ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: দেশজুড়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সম্ভাব্য গণভোট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার । এর অংশ হিসেবে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘The Code of Criminal Procedure, 1898’ এবং এর ২০০৯ সালের সংশোধনী আইনের ১০(৫) ধারা মোতাবেক এই কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে । মূলত নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের (বিশেষ করে বিজিবি ও কোস্টগার্ড) সাথে সমন্বয় করে অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
কার্যকাল ও ক্ষমতা: নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ আগামী ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন । তাঁরা ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ এর ৫ ধারা অনুযায়ী তফসিলভুক্ত আইনসমূহের অধীনে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন ।
কর্মকর্তাদের বিন্যাস: মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকায় ১৩০ জনেরও বেশি কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের বিভিন্ন জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে । নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:
-
ঢাকা মহানগর ও জেলা: এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জনাব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম (উপসচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়), জনাব এ টি এম শরিফুল আলম (উপসচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সহ অনেককে ন্যস্ত করা হয়েছে ।
-
অন্যান্য জেলা: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে । যেমন—নারায়ণগঞ্জ জেলায় জনাব মো: হেমায়েত উদ্দিন এবং মুন্সীগঞ্জ জেলায় জনাব মোতাকাব্বীর আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য পালনীয় নির্দেশনা: প্রজ্ঞাপনে ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
-
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত অবহিত রাখতে হবে।
-
প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর পাঠাতে হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা । নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


