কেন আনলিমিটেড এবং মাসিক ইন্টারনেট চালু হলো? – মােবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় দাবী মেয়াদবিহীন ডাটা প্যাকেজ ও নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে। ১৫/০৩/২০১২ তারিখে ডাক ও টেলিযােগাযােগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মহােদয় ডাটা প্যাকেজের নতুন নির্দেশিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের স্বার্থে সীমাহীন মেয়াদের প্যাকেজ প্রদানের জন্য মােবাইল অপারেটরসমূহকে অনুরােধ করেন।

গ্রাহকদের দাবী কি ছিল?- আনলিমিটেড (মেয়াদবিহীন) ডাটা প্যাকেজের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবী।বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসারের সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষ তার দৈনন্দিন কাজে ইন্টারনেট এর উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মানুষ অন্যান্য খাত থেকে খরচ কমিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এর জন্য তার ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশে গত ০৬ (ছয়) বছরে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ১২১৮% বিশেষ করে কোভিড পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। • কোভিড মহামারী শুরুর পূর্বে (Q4 2019) গ্রাহক প্রতি মােবাইল ইন্টারনেটের গড় ডাটা ব্যবহারের পরিমান ছিল ২ জিবি যা কোভিড চলাকালীন (Q4 2021) সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৩ জিবি দাঁড়ায় (বৃদ্ধির পরিমান ১১৫%)

আনলিমিটেড প্যাকেজ না থাকায় গ্রাহকের অসুবিধা-আনলিমিটেড (মেয়াদবিহীন) এবং নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ডাটা প্যাকেজ না থাকার জন্য গ্রাহকদের অসুবিধা মােবাইল অপারেটরদের প্রচলিত বিভিন্ন ডাটা প্যাকেজ মেয়াদের সীমাবদ্ধতা, ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড করার জটিলতা গ্রাহকদের অধিক মাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহার করার প্রতিবন্ধতা তৈরি করে। গ্রাহক এর অব্যবহৃত ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড এর ক্ষেত্রে নতুন প্যাকেজ কেনার বাধ্যবাধকতা। আনলিমিটেড প্যাকেজ না থাকায় বারংবার প্যাকেজ কেনার কারণে গ্রাহকদের ইন্টারনেট এর খরচ বৃদ্ধি গ্রাহকের ডাটার মেয়াদ শেষ হওয়া ও ডাটা ক্যারি ফরওয়ার্ড নিয়ে সৃষ্ট মানসিক চাপ। আনলিমিটেড মেয়াদ না থাকায় বারংবার মেয়াদ পরিবর্তনের কারণে গ্রাহক কর্তৃক স্বাচ্ছন্দে ডাটা ব্যবহার করতে না পারা। অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্র জনগণের পক্ষে স্বল্প মেয়াদের প্যাকেজ বারংবার ক্রয় করার অসামর্থতা। আইএসপি কর্তৃক প্রদত্ত ইন্টারনেট এর মত মােবাইল ইন্টারনেট এর নিরবচ্ছিন্ন মাসিক প্যাকেজ না থাকার কারণে সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে মাসের শেষে ডাটা ক্রয় করার অসামর্থ্যতা।

নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজগুলো কি কি? / গ্রামীনফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক কি ধরণের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে?

রবি ও বাংলালিংক কি আরও প্যাকেজ ঘোষণা করবে? অবশ্যই আরও প্যাকেজ ঘোষণা করবে।

Unlimited internet package

Caption: Unlimited Internet and Monthly Internet package

নতুন আনলিমিটেড ও মাসিক আর কি কি প্যাকেজ চালু হতে পারে?নতুন প্যকেজ যেগুলো চালু হবে

নতুন প্যাকেজ দুটি’র বৈশিষ্ট বা ধরণ কেমন?

নতুন প্যাকেজের বৈশিষ্ট কি কি?

২০২৬ সালে বাংলাদেশের টেলিকম বাজারে বিটিআরসি (BTRC)-এর নতুন নির্দেশনার ফলে ডাটা প্যাকেজে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটকের মতো অপারেটররা আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং দীর্ঘমেয়াদী প্যাকেজ অফার করছে।

আপনার চাহিদা অনুযায়ী মেয়াদবিহীন (Unlimited Validity) এবং নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজগুলোর বর্তমান অবস্থা নিচে তুলে ধরা হলো:


১. মেয়াদবিহীন ডাটা প্যাকেজ (Unlimited Validity)

বিটিআরসি-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই প্যাকেজগুলোর কোনো নির্দিষ্ট এক্সপায়ারি ডেট থাকে না। আপনি যতক্ষণ ডাটা শেষ না করছেন, ততক্ষণ এটি ব্যবহার করা যায়।

অপারেটর ভলিউম (Volume) মূল্য (ভ্যাটসহ আনুমানিক) অ্যাক্টিভেশন কোড
টেলিটক ২৫ জিবি (Gen-Z) ২৭৫ – ২৮৫ টাকা *111*309#
টেলিটক ৫০ জিবি ৫৬৩ টাকা *111*599#
টেলিটক ৭৫ জিবি ৭৫১ টাকা *111*799#
গ্রামীণফোন ২৫ জিবি ১০৪৯ টাকা *121*3017#
গ্রামীণফোন ৫০ জিবি ১৬৪৯ টাকা *121*3018#

দ্রষ্টব্য: টেলিটকের Gen-Z প্যাকেজটি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী। গ্রামীণফোনের প্যাকেজগুলোর দাম কিছুটা বেশি হলেও তাদের কভারেজ ও গতি স্থিতিশীল।


২. নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট (Uninterrupted/Monthly)

যারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাটা ব্যবহার করেন বা অফিসের কাজের জন্য মাসিক প্যাকেজ খোঁজেন, তাদের জন্য এগুলো সেরা অপশন।

  • গ্রামীণফোন (Uninterrupted Monthly):

    • ৩০ জিবি (১ জিবি/দিন): ৫৪৯ টাকা (৩০ দিন মেয়াদ)। কোড: *121*3228#

    • ৬০ জিবি (২ জিবি/দিন): ৬৪৯ টাকা (৩০ দিন মেয়াদ)। কোড: *121*0649#

    • আনলিমিটেড (১০-১৫ Mbps স্পিড): ৮৯৯ টাকা থেকে শুরু। কোড: *121*3999#

  • টেলিটক (Monthly Combo):

    • ৩০ জিবি (১ জিবি/দিন): ২৮৪ টাকা। কোড: *111*299#

  • এয়ারটেল/রবি:

    • ৭০ জিবি: ৫৯৮ টাকা (৩০ দিন মেয়াদ)।

    • ১০০ জিবি: ৬৯৮ টাকা (৩০ দিন মেয়াদ)।


৩. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও টিপস

  • বিটিআরসি-এর নতুন নিয়ম: বর্তমানে অপারেটররা যেকোনো মেয়াদের (ঘণ্টা, দিন বা মাস) প্যাকেজ অফার করতে পারে। তাই অ্যাপ (MyGP, My Robi, MyBL) চেক করলে অনেক সময় আপনার জন্য বিশেষ ডিসকাউন্ট রেট পাওয়া যেতে পারে।

  • রাত ১২টা – ভোর ৬টা: কিছু নির্দিষ্ট প্যাকেজ এই সময়ে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, যা বিটিআরসি-এর নতুন গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বিকাশ/নগদ অফার: সরাসরি রিচার্জের চেয়ে বিকাশ বা নগদ অ্যাপের মাধ্যমে রিচার্জ করলে ৫-১০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ থাকে।