বিদ্যুৎ সংযোগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে নতুন নির্দেশনা; জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

বিদ্যুৎ সংযোগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে নতুন নির্দেশনা; জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি

দেশের সকল বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানির জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের নিয়মাবলী আরও স্পষ্ট ও সহজতর করা হয়েছে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে এবং হয়রানি কমাতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রয়োজনীয় নথিপত্রের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সেচসহ সকল ধরণের সংযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে

আবাসিক ও সাধারণ সংযোগের জন্য যা লাগবে

আবাসিক (LT-A) সংযোগের জন্য আবেদনকারীকে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি জমা দিতে হবে এছাড়া ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান বা নামজারি কপি আবশ্যিক তবে ১০ তলার অধিক বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপন সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ

বাণিজ্যিক (LT-E/D3) এবং শিল্প (LT-C1) সংযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স দাখিল করতে হবে যদি আবেদনকারী ভাড়াটিয়া হন, তবে মালিকের সাথে রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিনামা থাকতে হবে যেখানে বিল পরিশোধের দায়ভার স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে এছাড়া উচ্চ ক্ষমতার (HT) সংযোগের জন্য প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের সার্টিফিকেট এবং সাব-স্টেশনের নকশা জমা দেওয়া প্রয়োজন

বিশেষ ক্ষেত্রে সংযোগ ও সেচ ব্যবস্থা

  • সেচ সংযোগ: সেচ কমিটির অনুমোদনপত্র এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র প্রয়োজন

  • অস্থায়ী সংযোগ: সামাজিক অনুষ্ঠান বা মেলার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং অস্থায়ী চুক্তিনামা প্রয়োজন

  • ভূমিহীন ও সরকারি খাস জমি: নদী ভাঙা ভূমিহীন বা খাস জমিতে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভা থেকে নাগরিক সনদ সংগ্রহ করতে হবে

বিদ্যুৎ সেবা প্রতিনিধি (PSR) নিয়োগ

গ্রাহকদের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রতিটি বিতরণ সংস্থা নিজস্ব এলাকায় ‘বিদ্যুৎ সেবা প্রতিনিধি’ (Power Support Representative) নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করবে এই প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট ফি (প্রতি সেবায় অনধিক ১০০ টাকা) এর বিনিময়ে নতুন সংযোগ, লোড বৃদ্ধি বা পুনঃসংযোগের আবেদন সংক্রান্ত কাজে গ্রাহকদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করবেন গ্রাহকদের আস্থার জন্য এসব প্রতিনিধিদের কিউআর (QR) কোড সম্বলিত সনদ প্রদান করা হবে

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম

১. একই নামে এবং একই স্থানে নতুন সংযোগের জন্য পুরনো নথিপত্র পুনরায় লাগবে না; শুধুমাত্র আগের পরিশোধিত বিলের কপি ও পরিচয়পত্র দিলেই চলবে । ২. গ্রাহক চাইলে নিজ উদ্যোগে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের প্রমাণক দাখিল করতে পারেন (ঐচ্ছিক) । ৩. লোডের চাহিদার পরিমাণ উল্লেখ করাও এখন ঐচ্ছিক হিসেবে রাখা হয়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ মামুন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে

পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে কত টাকা লাগে?

পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পাওয়ার জন্য সাধারণত কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে আপনি কোন ধরণের সংযোগ নিচ্ছেন এবং আপনার লোড চাহিদার ওপর। ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, একটি সাধারণ আবাসিক সংযোগের জন্য সম্ভাব্য খরচের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

১. আবেদন বা সমীক্ষা ফি:

নতুন সংযোগের জন্য শুরুতে আপনাকে একটি আবেদন ফি বা সমীক্ষা ফি জমা দিতে হবে।

  • এক ফেজ (Single Phase): ১০০ টাকা।

  • তিন ফেজ (Three Phase): ৩০০ টাকা।

  • সেচ সংযোগ: ২৫০ টাকা।

  • শিল্প সংযোগ: ২,৫০০ টাকা।

২. জামানত (Security Deposit):

আবেদন অনুমোদনের পর লোড অনুযায়ী জামানত জমা দিতে হয়।

  • আবাসিক সংযোগ (LT-A): ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত (প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য)।

  • বাণিজ্যিক সংযোগ (LT-E): ৮০০ টাকা (প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য)।

৩. অন্যান্য খরচ:

  • সদস্য ফি: সাধারণত ৫০ টাকা (যদি আগে সদস্য না হয়ে থাকেন)।

  • মিটার ও তারের খরচ: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে সার্ভিস ড্রপ (তার) ও মিটার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিনামূল্যে সরবরাহ করে (যদি দূরত্ব ১০০-১১০ ফুটের মধ্যে থাকে)। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বা দূরত্বের ভিত্তিতে এর খরচ বাড়তে পারে।

  • ওয়্যারিং পরিদর্শন ফি: ঘর বা স্থাপনার ওয়্যারিং ঠিক আছে কি না তা দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি (সাধারণত ১০০ টাকা) লাগতে পারে।

৪. বিদ্যুৎ সেবা প্রতিনিধি (PSR) সহায়তা:

সরকারের নতুন নির্দেশনানুযায়ী, আপনি যদি কোনো বিদ্যুৎ সেবা প্রতিনিধির (PSR) মাধ্যমে আবেদন বা কারিগরি সহায়তা নেন, তবে তাদের ফি হিসেবে অনধিক ১০০ টাকা দিতে হতে পারে।

সতর্কতা: পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের সকল ফি এখন অনলাইনে (বিকাশ, রকেট, নগদ বা নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে) অথবা সমিতির ক্যাশ কাউন্টারে জমা দেওয়া যায়। তাই আবেদন ফি বা জামানতের টাকা কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষকে না দিয়ে সরাসরি অফিশিয়াল মাধ্যমে পরিশোধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বি.দ্র.: এলাকা বা সমিতি ভেদে এই খরচের পরিমাণ সামান্য কম-বেশি হতে পারে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *