পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে তথ্য ২০২৬

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে অনলাইনে আবেদন, জানুন ৯ ধাপে পুরো প্রক্রিয়া

দেশের গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বর্তমানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন সংযোগ নিতে সরাসরি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়।

নতুন সংযোগ নিতে আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আবেদন করার আগে সংযোগস্থল, প্রয়োজনীয় তথ্য, ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিং-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা। কারণ আবেদন সম্পূর্ণভাবে সাবমিট না করা এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয় না।

অনলাইনে আবেদন করতে হবে

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীকে নিজের সংযোগস্থলের জন্য প্রযোজ্য সংশ্লিষ্ট অফিস বা সমিতি নির্বাচন করে অনলাইন ফরমের প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

তবে আবেদন করার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত খেয়াল রাখা জরুরি। সংযোগস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস পোলের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৩০ ফুটের মধ্যে থাকতে হবে। তাই আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সংযোগস্থল ও সার্ভিস পোলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আবেদন করার ৯টি ধাপ

১. অনলাইনে আবেদন

প্রথম ধাপে নির্ধারিত নতুন সংযোগের অনলাইন আবেদন সিস্টেমে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও সংযোগ-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট অফিস নির্বাচন ও তথ্য সংরক্ষণ

আবেদনকারীকে সংযোগস্থলের জন্য যথাযথ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি/অফিস নির্বাচন করতে হবে। এরপর অনলাইন সিস্টেমে চাওয়া তথ্যগুলো পূরণ করে আবেদন সংরক্ষণ করতে হবে।

এ পর্যায়ে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, সংযোগস্থল থেকে সার্ভিস পোলের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৩০ ফুট হওয়া প্রয়োজন।

৩. ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ

আবেদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য আবেদনকারীর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে এসব তথ্য পাঠানো হতে পারে।

এখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরকে ইউজার আইডি হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই আবেদনকারীকে নিজের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সঠিকভাবে প্রদান এবং পরবর্তীতে পাওয়া তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে।

৪. ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিংয়ের তথ্য আপডেট

আবেদন ব্যবস্থাপনায় লগইন করার পর আবেদনটি সম্পূর্ণ করতে ওয়্যারিংয়ের তথ্য এবং গ্রাউন্ডিং রডের মেমোর তথ্য দিতে হবে।

এই তথ্যগুলো যুক্ত করার পর আবেদনটি পুনরায় যাচাই করে সম্পূর্ণভাবে সাবমিট করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী যাচাই বা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

৫. আবেদন ফি পরিশোধ

আবেদন সম্পূর্ণ করার পর নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টার অথবা রকেটের মাধ্যমে আবেদন ফি পরিশোধ করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হবে না। তাই অনলাইনে ফরম পূরণ করেই আবেদন সম্পন্ন হয়েছে—এমনটি মনে করলে ভুল হবে।

৬. অনুমোদনের পর ডিমান্ড নোট

আবেদন ও প্রাথমিক যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট সমিতি আবেদনটি অনুমোদন করলে আবেদনকারীর জন্য একটি ডিমান্ড নোট তৈরি করা হবে।

ডিমান্ড নোটটি আবেদনকারীর ই-মেইল এবং অনলাইন ড্যাশবোর্ডে পাঠানো হবে। এতে নতুন সংযোগের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তার নির্দেশনা থাকবে।

৭. ডিমান্ড নোটের টাকা জমা

ডিমান্ড নোট পাওয়ার পর সেখানে উল্লেখিত সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমিতির ক্যাশ কাউন্টার অথবা রকেটের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

এ পর্যায়ে টাকা জমা দেওয়ার আগে ডিমান্ড নোটের তথ্য ও পরিমাণ ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৮. সিএমও ইস্যু

সঠিক আবেদন এবং ডিমান্ড নোট অনুযায়ী নির্ধারিত টাকা জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সিএমও ইস্যু করা হবে।

এটি নতুন সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাই আবেদনকারীকে আবেদন ড্যাশবোর্ডে নিয়মিতভাবে স্ট্যাটাস যাচাই করতে হবে এবং এসএমএস বা ই-মেইলে পাওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৯. মিটার স্থাপন ও গ্রাহক হিসাব নম্বর

সবশেষে সংযোগস্থলে মিটার স্থাপন করা হবে। মিটার সংযোগ দেওয়ার পর গ্রাহকের জন্য একটি গ্রাহক হিসাব নম্বর তৈরি করা হবে।

এই হিসাব নম্বরটি গ্রাহকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন গ্রাহকসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই হিসাব নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আবেদনকারীদের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।

প্রথমত, আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্য অবশ্যই সঠিক হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং সংযোগস্থল-সংক্রান্ত তথ্যে ভুল থাকলে পরবর্তী ধাপে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আবেদন করার আগে সার্ভিস পোলের দূরত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, সংযোগস্থল থেকে সার্ভিস পোলের দূরত্ব ১৩০ ফুটের বেশি হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, অনলাইনে আবেদন করার পর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। কারণ পরবর্তী সময়ে আবেদন ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করে ওয়্যারিং, গ্রাউন্ডিং, ফি, ডিমান্ড নোট ও আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য দেখতে হতে পারে।

চতুর্থত, শুধু অনলাইন ফরম পূরণ করলেই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এক নজরে পুরো প্রক্রিয়া

অনলাইনে আবেদন → অফিস নির্বাচন → তথ্য সংরক্ষণ → ইউজার আইডি/পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ → ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিং তথ্য প্রদান → আবেদন সাবমিট → আবেদন ফি জমা → সমিতির অনুমোদন → ডিমান্ড নোট → ডিমান্ড নোটের টাকা জমা → সিএমও ইস্যু → মিটার সংযোগ → গ্রাহক হিসাব নম্বর।

অনলাইনে আবেদনই প্রথম পদক্ষেপ

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে ইচ্ছুক গ্রাহকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার সুযোগ থাকায় আবেদনকারীদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত। বিশেষ করে সার্ভিস পোলের দূরত্ব, সঠিক অফিস নির্বাচন, ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিংয়ের তথ্য এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়মাবলি ও নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ সংযোগের ধরন, স্থানীয় সমিতির প্রক্রিয়া বা ফি-সংক্রান্ত তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

নতুন সংযোগের অনলাইন আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদনকারী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *