iBAS++-এ ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ কীভাবে হবে—নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে iBAS++-এর অনলাইন বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের Pay Fixation-এর জন্য আলাদা অপশন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’।
প্রদত্ত ভিডিওটির শিরোনাম ‘চলমান বেতন নির্ধারণ (এসডিও)’। ভিডিওটির সরাসরি পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট ওয়েব থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; তাই ভিডিওর দৃশ্যমান বিষয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি iBAS++ নির্দেশনা এবং সাম্প্রতিক পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে নিচের প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ভিডিওতে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য উদ্ধৃত না করে সরকারি সিস্টেমের যাচাইযোগ্য তথ্যকে ভিত্তি করা হয়েছে।
‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ বলতে কী বোঝায়
iBAS++-এর সরকারি বেতন নির্ধারণ প্ল্যাটফর্মে চলমান বেতন নির্ধারণ, নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড ও ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের বেতন নির্ধারণের জন্য পৃথক অপশন রয়েছে।
সরকারি iBAS++ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০১৫ তারিখের বেতন নির্ধারণের জন্য ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ এটি সাধারণভাবে নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির বেতন নির্ধারণের বিকল্প নয়; সংশ্লিষ্ট বেতন নির্ধারণের ধরন অনুযায়ী সঠিক অপশন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন সঠিক অপশন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
iBAS++ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, প্রয়োজন ছাড়া কোনো অপশনে তথ্য এন্ট্রি করলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় অপশনে বেতন নির্ধারণ করতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন ধরনের বেতন নির্ধারণ প্রযোজ্য—তা বুঝে সংশ্লিষ্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে।
বিশেষ করে চাকরিজীবনে যদি নতুন নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড বা বেতন পুনঃনির্ধারণ হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে iBAS++-এর ভূমিকা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের iBAS++-এর নির্ধারিত Pay Fixation ব্যবস্থায় তথ্য দিতে হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট Drawing and Disbursing Officer (DDO) ও হিসাবরক্ষণ অফিস তথ্য যাচাই করবে।
অর্থাৎ শুধু কর্মচারীর তথ্য এন্ট্রি করলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না। তথ্য জমা দেওয়ার পর প্রশাসনিক যাচাই ও হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রতিপাদনের ধাপও রয়েছে।
কী কী তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা দরকার
iBAS++-এর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন বেতন নির্ধারণের আগে কয়েকটি বিষয় প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র;
- মোবাইল ফোন নম্বর;
- বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত অফিস আদেশ;
- নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের আদেশ;
- বেতন পুনঃনির্ধারণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র;
- সংশ্লিষ্ট আদেশের সফট কপি;
- প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের Verification Number;
- প্রিন্ট করার ব্যবস্থা।
ফলে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো নিজের চাকরির ইতিহাস ও বেতন নির্ধারণের ধারাবাহিক তথ্য সঠিকভাবে হাতে রাখা।
iBAS++ লগইনে কী লাগতে পারে
বর্তমান iBAS++ অনলাইন বেতন নির্ধারণের লগইন ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ এবং মোবাইল নম্বরের তথ্য চাওয়া হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে নিবন্ধিত মোবাইল বা ই-মেইলে পাঠানো ভেরিফিকেশন কোড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তাই বেতন নির্ধারণ শুরু হওয়ার আগে কর্মচারীর NID, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বরের তথ্য সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
DDO ও হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্ব
অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী বিবরণী DDO পর্যায়ে যাচাই ও ফরওয়ার্ড করার ব্যবস্থা রয়েছে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বই অনুযায়ী পূর্ববর্তী চাকরি ও বেতনের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়।
হিসাবরক্ষণ অফিস তথ্য যাচাই ও প্রতিপাদন করার পর বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। iBAS++-এর সরকারি নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণের পর Verification Number সংরক্ষণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে পুরোনো তথ্যের গুরুত্ব
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন ও চাকরির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। নতুন পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নতুন স্কেলের অনুরূপ স্কেলে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ কারণে একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান মূল বেতন জানলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। তার পূর্ববর্তী নিয়োগ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, বেতন পুনঃনির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে
Pay Fixation যেহেতু ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, তাই তথ্য এন্ট্রির সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। iBAS++ কর্তৃপক্ষও তাড়াহুড়া না করে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষ করে—
NID নম্বর → জন্মতারিখ → বর্তমান পদ → পূর্ববর্তী বেতন → ইনক্রিমেন্ট → পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেড → অফিস আদেশ → Verification Number
এসব তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে যাচাই পর্যায়ে বিষয়টি আটকে যেতে পারে বা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
সার্বিকভাবে যা জানা যাচ্ছে
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপগুলোর একটি হচ্ছে অনলাইনে সঠিক বেতন নির্ধারণ। iBAS++-এর বর্তমান কাঠামোতে বিভিন্ন ধরনের বেতন নির্ধারণের জন্য আলাদা অপশন থাকায় কর্মচারীদের প্রথমেই বুঝতে হবে তাঁদের ক্ষেত্রে কোন ধরনের Pay Fixation প্রযোজ্য।
একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য iBAS++ Pay Fixation Sub-system প্রস্তুতের কাজও এগিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে জনবলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে।
সুতরাং, ‘চলমান বেতন নির্ধারণ’, ‘উচ্চতর গ্রেড’, ‘পদোন্নতি’ কিংবা অন্যান্য Pay Fixation অপশনকে একই বিষয় মনে না করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রকৃত চাকরির অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক অপশন নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: iBAS++ অনলাইন বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বেতন নির্ধারণ নির্দেশনা।

