১২ কেজির সিলিন্ডার ১৪৪২ টাকা 2026 । ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করিল সরকার?
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মার্চ ২০২৬ মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের দামের ওপর ভিত্তি করে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এই দর ২ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য মূসকসহ ১১৯.৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসেবে সাধারণ গ্রাহকদের বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৪৪২ টাকা।
বিভিন্ন পরিমাণের সিলিন্ডারের নতুন মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| সিলিন্ডারের আকার | খুচরা মূল্য (টাকা) |
| ৫.৫ কেজি | ৬১৬ টাকা |
| ১২ কেজি | ১,৪৪২ টাকা |
| ১২.৫ কেজি | ১,৪৯৭ টাকা |
| ১৫ কেজি | ১,৭৯৬ টাকা |
| ৩০ কেজি | ৩,৬০৫ টাকা |
| ৪৫ কেজি | ৫,৪০৮ টাকা |
অটোগ্যাস ও রেটিকুলেটেড সিস্টেম
পরিবহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম হবে ৬১.৮৩ টাকা (মূসকসহ)।
এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহকৃত এলপিজির ক্ষেত্রে:
-
তরল অবস্থায় প্রতি কেজির মূল্য ১০৭.৯৯ টাকা।
-
গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটারের মূল্য ২৩৯.৯০ টাকা।
অপরিবর্তিত সরকারি এলপিজি
বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হলেও সরকারি এলপিজির দাম আগের মতোই রাখা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম পূর্বের নির্ধারিত ৭৭৬.১৩ টাকা হিসেবেই বহাল থাকবে।
কমিশনের নির্দেশনা
বিইআরসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ডিস্ট্রিবিউটর বা রিটেইলার পর্যায়ে কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দাম রাখা যাবে না। প্রতিটি এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং চালান বা ডেলিভারি অর্ডার প্রদান করতে হবে।
পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর থাকবে। বিস্তারিত তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইট (www.berc.org.bd) থেকে জানা যাবে।
সরকারি মূল্যে ডিপোগুলোতে গ্যাস পাওয়া যায় না কেন?
সরকারি মূল্যে ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত এলপিজি গ্যাস না পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। এর পেছনে মূলত বেশ কিছু কাঠামোগত ও বিপণন সংক্রান্ত কারণ রয়েছে। আপনার নিউজের প্রেক্ষাপটে এর মূল কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য উৎপাদন
বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদার সিংহভাগই (প্রায় ৯৫% এর বেশি) মেটায় বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি কোম্পানি ‘এলপিজিএল’ (LPGL) যে পরিমাণ গ্যাস উৎপাদন করে, তা মোট চাহিদার মাত্র ২-৫ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় জোগান এতই কম যে, ডিপো পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই তা শেষ হয়ে যায় বা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়।
২. শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগী
সরকারি এলপিজির দাম (১২.৫ কেজি ৭৭৬.১৩ টাকা) বেসরকারি গ্যাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এই বিশাল দামের পার্থক্যের কারণে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করে। তারা সরাসরি ডিপো থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে দেয়। অনেক সময় ডিলাররা সাধারণ গ্রাহকের কাছে বিক্রির চেয়ে হোটেল বা বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।
৩. সিলিন্ডারের সংকট
সরকারি গ্যাসের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি সিলিন্ডার থাকতে হয়। কিন্তু সরকারি সিলিন্ডারের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। নতুন সিলিন্ডার তৈরি বা বাজারে ছাড়ার গতি কম হওয়ায় গ্রাহক চাইলেও তার খালি সিলিন্ডার বদলে সরকারি গ্যাস রিফিল করতে পারেন না।
৪. ডিলারদের অনিয়ম
অনেক ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ডিলাররা সরকারি গ্যাস পেলেও দোকানে প্রদর্শন করেন না। তারা ‘স্টক নেই’ বলে সাধারণ গ্রাহককে ফিরিয়ে দেন এবং পরে সেই গ্যাস বেসরকারি গ্যাসের দামের কাছাকাছি দামে সাধারণ গ্রাহকের কাছেই বিক্রি করেন।
৫. পরিবহন ও তদারকির অভাব
ডিপো থেকে খুচরা পর্যায়ে গ্যাস পৌঁছানোর পথে যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে। বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে সেটি কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য নিয়মিত তদারকি বা মোবাইল কোর্টের অভাব অনেক ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে।

