সরকারি আপডেট নিউজ

পিআরএল ও অবসরকালীন সময়ে জটিল রোগের চিকিৎসা অনুদান: নিয়ম ও বিভ্রান্তির অবসান

সরকারি চাকরিতে পিআরএল (PRL) ভোগরত বা অবসরে যাওয়া কর্মচারীরা জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা অনুদান পাবেন কি না—এটি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের (বিকেকেবি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিস থেকে “আবেদন করা যাবে” এমন তথ্য জানানোর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে কল্যাণ বোর্ডের মূল বিধিমালা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে প্রকৃত সত্য ও সঠিক নিয়মটি নিচে তুলে ধরা হলো।

১. জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের অনুদান: আসল নিয়ম কী?

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা অনুদান শুধুমাত্র চাকুরিরত (Active Service) থাকাকালে পাওয়া যায়।

  • অনু দানের পরিমাণ: চাকুরিরত অবস্থায় একজন কর্মচারী এক বা একাধিকবারে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই অনুদান পেতে পারেন।

  • পিআরএল বা এলপিআর কালীন: নিয়মানুযায়ী, পিআরএল (PRL) বা এলপিআর (LPR) চলাকালীন কিংবা পূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর এই “জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের বিশেষ অনুদান” আর পাওয়া যায় না

২. পিআরএল ও অবসরপ্রাপ্তরা তাহলে কোন অনুদান পাবেন?

জটিল রোগের ৩ লক্ষ টাকার অনুদান না পেলেও পিআরএল ভোগরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য কল্যাণ তহবিল থেকে চিকিৎসার সুবিধা একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না।

  • তারা “সাধারণ চিকিৎসা অনুদান”-এর জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য।

  • পিআরএল-এ থাকা অবস্থায় বা অবসরে যাওয়ার পরও অসুস্থতার জন্য সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের নিয়ম মেনে আবেদন করা যাবে।

৩. আবেদন কার বরাবর এবং কীভাবে করতে হবে?

কল্যাণ তহবিলের সকল প্রকার অনুদানের আবেদন এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা অনলাইন ভিত্তিক।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: রোগীকে বা আবেদনকারীকে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন ফর্ম (Online Form) পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

  • কার বরাবর আবেদন: আবেদনটি অনলাইনে প্রসেস হয়ে “মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড” বরাবর দাখিল হয়।

  • স্বাক্ষর ও সত্যায়ন: পিআরএল বা অবসরে থাকা কর্মচারীরা এই আবেদনের ক্ষেত্রে নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে সেটি পাঠাতে পারবেন। চাকুরিরতদের মতো কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে (Through Proper Channel) পাঠানোর বাধ্যবাধকতা এখানে শিথিলযোগ্য।

৪. আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

অনলাইনে আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:

  • পিআরএল (PRL) মঞ্জুরির আদেশ বা অবসরের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (LPR/PRL Order).

  • সরকারি রেজিস্টার্ড ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ডের ব্যবস্থাপত্র (Prescription), ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট এবং হাসপাতালের খরচের মূল ভাউচার।

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য (যেখানে অনুদানের টাকা পাঠানো হবে)।

সারকথা: চট্টগ্রাম অফিস থেকে জটিল রোগের আবেদনের বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা মূলত “সাধারণ চিকিৎসা অনুদান” অথবা পিআরএল-এর নথিপত্র জমা দিয়ে বিশেষ বিবেচনার প্রক্রিয়া হতে পারে। তবে বোর্ডের মূল নীতিমালা অনুযায়ী, ৩ লক্ষ টাকার বৃহৎ ‘জটিল রোগ অনুদান’ চাকুরিরতদের জন্যই সংরক্ষিত। পিআরএল বা অবসরে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের ফর্ম পূরণ করে পিআরএল-এর ডকুমেন্টসহ নিজেই স্বাক্ষর করে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *