৯ম পে স্কেল নিউজ

সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন ৯ম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়

সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন ৯ম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নতুন ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় (ক্যাবিনেট) পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।

পে-স্কেলের খসড়া অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি, গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেতন বৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী—

  • ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
  • ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
  • নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বকেয়া (Arrears) সরকারিভাবে পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে মিলতে পারে বকেয়া

খসড়া অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও বকেয়া বেতন ও এরিয়ার (Arrears) সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর ২০২৬ নাগাদ পরিশোধ করা হতে পারে। অর্থাৎ কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একসঙ্গে বকেয়া অর্থ দেওয়া হতে পারে।

গ্রেডভিত্তিক নতুন ইনক্রিমেন্ট কাঠামো

বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে গ্রেড অনুযায়ী পৃথক ইনক্রিমেন্ট হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—

  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: ৫ শতাংশ (বর্তমানের মতো)
  • ৫ম গ্রেড: ৪ শতাংশ
  • ৩য় ও ৪র্থ গ্রেড: ৩.৫ শতাংশ
  • ২য় গ্রেড: ২.৭৫ শতাংশ
  • ১ম গ্রেড: সর্বোচ্চ গ্রেড হিসেবে পৃথকভাবে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের বৈষম্য কমিয়ে ১:৭.৫ অনুপাতে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে ১ম গ্রেডের প্রস্তাবিত মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ভাতা পুনর্গঠনের প্রস্তাব

সচিব কমিটির সুপারিশে বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা করা হতে পারে।
  • শিক্ষা ভাতা সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
  • নতুন ভাতা কাঠামো ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • বর্তমানে প্রচলিত বিশেষ ভাতা (১০% অথবা ২০০০ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ প্রণোদনা) বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • iBAS++ সফটওয়্যার হালনাগাদ
  • হিসাবরক্ষণ ও পেনশন ব্যবস্থার সমন্বয়
  • অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রস্তুতি
  • মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগুলো এক নজরে

  • কার্যকর হওয়ার প্রস্তাবিত তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
  • ১ম গ্রেডের প্রস্তাবিত মূল বেতন: ১,৫০,০০০ টাকা
  • ২০তম গ্রেডের প্রস্তাবিত মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
  • সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধি: ১৪০ শতাংশ (১১–২০তম গ্রেডে)
  • বেতন বৈষম্যের অনুপাত: ১:৭.৫
  • বকেয়া বেতন পরিশোধের সম্ভাব্য সময়: সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ২০২৬

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

তবে উল্লেখ্য, এগুলো সচিব কমিটির সুপারিশভিত্তিক প্রস্তাব। নতুন ৯ম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে প্রথমে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরে সরকারি গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত কোনো বিষয় পরিবর্তন, সংযোজন বা সংশোধন হতে পারে। তাই সরকারি গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব সুপারিশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *