দরিদ্র ও অসচ্ছল মায়েদের ভরসা ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’: ৩৬ মাসে মিলবে ৩০,৬০০ টাকা
দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের গর্ভবতী মা ও নবজাতকের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুর প্রাথমিক বিকাশ নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’। কেবল সরাসরি আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং গর্ভকালীন পরিচর্যা ও শিশুর সার্বিক লালন-পালনে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
ভাতার পরিমাণ ও সময়সীমা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা করা হয়েছে। নির্বাচিত একজন উপকারভোগী সর্বোচ্চ ৩৬ মাস (৩ বছর) পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ মেয়াদে একজন মা মোট ৩০,৬০০ টাকা ভাতা হিসেবে পাবেন। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মায়েরা এই সুবিধা পাচ্ছেন।
কারা পাবেন এই সহায়তা? এই কর্মসূচির আওতায় ভাতা পেতে হলে আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে:
-
বয়সসীমা: আবেদনকারী মায়ের বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
-
পরিচয়পত্র: অবশ্যই বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
-
সন্তানের সংখ্যা: সুবিধাটি শুধুমাত্র প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তৃতীয় সন্তানের জন্য আবেদনের সুযোগ নেই।
-
পেমেন্ট পদ্ধতি: ভাতা গ্রহণের জন্য আবেদনকারীর নিজস্ব নামে ব্যাংক হিসাব অথবা NID-সংযুক্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
-
আর্থিক অবস্থা: পারিবারিক মাসিক আয় সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গর্ভবতী হলেই এই ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্থানীয় সরকারি বরাদ্দ এবং মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্তভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
আবেদন করার পদ্ধতি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের MIS পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনকারী নিজে অথবা ইউনিয়ন বা উপজেলা তথ্য কেন্দ্রের (উদ্যোক্তা) মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভোটার এলাকা (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) নির্বাচন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।
আবেদনের ৬টি সহজ ধাপ: ১. পোর্টালে প্রবেশ: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে যান। ২. নতুন আবেদন: মূল পাতার ‘নতুন আবেদন (New Application)’ অপশনে ক্লিক করুন। ৩. ব্যক্তিগত তথ্য: NID নম্বর, জন্মতারিখ, সচল মোবাইল নম্বর এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিন। ৪. অতিরিক্ত তথ্য: গর্ভাবস্থার স্থিতি, পূর্ববর্তী সন্তান সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিবরণ পূরণ করুন। ৫. ছবি ও স্বাক্ষর: নির্ধারিত সাইজ অনুযায়ী আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। ৬. আবেদন জমা: প্রদানকৃত তথ্য পুনর্বার যাচাই করে অনলাইনে জমা (Submit) দিন।
আবেদনের সময়সীমা সাধারণত প্রতি মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে এই কর্মসূচির অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চলতি মাসের হালনাগাদ সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

