স্বর্ণের দাম ২০২৬

স্বর্ণের দামে নতুন উল্লম্ফন, ভরিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ছাড়াল ২২ ক্যারেট

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। একই সঙ্গে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০,১৩৫ টাকা। ফলে প্রতি ভরির মূল্য পৌঁছেছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে।

সর্বশেষ স্বর্ণের দাম

বাজুসের নির্ধারিত দামে বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে—

স্বর্ণের ধরন প্রতি গ্রাম প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম)
২২ ক্যারেট ২০,১৩৫ টাকা ২,৩৪,৮৫৫ টাকা
২১ ক্যারেট ১৯,২২০ টাকা ২,২৪,১৮২ টাকা
১৮ ক্যারেট ১৬,৪৭৫ টাকা ১,৯২,১৬৪ টাকা
সনাতন ১৩,৪১৫ টাকা ১,৫৬,৪৭৩ টাকা

কেন বাড়ছে স্বর্ণের দাম?

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে দেশের বাজারেও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হওয়ায় আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় চাহিদা বাড়ে, যা সরাসরি স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে।

ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ

নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে বিয়ে, গয়না ক্রয় বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতাদের খরচ আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বর্ণ ক্রয় এখন আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

একজন ক্রেতা যদি মাত্র ২ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে চান, তাহলে তাকে শুধু স্বর্ণের মূল্য বাবদই প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মজুরি, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ।

বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কতটা লাভজনক?

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ সাধারণত মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম একটি সম্পদ। তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারদর ওঠানামা করতে পারে। ফলে বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক মূল্য প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাজার বিশ্লেষণ

বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেট স্বর্ণের মধ্যে প্রতি ভরিতে পার্থক্য প্রায় ১০ হাজার ৬৭৩ টাকা। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের মধ্যে ব্যবধান ৪২ হাজার ৬৯১ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, বিশুদ্ধতার মাত্রা যত বেশি, মূল্যও তত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের মূল্য সংশোধন না হলে দেশের বাজারে স্বর্ণের উচ্চমূল্য আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আসন্ন বিয়ের মৌসুমে গয়না ক্রেতাদের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *