Sonali Bank VISA Card এর ব্যবহার ও চার্জ বিষয়ক আলোচনা।

ডেবিট কার্ড’ বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় একটি ব্যাংকিং প্রোডাক্ট। আর এই প্রোডাক্টটির জনপ্রিয়তার জন্যই বর্তমান ডিজিটাল যুগে এর চাহিদাও ব্যাপক।

বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন এ অভ্যস্ত গ্রাহকবৃন্দ, ডেবিট কার্ড ছাড়া নিজ একাউন্ট এর লেনদেন এর কথা কল্পনাই করতে পারেন না। তাই, প্রায়শই আমাদের সম্মানিত গ্রাহকবৃন্দ ডেবিট কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়ে বিভিন্ন পোস্ট করছেন, কমেন্ট করছেন কিংবা ইনবক্সও করছেন। আপনাদের আগ্রহকে সম্মান জানাতে আমরা সর্বদাই বদ্ধ পরিকর। তাই তো, আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হলো সোনালী ব্যাংক এর ডেবিট কার্ড।

চলুন শুরু করা যাকঃ প্রথমেই যে বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়ঃ
  • সোনালী ব্যাংকের সকল শাখা হতে ডেবিট কার্ড প্রদান করা হয়।
  • আমাদের ব্যাংকের ডেবিট কার্ড শুধু আমাদের ব্যাংকের এটিএম বুথেই নয় বরং বাংলাদেশের যেকোন ব্যাংকের এটিএম বুথেই ব্যবহার করা যাবে এবং টাকাও উত্তোলন করা যাবে।
  • পিন নাম্বার আমাদের নিজস্ব এটিএম বুথ কিংবা Q-Cash Consortium ATM বুথ থেকে পরিবর্তন করা যাবে।
এবার জানব, কেন আপনি ডেবিট কার্ড ব্যবহার করবেন? অর্থাৎ ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে কী কী সুবিধা পাবেন?
যে সুবিধাগুলো পাবেনঃ
  • যেকোনো সময় (২৪/৭) টাকা উত্তোলন করা সুযোগ।
  • ই-কর্মাস লেনদেন, POS লেনদেন করার সুবিধা।
  • বিকাশ’ কিংবা ‘নগদ’ একাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন নিমিষেই।
  • ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট, ট্রাভেল ট্যাক্স, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ধরনের ফি প্রদান করা যাবে ঘরে বসেই।
  • একাউন্ট ব্যালেন্স চেক করা।
  • মোবাইল রিচার্জ করাসহ আরো অনেক কিছু।
এবার সবার মনের কমন প্রশ্নের উত্তর। মানে চার্জ বিষয়ে একটু বিস্তারিত জেনে নেই চলুন।
টাকা উত্তোলন সংক্রান্ত চার্জসমূহঃ
  • সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম বুথ থেকে=সম্পূর্ণ ফ্রি
  • POS Transaction=সম্পূর্ণ ফ্রি
  • Q-Cash ATM=১০ টাকা + ভ্যাট
  • NPSB ATM=১৫ টাকা + ভ্যাট
  • VISA ATM=৪৫ টাকা + ভ্যাট
Balance Inquiry/ Mini Statement এর চার্জঃ
Sonali Bank ATM=সম্পূর্ণ ফ্রি
Q-Cash ATM= সম্পূর্ণ ফ্রি
NPSB ATM =৫ টাকা + ভ্যাট
VISA ATM =৫ টাকা + ভ্যাট
বাৎসরিক চার্জ ও অন্যান্যঃ
  • বাৎসরিক ডেবিট কার্ড ফি=৪০০ টাকা + ভ্যাট
  • কার্ড রিপ্লেসম্যান্ট ফি=১০০ টাকা + ভ্যাট
  • পিন রিপ্লেসম্যান্ট ফি=১০০ টাকা + ভ্যাট
চার্জের কথাও বলা হলো। এবার বাকী রইল গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় তথা লিমিট প্রসঙ্গ। অর্থাৎ আমাদের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতিদিন কত টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে লিমিটঃ
ATM বুথঃ
ATM বুথ থেকে আমাদের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে প্রতিবার ২০,০০০ টাকার বেশি নয়। মানে দাঁড়াল, ধরা যাক আপনি আপনার একাউন্ট থেকে ৫০,০০০ টাকা উত্তোলন করতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে আপনি প্রথমবার ২০,০০০, পরেরবার ২০,০০০ এবং তার পরেরবার ১০,০০০ এভাবে সর্বমোট ৫০,০০০ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন প্রতিদিন। তবে বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা অনুযায়ী দৈনিক লিমিট সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে যা প্রতি ট্রানজেকশনে ৩০,০০০ টাকার বেশি নয়।
ই-কমার্স লেনদেনঃ
ই-কর্মাসে লেনেদেন এর জন্য প্রাথমিকভাবে সবার ১০,০০০ টাকা লিমিট দিয়ে দেয়া থাকে। তবে গ্রাহক চাইলে শাখার মাধ্যমে আবেদন করে সেই লিমিট ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করতে পারবেন।
POS লেনদেনঃ
VISA সাপোর্টেট যেকোনো POS মেশিনে লেনদেন সীমা দৈনিক সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০/- তবে একবারে সর্বোচ্চ ৫০,০০০/- টাকা এর বেশি নয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন যে Q-Cash Network ভুক্ত ATM বুথ কোনগুলো? তাহলে আসুন জেনে নেই Q-Cash Network ভুক্ত সদস্য ব্যাংকের তালিকাঃ
  • অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
  • ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড
  • বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
  • এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  • আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড
  • আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড
  • যমুনা ব্যাংক লিমিটেড
  • জনতা ব্যাংক লিমিটেড
  • মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড
  • মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড
  • মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড
  • মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড
  • ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড
  • ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড
  • রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
  • শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  • সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
  • সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড
  • ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড
  • উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড
  • উরি ব্যাংক লিমিটেড এবং সর্বোপরি আমাদের
  • সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
আরো কিছু কমন প্রশ্নের উত্তরঃ
কার্ড হারিয়ে গেলে প্রথমেই কার্ড ডিভিশনের সাপোর্ট নাম্বার কিংবা শাখায় ফোন করে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে জানান যেন আপনার একাউন্টের ডেবিট কার্ডের পারমিশন বন্ধ করার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে শাখায় গিয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করুন এবং নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করুন।
নেটওয়ার্ক সমস্যা কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় দেখা যায় কার্ড পাঞ্চ করার পর আপনার একাউন্ট থেকে টাকা কর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মেশিন হতে আপনি কোনো টাকা রিসিভ করেননি। এমন হলে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনি ঘড়িতে তখনকার সময়টি খেয়াল করুন। এবার আপনার মোবাইলে চেক করে দেখুন কোনো রিভার্সাল মেসেজ এসেছে কিনা। যদি অটো রিভার্সাল মেসেজ আসে তাহলে কোনো আর কোনো চিন্তা নেই। আর যদি মেসেজ না আসে তবে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় অথবা সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করুন এবং ATM Dispute ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ ফরমটি পূরণ করে শাখায় জমা দিন। আপনার পূরণকৃত ফরমটি শাখা হতে সাথে সাথে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হবে এবং সর্বোচ্চ ৪৫ কর্মদিবস এর মধ্যে ঐ পরিমাণ টাকা আপনার একাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
আজ তাহলে এ পর্যন্তই। চেষ্টা করেছি ছোট পরিসরে আপনাদের প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরতে। তারপরেও কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই আমাদের জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই সোনালী ব্যাংকের সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন সেবা গ্রহণ করুন এবং নিরাপদে থাকুন। সবার সুস্থতা কামনা করছি। হ্যাপি ব্যাংকিং।
(Visited 1,759 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

close