সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলের আহ্বান, বিলম্বে গুনতে হবে অতিরিক্ত কর
আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতাদের সময়সীমা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে বিলম্বে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর ও আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
সম্প্রতি প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও বিলম্বজনিত আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, করদাতারা বছরের বিভিন্ন সময়ে রিটার্ন জমা দিলে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত করের বিধান প্রযোজ্য হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে প্রণোদনা
তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতা দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য বিশেষ কর প্রণোদনা পাবেন। আয়কর আইন অনুযায়ী করদাতার প্রদেয় করের ওপর নির্ধারিত হারে ছাড় দেওয়া হবে অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা, যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে শুধু প্রণোদনাই নয়, বরং কর সংক্রান্ত নানা জটিলতা থেকেও মুক্ত থাকা যায়। এছাড়া ব্যাংক ঋণ, টেন্ডার অংশগ্রহণ, ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর রিটার্নের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর: না প্রণোদনা, না অতিরিক্ত কর
১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা কোনো ধরনের প্রণোদনা পাবেন না। তবে এ সময় পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত করও দিতে হবে না। অর্থাৎ এটি এক ধরনের নিরপেক্ষ সময়কাল হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যারা নির্ধারিত প্রণোদনার সময়সীমা মিস করবেন, তাদের জন্য বছরের শেষ তিন মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।
জানুয়ারি থেকে শুরু হবে অতিরিক্ত কর
রিটার্ন দাখিলে আরও বিলম্ব হলে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
এ সময়সীমা অতিক্রম করেও যারা রিটার্ন দাখিল করবেন না, তাদের জন্য আর্থিক দায় আরও বৃদ্ধি পাবে।
এপ্রিল থেকে জুন: বাড়বে জরিমানার পরিমাণ
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত করের হার আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে করদাতাকে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
কর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রিটার্ন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা নিরুৎসাহিত করতেই এ ধরনের ধাপভিত্তিক অতিরিক্ত করের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
করদাতাদের জন্য বার্তা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা যেমন আর্থিক সুবিধা পাবেন, তেমনি অতিরিক্ত করের ঝুঁকিও এড়াতে পারবেন। ফলে করদাতাদের উচিত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়া।
কর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—“আয়কর রিটার্ন সময়মতো দাখিল করুন এবং অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কর ও জরিমানা এড়িয়ে চলুন।”
সময়সীমা এক নজরে
- ১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর: কর প্রণোদনা প্রযোজ্য।
- ১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বর: প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর কোনোটিই নয়।
- ১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চ: ২% বা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর।
- ১ এপ্রিল – ৩০ জুন: ৫% বা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর।
অতএব, করদাতাদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক সময় হলো অর্থবছরের শুরুতেই রিটার্ন দাখিল করা, যাতে প্রণোদনা পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতের অতিরিক্ত করের বোঝা এড়ানো সম্ভব হয়।

