নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রস্তুতি, পূর্ণ সুবিধা পেতে লাগতে পারে ২০২৯ সাল
দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে একসঙ্গে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিতে যাচ্ছে প্রশাসন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামোটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম ধাপের মূল সুবিধা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে শুরু হলেও এর পূর্ণাঙ্গ সুফল বা সম্পূর্ণ ভাতা পেতে সরকারি কর্মচারীদের ২০২৮-২৯ অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বাজেটে বরাদ্দ ও ৩ ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নতুন কাঠামোটি মোট ৩টি ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে পুনর্গঠিত কমিটি:
-
প্রথম ধাপ: প্রথম বছর অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (Basic Salary) বৃদ্ধির ঘোষণা ও তা কার্যকর করা হতে পারে।
-
দ্বিতীয় ধাপ: পরবর্তী অর্থবছরে মূল বেতনের সাথে আনুপাতিক হারে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার মতো মৌলিক বিষয়গুলো সমন্বয় করা হবে।
-
তৃতীয় ধাপ: সর্বশেষ ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে অন্যান্য ৩টি বিশেষ ভাতাসহ পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা ও সব স্তরের ভাতা কার্যকর করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন
পে-কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য আগের চেয়ে অনেকটাই কমিয়ে আনা হচ্ছে। ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, যা প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে ১:৮ এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সম্ভাব্য বেতন গ্রেডের রূপরেখা:
-
সর্বনিম্ন মূল বেতন (গ্রেড ২০): পূর্বের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
-
সর্বোচ্চ মূল বেতন (গ্রেড ১ – নির্ধারিত): পূর্বের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে পদ ও গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানা গেছে।
কারা উপকৃত হবেন?
নতুন এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি সুফল পাবেন। এর বাইরেও নতুন পে-স্কেলে বড় সুখবর পেতে চলেছেন পেনশনভোগীরা। প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির জন্য বিশেষ সুপারিশ রাখা হয়েছে।
চূড়ান্ত ঘোষণা কবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ দ্রুতই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পেশ করতে যাচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিললেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ও গেজেট প্রকাশ পেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই প্রস্তুতি সরকারি কর্মচারীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

