙ্কগুলো আসে।
তাই নতুন স্কেলের হিসাব করতে হলে তিনটি বিষয় আলাদা রাখতে হবে—
১. পুরোনো স্কেলে ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন;
২. নতুন স্কেলে পে-ফিক্সেশনের পর নির্ধারিত মূল বেতন;
৩. ধাপে বাস্তবায়নের পর কার্যকর বেতন ও ইনক্রিমেন্ট।
৩০ হাজার ২৩০ টাকা থেকে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা—বৃদ্ধি প্রায় ৫৬ শতাংশ
আলোচিত উদাহরণটির সবচেয়ে বড় দিক হলো, ২০২৬ সালের জুনে যেখানে কর্মচারীর মূল বেতন ছিল ৩০ হাজার ২৩০ টাকা, সেখানে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে ইনক্রিমেন্টসহ সেটি ৪৭ হাজার ২০০ টাকা হওয়ার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থাৎ—
বৃদ্ধি = ১৬,৯৭০ টাকা
এবং—
বৃদ্ধির হার ≈ ৫৬.১ শতাংশ।
তবে এই ৫৬.১ শতাংশকে সরাসরি ‘নতুন পে-স্কেলে সবার বেতন ৫৬ শতাংশ বাড়বে’—এভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট কর্মচারীর নির্দিষ্ট পুরোনো বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পে-ফিক্সেশন তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া ফল।
একই গ্রেডের সবার বেতন কি ৪৭ হাজার ২০০ টাকা হবে?
না।
গ্রেড-১১-এর নতুন বেতনক্রম ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা হলেও একই গ্রেডের প্রত্যেক কর্মচারীর মূল বেতন একই হবে না। কারও পুরোনো মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের তারিখ, পূর্ববর্তী উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি, টাইম স্কেল বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য ভিন্ন হলে পে-ফিক্সেশনের ফলও ভিন্ন হতে পারে।
নতুন স্কেলে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন ও স্কেলের ধাপ বিবেচনা করা হয়।
সুতরাং ৪৭ হাজার ২০০ টাকা হলো আলোচিত নির্দিষ্ট খসড়া হিসাবের ফল, গ্রেড-১১-এর সবার জন্য নির্ধারিত একক বেতন নয়।
এখন iBAS++ পে-ফিক্সেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় এখন iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system। অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থা BSS জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের NID, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে এবং আগের পে-ফিক্সেশন রেকর্ডও যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ইতোমধ্যে iBAS++-এর Organogram sub-module-এ জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও ৪ অক্টোবর এ বিষয়ে নোটিশ প্রকাশ করেছে।
অর্থাৎ এখন কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পুরোনো বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও চাকরির তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা
নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রাপ্যতা তৈরি হয়েছে। পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আগের মাসগুলোর বেতন পার্থক্য বা বকেয়া হিসাব করা হবে।
BSS-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মচারীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার কথা রয়েছে; তবে প্রকৃত বকেয়ার পরিমাণ প্রত্যেকের গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর তারিখের ওপর নির্ভর করবে।
এ কারণে কারও বকেয়া কত হবে, তা শুধু গ্রেড দেখে বলা যাবে না। ব্যক্তিগত পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই সঠিক অঙ্ক জানা যাবে।
খসড়া নথির কারণে সতর্কতা
আলোচিত বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভেরিফিকেশন নম্বরের ঘরে ‘খসড়া’ উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সার্ভিস বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর এবং অনুমোদনকারী কর্মকর্তার তথ্যও সম্পূর্ণ নয়।
তাই নথিটিকে চূড়ান্ত অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। বরং এটিকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী গ্রেড-১১-এর একজন কর্মচারীর পে-ফিক্সেশনের সম্ভাব্য/খসড়া হিসাবের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করাই বেশি সঠিক।
চূড়ান্ত iBAS++ পে-ফিক্সেশন এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পরই কোনো কর্মচারীর প্রকৃত বেতন নির্ধারণ নিশ্চিত হবে।
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের বর্তমান পর্যায়ে গ্রেড-১১-এর এই খসড়া হিসাবটি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ। এখানে দেখা যাচ্ছে, ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পুরোনো মূল বেতন থেকে পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে নতুন স্কেলে ৪২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণের হিসাব এসেছে। এরপর ধাপে ধাপে সুবিধা কার্যকর হয়ে ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন এবং ইনক্রিমেন্টসহ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর হিসাব দেখানো হয়েছে।
তবে এই উদাহরণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হিসাব শুধু ‘পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন বাদ’ দেওয়ার বিষয় নয়। পুরোনো স্কেলের ধাপ, নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন, পে-ফিক্সেশন, ধাপে বাস্তবায়ন, ইনক্রিমেন্ট এবং ব্যক্তিগত চাকরির ইতিহাস—সবকিছু মিলিয়েই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ হবে।
আর যেহেতু এখন iBAS++-এ পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, তাই প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর জন্য নিজের NID, জন্মতারিখ, যোগদানের তারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন এবং পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের তথ্য সঠিক আছে কি না যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—৪৭ হাজার ২০০ টাকা এই নির্দিষ্ট খসড়া হিসাবের ফল; গ্রেড-১১-এর প্রত্যেক কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন একই হবে না। চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হবে ব্যক্তিগত iBAS++ পে-ফিক্সেশন ও কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের মাধ্যমে।

