GPF & Pension Info

৫২ বছর পূর্ণ হলে জিপিএফ থেকে অফেরতযোগ্য অগ্রিম তোলার সুযোগ, কী বলছে সরকারি বিধিমালা?

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে, যা অনেক কর্মচারীর কাছেই এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, একজন চাঁদাদাতা ৫২ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে তার জিপিএফে জমাকৃত অর্থের একটি অংশ অফেরতযোগ্য অগ্রিম হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এই অর্থ পরবর্তীতে সরকারকে ফেরত দিতে হয় না। বিষয়টি সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৩(৯) ও ১৩(১০)-এ উল্লেখ রয়েছে।

কী হলো অফেরতযোগ্য অগ্রিম?

অফেরতযোগ্য অগ্রিম হলো জিপিএফে কর্মচারীর নিজস্ব সঞ্চিত অর্থ থেকে এমন একটি অগ্রিম, যা গ্রহণের পর কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় না। এটি মূলত চাঁদাদাতার সঞ্চিত অর্থের একটি অংশ আগাম উত্তোলনের সুযোগ।

কারা এই সুবিধা পাবেন?

বিধি অনুযায়ী—

  • সরকারি কর্মচারীর ৫২ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।
  • তিনি কৃষিজমি ক্রয়সহ বিধিতে উল্লেখিত বৈধ উদ্দেশ্যে অফেরতযোগ্য অগ্রিম গ্রহণ করতে পারবেন।
  • এই অর্থ গ্রহণের জন্য পরবর্তীতে কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
  • এটি কর্মচারীর সঞ্চিত অর্থের চূড়ান্ত প্রদানের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

কত টাকা তোলা যাবে?

বিধি ১৩(৯)-এ বলা হয়েছে—

  • অফেরতযোগ্য অগ্রিমের পরিমাণ জিপিএফে সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারবে।
  • একাধিকবার অফেরতযোগ্য অগ্রিম গ্রহণ করা গেলেও প্রতিবারই মোট উত্তোলনের পরিমাণ সঞ্চিত অর্থের ৮০ শতাংশের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
  • গৃহ নির্মাণের উদ্দেশ্যেও এ ধরনের অগ্রিম এক কিস্তিতে প্রদান করা যেতে পারে।

আগে নেওয়া ফেরতযোগ্য অগ্রিমও রূপান্তর করা যাবে

বিধি ১৩(১০) অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী যদি ৫২ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে জিপিএফ থেকে ফেরতযোগ্য অগ্রিম নিয়ে থাকেন, তবে ৫২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর চাইলে সেই অগ্রিমের অপরিশোধিত অংশকে অফেরতযোগ্য অগ্রিমে রূপান্তর করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই অর্থও চূড়ান্ত প্রদানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে না।

৫২ বছরের আগে কী নিয়ম?

৫২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জিপিএফ থেকে সাধারণত ফেরতযোগ্য অগ্রিম নেওয়া যায়। বিধি অনুযায়ী—

  • নির্ধারিত সমান মাসিক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
  • কর্মচারীর সম্মতি ছাড়া কিস্তির সংখ্যা ১২টির কম করা যায় না।
  • কোনো অবস্থাতেই কিস্তির সংখ্যা ৫০টির বেশি হতে পারে না।
  • গৃহ নির্মাণ অগ্রিমের ক্ষেত্রে বিশেষ আদায় পদ্ধতিও বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।

যা মনে রাখা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই মনে করেন ৫২ বছর পূর্ণ হলেই জিপিএফের পুরো টাকা তুলে নেওয়া যায়। বাস্তবে তা নয়। বিধিমালায় নির্ধারিত শর্ত, অনুমোদন এবং সঞ্চিত অর্থের সীমা অনুসারেই অফেরতযোগ্য অগ্রিম মঞ্জুর করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

সংক্ষেপে

  • যোগ্যতা: ৫২ বছর বয়স পূর্ণ।
  • সর্বোচ্চ পরিমাণ: সঞ্চিত অর্থের ৮০% পর্যন্ত।
  • পরিশোধ: ফেরত দিতে হয় না।
  • বিশেষ সুবিধা: পূর্বের ফেরতযোগ্য অগ্রিমের অপরিশোধিত অংশও অফেরতযোগ্য অগ্রিমে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।
  • আইনি ভিত্তি: সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ১৩(৯) ও ১৩(১০)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *