সরকারি আপডেট নিউজ

সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট হারালেও আতঙ্ক নয়, আবেদন করলেই মিলবে ডুপ্লিকেট কপি

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে নিরাপদ সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম। তবে সঞ্চয়পত্র কেনার পর অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়—সঞ্চয়পত্রের মূল সার্টিফিকেট বা সনদ হারিয়ে গেলে কী হবে? বিনিয়োগের টাকা কি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে?

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলেই বিনিয়োগকারীর অর্থ হারিয়ে যায় না। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র বা বিকল্প সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন স্কিম পরিচালিত হচ্ছে। এসব সঞ্চয়পত্র তফসিলি ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো এবং ডাকঘরের মাধ্যমে ক্রয় করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রের মালিকানা এখন কেবল কাগজের সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিনিয়োগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), আবেদনপত্র, ব্যাংকের রেকর্ড এবং জাতীয় সঞ্চয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে মালিকানা যাচাই করা হয়। ফলে সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলেও প্রকৃত মালিকের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।

সাধারণত সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানে লিখিত আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনে হারানোর বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ ডুপ্লিকেট সনদ ইস্যু করে থাকে।

ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, “সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন করলেই সমাধান পাওয়া যায়।”

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সঞ্চয়পত্রের মূল সনদ, ক্রয় রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ফটোকপি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অর্থাৎ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট ৩ বছরের মধ্যে বা যেকোনো সময় হারিয়ে গেলেও বিনিয়োগকারীর মূল অর্থ ও মালিকানা বাতিল হয়ে যায় না। প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করে ডুপ্লিকেট কপি সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *