প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ ২০২৬ । মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় যারা দায়িত্ব পেলেন - Technical Alamin
Latest News

প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ ২০২৬ । মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় যারা দায়িত্ব পেলেন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার উপদেষ্টা প্যানেলে ১০ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৫ জনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ৫ জন

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ পরামর্শ প্রদানের জন্য যে পাঁচজনকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন: ১. মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। ২. নজরুল ইসলাম খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা। ৩. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যিনি দীর্ঘ সময় দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪. মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ: সাবেক সচিব ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ৫. ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ৫ জন

প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনতে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আরও ৫ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন: ১. হুমায়ুন কবির: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম: সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ৩. ডা. জাহেদুর রহমান: বিশিষ্ট চিকিৎসক ও রাজনৈতিক কলামিস্ট। ৪. ড. মাহাদি আমিন: তরুণ গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ৫. রেহান আসিফ আসাদ: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংগঠক।

প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর বিধি ৩(বি)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগ দান করেছেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন এবং নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

উল্লেখ্য যে, আজ সকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এরপর বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি এই ১০ উপদেষ্টার নিয়োগের বিষয়টি সামনে এলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপদেষ্টা প্যানেলে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি দক্ষ আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নতুন সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাজে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

উপদেষ্টার কাজ কি?

বাংলাদেশে সাধারণত সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তার কাজের সুবিধার্থে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। আপনি যে নামগুলো উল্লেখ করেছেন, তাদের মতো ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল কাজগুলো নিচে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:


১. নীতিনির্ধারণে বিশেষ পরামর্শ (Policy Advising)

উপদেষ্টাদের প্রধান কাজ হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন জটিল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া। যেমন:

  • অর্থনৈতিক উপদেষ্টা: বাজেট প্রণয়ন বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ দেন।

  • রাজনৈতিক উপদেষ্টা: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দলীয় সমন্বয়ে সহায়তা করেন।

  • প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কৌশল নির্ধারণ করেন।

২. প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা

অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে সব জায়গায় উপস্থিত থাকতে পারেন না। তখন তার প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টাগণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, সেমিনার বা বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে আলোচনা করেন।

৩. মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়

উপদেষ্টাগণ নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সরাসরি না থাকলেও, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ওই মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকি বা সমন্বয় করতে পারেন। যেমন, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতো বিশেষজ্ঞ হয়তো অর্থ বা পরিকল্পনা বিষয়ক কাজে ইনপুট দেবেন।

৪. গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (যেমন: রূপকল্প বা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা) বাস্তবায়নের জন্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা এবং প্রধানমন্ত্রীকে নির্ভুল তথ্য দিয়ে সাহায্য করা তাদের অন্যতম দায়িত্ব।

৫. জরুরি অবস্থা মোকাবিলা

দেশ কোনো সংকটে (যেমন: অর্থনৈতিক মন্দা, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ) পড়লে উপদেষ্টাগণ নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেন।


একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: উপদেষ্টাগণ কিন্তু মন্ত্রিসভার সদস্য (নির্বাচিত সংসদ সদস্য) নন। তারা মূলত ‘টেকনোক্র্যাট’ বা বিশেষজ্ঞ কোটায় নিযুক্ত হন। যদিও তারা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পান, কিন্তু সংসদে তারা সরাসরি ভোট দিতে পারেন না বা সংসদীয় বিতর্কে অংশ নিতে পারেন না (যদি না তারা সংসদ সদস্য হন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *