নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, ফ্রিল্যান্সিং কত প্রকার, ফ্রিল্যান্সিং কি মোবাইলে করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি, ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কি, ফ্রিল্যান্সার কি, ফ্রিল্যান্সিং এর ভবিষ্যৎ কি, ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন,

Freelancing । ফ্রিল্যান্সিং করতে কি প্রয়োজন

ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি খুবই মুক্ত ও মনোমুগ্ধকর শব্দ। শব্দটির সাথে এখন সবাই পরিচিত। সবারই মনে চায় যদি ফ্রিল্যান্সার হতে পারতাম?!! মূলত এটি চিন্তা বা স্বপ্ন দেখার নামান্তর কিন্তু চিন্তা বা স্বপ্ন দেখলেই আপনি ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠবেন না। ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনার খুবই পরিশ্রমী এবং ত্যাগী হতে হবে। যারাই অনলাইন জগতে দখল নিয়েছে তারা সবাই অত্যধিক বা কল্পনাতীত পরিশ্রম করেই অবস্থান তৈরি করেছেন। আজ যাকে প্রতিষ্ঠিত দেখছেন অনলাইন জগতে, তা কিন্তু একদিনে পায়নি সে, তাকে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই আমিকে তৈরি করতে হয়েছে।

শুনলাম অনলাইনে নাকি অল্প পরিশ্রমে আয় করা যায়?

যা শুনেছেন ঠিকই শুনেছেন কিন্তু এই অল্প পরিশ্রমের আওতায় আসতে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। আজ আমি তার ২ ঘন্টা কাজ করে ১০ ডলার আয় করাকে দেখছেন? এই ২ ঘন্টায় ১০ ডলার আনতে তাকে কতোদিন বন্ধুদের সান্নিধ্য ত্যাগ করতে হয়েছে। কত রাত জেগে কাজ শিখতে হয়েছে। নিজের স্কিল তৈরিতে কি যে পরিশ্রমের মধ্যে বসবাস করতে হয়েছে তাকে তা কেবল ঐ সফল ব্যক্তিই জানে। তাই এভাবে কিন্তু না করে ভাবুন তো একজন রিক্সাওয়ালাকে আমি ২০ টাকা কখন ভাড়া দেন? যখন তিনি ২০ টাকার রিক্সা চালিয়ে আপনাকে গন্তব্যে পৌছে দেয় ঠিক তখনই তাকে ২০ টাকা ভাড়া দেন। এই বিশ টাকা আয় করতে রিক্সাওয়ালাকে ঘাম ঝড়াতে হয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। তাই নিজেকে আগে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য সেই মানের পরিশ্রম করতে হবে। স্কিলড তৈরি করুন, কাজ আপনার কাছে আসবে। কাজকে খুজতে হবে আপনার।

কি কি লাগে ফ্রিল্যান্সিং করতে?

তেমন কিছু না একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ যার দাম ১৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যেই হলেই হবে। ভাল বাজেট থাকলে নতুন একটি ল্যাপটপ ৩০-৬০ হাজার টাকার মধ্যে কিনে ফেলুন। জন্ম থেকে কেউ কিছু শিখে আসেনা। আপনি প্র্যাকটিস ও লার্নিং এর মধ্য দিয়ে শিখতে থাকবেন। ইন্টারনেট কানেকশন মডেম বা ব্রডব্যান্ড আর একটি ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ আপনাকে স্কিলড করে তুলবে যদি আপনার ইচ্ছা শক্তি থাকে। আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশুনা করতে হবে। খুব বেশি জ্ঞানে হতে হবে বা কঠিন অংক বা ইংলিশ জানতে হবে এমনটি নয়। শুধু ইচ্ছা শক্তি ও জ্ঞানের পিপাসা আপনাকে দক্ষ করে তুলবে। মনে রাখবেন লার্নিং শেষ আর্নিং শুরু। লার্নিং বাড়তে থাকবে আর্নিংও বাড়তে থাকবে। লার্নিং শেষ তো আর্নিংও শেষ। অনলাইন এমন একটি জগত যেখানে আপনার প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং পেশ কেন নারীদের জন্য সুবিধাজনক?

নির্দিষ্ট কোন অফিস টাইম মেইনটেন করতে হয় না। ফলে ইচ্ছামতো সময় বের করে কাজ শেষ করতে পারে, এবং কাজের মাধ্যমে নিজের ফ্যামিলিকেও সময় দিতে পারে। মার্কেটপ্লেসে প্রচুর কাজ রয়েছে যেখান থেকে ফ্রিলান্সাররা বাছাই করে কাজ নিতে পারে। শখ কে পেশা হিসেবে নিতে পারে। কারো কারো অনেক শখ থাকে যেমন আর আর্ট করা, রাইটিং করা ইত্যাদি। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নারীরা এই কাজগুলো করেও স্মার্ট আর্নিং করতে পারে। কাজ করার স্বাধীনতা রয়েছে এতে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের ইচ্ছা মত সময় এবং কাজের ধরন পছন্দ করে নেয়া যায় ফলে নারীরা তাদের সুবিধামতো সময় ও অন্যান্য বিষয়গুলি নির্ধারণ করে নিতে পারে।নারীদের ফ্রিল্যান্সিং এ সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, আপনি বাড়িতে বসেই কাজ করবেন ফলে সন্তানসহ পরিবারের সকলের সাথে অনেক সময় ব্যয় করতে পারবেন। আর নারীরা সেটাই সব সময় করে থাকে। তাই নারীরা ফ্রিল্যান্সিং করে সংসার এবং পেশা দুটিই সমান তালে চালিয়ে যেতে পারে।

লাখ টাকা অনলাইন হতে প্রতি মাসে আয় করা যায়?

অবশ্যই, লাখ টাকা অনলাইনে আয় করা কোন ব্যাপারই না। আপনি চাইলে মাত্র ১-৫ বছরের মধ্যে লক্ষ টাকা মাসে আয়ের সুযোগ রয়েছে। আপনার দক্ষতা এবং শেখার মানসিকতা আর স্পিড আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করবে। ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা নয়, স্বপ্নই আপনাকে ঘুমাতে দিবে না। তাই আজই লেগে পড়ুন কোন কিছু শুধু করতে দেরি করবেন না। শুরুটাতো করুন শেষ একদিন হবেই। আসুন মাসে লক্ষ টাকা আয় করেন এমন একটি প্রফাইল দেখে নিই যিনি আপওয়ার্ক এ কাজ করেন।

Freelancing

শুধুমাত্র একজন এক্সপার্ট ফটো এডিটর হয়ে তিনি দুই বছরে ১ লক্ষ ডলার আয় করেছেন। আপনি উপরের ছবিতে ক্লিক করলে তার সম্পূর্ণ প্রফাইল দেখতে পারবেন। ১,০০,০০ ডলারকে যদি আমি ৮৫ টাকা রেট দিয়ে গুন দেই তবে ৮৫,০০,০০০ টাকা তিনি মাত্র ২ বছরে আয় করেছেন। তাই বসে না থেকে আজই আপনার স্কিল গড়া শুরু করুন। দক্ষ লোকের কাজের অভাব হয় না। কিন্তু আপনি যদি অদক্ষ হউন তবে মার্কেটে ঘুরে কোন কাজ পাবেন না। অদক্ষ লোকে হতাশার অভাব হয় না।

কোন একটি ছোট্ট মাইক্রো স্কিলে যদি আপনি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তাহলে?

তাহলে উপরের উদাহরণটি দেখুন একজন ফটো এডিটর এক্সপার্ট হওয়ার দরুন, ঢাকা বসে বিদেশী ক্লায়েন্টের কাজ করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। আপনার হয়তো জানা আছে আপওয়ার্ক কোন মিথ্যা তথ্য দেখায় না। হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার এখানে কাজ করে এবং হাজার হাজার ক্লায়েন্ট এক্সপার্টদের প্রফাইল দেখে কাজ দিয়ে থাকেন। শুধু প্রফাইল দেখে কাজ দেয় বললে ভুল হবে, মূলত প্রফাইল দেখার পর লাইভ ভেরিফাই করে কাজ দিয়ে থাকে।

ইতিকথা এই যে, আপনি যে ডিপার্টমেন্টেই পড়াশুনা করে থাকেন না কেন, আপনি একটি কম্পিউটার আর ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার আগ্রহই যথেষ্ট ফ্রিল্যান্সার হয়ে উঠার জন্য। আপনার কাছে হয়তো কথাটি ভেল্যু পাচ্ছে না এই ভেবে যে, এ কথা তো সবাই বলে থাকেন। মূলত কথা তারা বাস্তাব জীবনের প্রেক্ষাপটেই বলে থাকেন। সো দেরি না করে কাজে গেলে পড়ুন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন ঘুমিয়ে নয়, জেগে থেকে পূরণ করুন। ধন্যবাদ।

আর একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে আপনার যে আরেকটি যোগ্যতা লাগবে সেটা হল ইংরেজীতে ভাল দক্ষতা । কারণ আপনার ক্লায়েন্টরা থাকবে বিদেশী তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে এবং ক্লায়েন্ট কি চায় তা বুঝার জন্য ইংরেজীতে ভাল দক্ষতা অপরিহার্য।

(Visited 1,045 times, 1 visits today)

4 comments

    1. অবশ্যই পারবেন। দরকার চেষ্টা আর লার্নিং। আপনি লার্নিং টা করুন আর্নিং চলে আসবে ইনশাল্লাহ

  1. আমি ফটো এডিটিং জানি, ফটোশপ এর কাজ ও জানি,
    তবে ফিলান্সিং করার জন্য আমি নির্দস্ট পথ পাচ্ছি না।ফ্রিলাংসিং করতে হলে এখন আমি কি করব…?

    1. বিভিন্ন থাম্ব নেইল ডিজাইন করে ইউটিউব টিউটোরিয়াল তৈরি করুন and Linkedin a profile ready korun

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *