দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২০২৬ । ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন বাজারে কত জানেন?
বর্তমানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেশ খানিকটা কমেছে। আজ শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
স্বর্ণের বর্তমান দাম (ভরি প্রতি)
| স্বর্ণের মান (ক্যারেট) | বর্তমান মূল্য (ভরি প্রতি) | আগের মূল্য থেকে পরিবর্তন |
| ২২ ক্যারেট | ২,৩৪,৮৫৫ টাকা | ৬,৫৯০ টাকা কমেছে |
| ২১ ক্যারেট | ২,২৪,১৮২ টাকা | ৬,২৮১ টাকা কমেছে |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৯২,১৬৪ টাকা | ৫,৩৬৬ টাকা কমেছে |
| সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ | ১,৫৬,৪৭৩ টাকা | ৪,৪৩২ টাকা কমেছে |
রুপার বর্তমান দাম (ভরি প্রতি)
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে:
-
২২ ক্যারেট: ৫,৩৬৫ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ৫,১৩২ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ৪,৪৩২ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ৩,৩২৪ টাকা
দ্রষ্টব্য: ১ ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম। স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি’ বা পাকা স্বর্ণের দাম কমায় বাজুস এই মূল্য সমন্বয় করেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হলো।
স্বর্ণের দামে এত চালামাটাল কেন?
স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা বা ‘চলাফেরা’ দেখে আপনার অবাক হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে যেভাবে এক দিনে ৫-৭ হাজার টাকা বাড়ছে বা কমছে, তা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদেরও বেশ বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।
স্বর্ণের দাম এত চালামাটাল হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি:
১. আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা (Global Factors)
স্বর্ণ কোনো স্থানীয় পণ্য নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।
-
ডলারের মান: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হয় ডলারে। ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়।
-
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: ইউক্রেন-রাশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো ঘটনা ঘটলে মানুষ টাকা বা শেয়ারের চেয়ে স্বর্ণকে বেশি ‘নিরাপদ’ মনে করে (Safe Haven Asset)। সবাই যখন একসাথে স্বর্ণ কিনতে ঝোঁকে, তখন বিশ্ববাজারে এর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।
২. বিনিয়োগের প্রবণতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Banks)
বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (যেমন: চীন, ভারত, তুরস্ক) এখন নিজেদের রিজার্ভে ডলার কমিয়ে স্বর্ণ বাড়াচ্ছে। বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ যখন বাজারে কেনা হয়, তখন সরবরাহ কমে যায় এবং দাম বেড়ে যায়। এছাড়া বড় বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার বাজারের চেয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকে লাভজনক মনে করছেন।
৩. দেশের বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণের’ সংকট
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘তেজাবি স্বর্ণ’ বা পাকা স্বর্ণের (Pure Gold) দাম সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
-
স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে যদি কাঁচা স্বর্ণের যোগান কমে যায়, তবে এর দাম বেড়ে যায়।
-
যেহেতু বাংলাদেশ স্বর্ণ আমদানিতে অনেকটা পিছিয়ে (বেশিরভাগই রিসাইকেল বা ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে আসে), তাই বাজারে একটু সংকট হলেই দাম অনেক বেড়ে যায়।
৪. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Fed) যদি সুদের হার কমায়, তবে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়ে। ২০২৬ সালের জন্য পূর্বাভাস আছে যে তারা সুদের হার কয়েক দফায় কমাতে পারে, যার আগাম প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা চলছে।
৫. বাজুসের (BAJUS) ঘনঘন সমন্বয়
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। বিশ্ববাজারে বা স্থানীয় বাজারে সামান্য পরিবর্তন এলেই তারা সেটা সমন্বয় করছে। এক বছর আগেও হয়তো মাসে ১-২ বার দাম পরিবর্তন হতো, এখন সপ্তাহে ২-৩ বারও হতে দেখা যাচ্ছে।

