বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও জুলাইয়ে আংশিক বাস্তবায়নের পথে নতুন পে-স্কেল
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। আগামী ২০blank-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতের জন্য আলাদা কোনো অতিরিক্ত বা নতুন বরাদ্দ রাখা না হলেও, তা নতুন পে-স্কেল চালুর ক্ষেত্রে কোনো বড় বাধা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থসংকট বড় বাধা নয়
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে নতুন পে-স্কেলের নাম উল্লেখ করে আলাদা আর্থিক বরাদ্দ ছকভুক্ত না করা হলেও সরকারের হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প তহবিল রয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অর্থসংকটের মুখোমুখি হতে হবে না।
৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের বাজেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বড় ‘থোক বরাদ্দ’ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের মতোই ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয়’ নির্বাহের জন্য একটি বিশেষ সংরক্ষিত তহবিল বা অর্থ বরাদ্দ রাখা আছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রয়োজন সাপেক্ষে এই থোক বরাদ্দ এবং অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত তহবিল থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো হবে।
জুলাই থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা
বাজেটের কাঠামোগত বিন্যাসে আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ না থাকার পরও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই বিকল্প অর্থায়নের প্রস্তুতির কারণে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আশাহত হওয়ার কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই অভ্যন্তরীণ তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক সুবিধা প্রদান বা প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
প্রশাসনের তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত এই নতুন পে-স্কেল আংশিক চালুর খবরটি ইতিবাচক সাড়া ফেলবে এবং এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।

