রমজানে সরকারি অফিসের নতুন সময়সূচী ঘোষণা: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ পর্যন্ত - Technical Alamin
Latest News

রমজানে সরকারি অফিসের নতুন সময়সূচী ঘোষণা: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ পর্যন্ত

আগামী পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচী নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সূচী অনুযায়ী, রমজান মাসে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

আজ (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব এ.বি.এম. আবু বাকার সিদ্দিক।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত সময়সূচীর মূল পয়েন্টগুলো হলো:

১. অফিস সময়: রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯:০০ ঘটিকা হতে বেলা ৩:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত অফিস চলবে। ২. নামাজের বিরতি: যোহরের নামাজের জন্য বেলা ১:১৫ ঘটিকা হতে ১:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের বিরতি থাকবে। ৩. সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার ও শনিবার যথারীতি সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দেশনা: প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে যে, ব্যাংক, বিমা, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নিজস্ব আইন বা বিধি অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে নিজস্ব অফিস সময়সূচী নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে।

এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও এর আওতাধীন সকল কোর্টের অফিস সময়সূচী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই বিশেষ সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজান শেষ হওয়ার পর অফিস সময় পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

রমজানে অফিস সময় কমানো হয় কেন?

রমজান মাসে অফিসের সময় কমানোর বিষয়টি মূলত ধর্মীয় ও মানবিক—উভয় দিক বিবেচনা করেই করা হয়। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সেহরি ও ইফতারের সময় ব্যবস্থাপনা: রমজান মাসে মুসলিমদের অনেক ভোরে সেহরি খেতে হয় এবং সন্ধ্যায় ইফতার করতে হয়। অফিসের সময় কিছুটা কমিয়ে আনলে চাকরিজীবীরা যানজট এড়িয়ে সময়মতো বাসায় ফিরে পরিবারের সাথে ইফতার করার সুযোগ পান।

  • শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে কিছুটা ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। কাজের সময় কিছুটা কমিয়ে আনলে রোজাদারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না, যা তাদের কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

  • ইবাদতের সুযোগ: রমজান মাস ইবাদতের মাস। অফিসের সময় দ্রুত শেষ হলে মানুষ বাসায় ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি তারাবিহ নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কাজগুলো আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পালন করতে পারেন।

  • যানজট নিরসন: ইফতারের ঠিক আগে রাস্তাঘাটে প্রচণ্ড ভিড় ও যানজট তৈরি হয়। অফিসের সময় যদি ৩টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়, তবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অফিস ছুটির সময় আলাদা হয়ে যায়, যার ফলে রাস্তায় গাড়ির চাপ কিছুটা হলেও বন্টন হয়ে যায়।

  • পারিবারিক সময়: রোজা সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের মাস। বিকেলে তাড়াতাড়ি ছুটি পাওয়ায় কর্মজীবীরা তাদের সন্তানদের ও পরিবারের সদস্যদের সাথে গুণগত সময় কাটানোর সুযোগ পান।

মূলত সরকারি এই সিদ্ধান্তটি নাগরিক সুবিধা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেই নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *