শিক্ষা ও উপবৃত্তি ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান বরাদ্দ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেট থেকে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিশেষ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এ আদেশে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান” খাতে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুদানের অর্থ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

যেভাবে বিতরণ হবে অনুদান

সরকারি আদেশ অনুযায়ী মোট বরাদ্দের অর্থ নিম্নোক্ত খাতে ব্যয় করা হবে—

  • ৪২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিটিকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭ লাখ টাকা
  • ৮৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা
  • ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২,৫৮৫ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা
  • ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ৩,১৬৭ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৫৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা
  • এইচএসসি (বিএম) আলিম ও ডিপ্লোমা পর্যায়ের ১,১২৮ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা
  • কারিগরি, ফাজিলসহ উচ্চতর শ্রেণির ৫৩৭ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা

সব মিলিয়ে এসব খাতে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হবে।

অর্থ বিতরণে যেসব শর্ত মানতে হবে

আদেশে অনুদান বিতরণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ‘নগদ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অথবা অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ বিতরণ করতে হবে।
  • একজন শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীর নামে একাধিকবার অনুদান পাঠানো যাবে না
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে প্রদান করতে হবে।
  • অব্যবহৃত অর্থ ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তার প্রতিবেদন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে।
  • আদেশ জারির ৭ দিনের মধ্যে অর্থ বিতরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাৎপর্য

বিশেষ এই অনুদান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জরুরি ব্যয় নির্বাহ, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষক-কর্মচারীদের সহায়তা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্ধারিত শ্রেণি ও ক্যাটাগরির হাজারো শিক্ষক, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা চলমান শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *