১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা
দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা গত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। এ সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।”
দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নতুন জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক যুগ পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বেতন-ভাতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকার বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছেন। সরকারের সর্বশেষ এই ঘোষণা তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের অর্থ কী?
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও বাজেট বক্তৃতায় বেতন বৃদ্ধির হার, গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতন নির্ধারণ কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পর্যায়ক্রমে নতুন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় উদ্যোগ
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বেতন বৃদ্ধি যেন সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা
অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয় হলো নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত। কোন গ্রেডে কত বেতন বৃদ্ধি পাবে, নতুন বেতন স্কেল কী হবে, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে—এসব বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ১১ বছর পর বেতন কাঠামো সংস্কারের এই উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

