২০ বছরে কোন বিনিয়োগে কত রিটার্ন? সঞ্চয়পত্র শীর্ষে, জমি সবচেয়ে পিছিয়ে
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কোন খাতে সবচেয়ে বেশি লাভ পাওয়া যায়—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময়ই আগ্রহ থাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, ২০ বছর আগে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বর্তমান সময়ে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক ডিপিএস, স্বর্ণ ও জমির মধ্যে রিটার্নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর আগে বিনিয়োগ করা ১০ লাখ টাকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মূল্য পেত সঞ্চয়পত্রে, আর তুলনামূলকভাবে কম রিটার্ন পাওয়া যেত জমিতে।
সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ রিটার্ন
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ফ্যামিলি সেভিংস সার্টিফিকেটের গড় ১১.৯৭ শতাংশ মুনাফা ধরে ২০ বছরে ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ বেড়ে প্রায় ৯৫.৩ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল আয়ের কারণে সঞ্চয়পত্র দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদ গঠনে সহায়তা করে।
ডিপিএসে নিরাপদ ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি
ব্যাংকের ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) দীর্ঘদিন ধরে মধ্যবিত্তদের জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম। উদাহরণ হিসেবে ১০.৭৫ শতাংশ সুদহার বিবেচনা করে দেখানো হয়েছে যে, ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ ২০ বছরে প্রায় ৭৭.১ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
নিয়মিত সঞ্চয় এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির কারণে ডিপিএসকে অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
স্বর্ণে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা বাড়ার কারণে গত দুই দশকে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রচারিত তথ্যে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় দেখানো হয়েছে যে, ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ ২০ বছরে প্রায় ৬৭.৩ লাখ টাকায় পরিণত হতে পারে। এতে গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
জমির মূল্য বৃদ্ধি হলেও রিটার্ন তুলনামূলক কম
বাংলাদেশে জমিকে ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও, সব এলাকায় সমান হারে মূল্য বৃদ্ধি হয় না। বিশেষ করে সঠিক লোকেশন নির্বাচন না হলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হতে পারে।
উপস্থাপিত তথ্যে প্রতি কাঠা জমির গড় বাজারমূল্য ও বার্ষিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে দেখানো হয়েছে যে, ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ ২০ বছরে প্রায় ৪৬.৬ লাখ টাকায় উন্নীত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নয়নশীল এলাকায় বা বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমির প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি এ হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
২০ বছরের পারফরম্যান্স র্যাঙ্কিং
প্রচারিত তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী ২০ বছরের বিনিয়োগে রিটার্নের ক্রম হচ্ছে—
১. সঞ্চয়পত্র – প্রায় ৯৫.৩ লাখ টাকা
২. ডিপিএস – প্রায় ৭৭.১ লাখ টাকা
৩. স্বর্ণ – প্রায় ৬৭.৩ লাখ টাকা
৪. জমি – প্রায় ৪৬.৬ লাখ টাকা
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো বিনিয়োগের প্রকৃত লাভ নির্ভর করে মুদ্রাস্ফীতি, করনীতি, বাজার পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, তারল্য এবং ঝুঁকির মাত্রার ওপর। তাই শুধুমাত্র সম্ভাব্য রিটার্ন দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ কৌশলে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত, স্বর্ণ ও রিয়েল এস্টেট—সব ধরনের সম্পদের সমন্বয় থাকলে ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সম্পদ গঠন সহজ হয়।
সতর্কতা
উল্লেখিত পরিসংখ্যান একটি তুলনামূলক ও আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত রিটার্ন সময়, বাজারদর, সরকারি নীতিমালা, সুদের হার এবং বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

