All Type of Forms

অবসরের আগে ছুটি ও লাম্পগ্র্যান্টের হিসাব নিজেই করুন, এক ক্যালকুলেটরে মিলবে পিআরএল ও সম্ভাব্য নগদায়নের অঙ্ক

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক কর্মচারীকে অর্জিত ছুটি, অর্ধগড় বেতনের ছুটি, প্রাপ্য পিআরএল এবং লাম্পগ্র্যান্টের হিসাব নিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। চাকরিকালে কত দিন ছুটি অর্জিত হয়েছে, কত দিন ভোগ করা হয়েছে এবং অবসরের সময় কত দিন ছুটি অবশিষ্ট থাকতে পারে—এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্য ছুটি ও নগদায়নের হিসাব পরিবর্তিত হয়। এ ধরনের হিসাব সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে ‘ছুটি নগদায়ন ও লাম্পগ্র্যান্ট ক্যালকুলেটর’, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দিয়ে অবসরকালীন ছুটির একটি প্রাথমিক হিসাব দেখা সম্ভব।

ক্যালকুলেটরটিতে কর্মচারীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, জন্মতারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, গ্রেড, সর্বশেষ মূল বেতন এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটি ভোগের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে এটি মোট চাকরিকাল, কর্তব্যকাল, অর্জিত ছুটির জের, অর্ধগড় বেতনের ছুটির হিসাব, পিআরএল, লাম্পগ্র্যান্ট এবং অতিরিক্ত ভোগযোগ্য ছুটির সম্ভাব্য পরিমাণ দেখায়। হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল প্রিন্ট করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

এক জায়গায় চাকরিকাল, ছুটি ও লাম্পগ্র্যান্টের হিসাব

অবসরের সময় ছুটির হিসাব নির্ধারণে শুধু চাকরিকাল জানাই যথেষ্ট নয়। চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে অবসরের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন ধরনের ছুটি ভোগ করা হয়েছে, কত দিন কর্তব্যকাল হিসেবে গণ্য হবে এবং ছুটির জের কত—এসব তথ্য হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালকুলেটরটির প্রথম অংশে কর্মচারীর নাম, পদবি ও অফিসের নাম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় অংশে জন্মতারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, গ্রেড এবং সর্বশেষ মূল বেতন নির্বাচন করতে হয়। তালিকায় থাকা বেতনের পরিবর্তে আলাদা ঘরে নিজের মূল বেতন লেখার সুযোগও রাখা হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে ছুটির তথ্য দিতে হয়। সব তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর ‘হিসাব করুন’ অপশনে ক্লিক করলে ক্যালকুলেটরটি বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য হিসাব তৈরি করে। ফলে অবসরের আগে কর্মচারী নিজের ছুটির হিসাব সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন।

ছুটির হিসাব করতে যেসব তথ্য প্রয়োজন

ক্যালকুলেটরে পাঁচ ধরনের ছুটির তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব তথ্যের ওপর নির্ভর করেই কর্তব্যকাল ও অবশিষ্ট ছুটির হিসাব তৈরি করা হয়।

১. বিনা বেতনে ছুটি: চাকরিকালে বিনা বেতনে ভোগ করা ছুটির দিন উল্লেখ করতে হবে।

২. ভোগকৃত অর্জিত ছুটি: শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি বাদে ভোগ করা অর্জিত ছুটির দিন দিতে হবে।

৩. অর্ধগড় বেতনে ছুটি: চাকরিকালে ভোগ করা অর্ধগড় বেতনের ছুটির মোট দিন উল্লেখ করতে হবে।

৪. অন্যান্য ছুটি: অসাধারণ ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির তথ্য দিতে হবে। ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্তব্যকাল বাদ দিয়ে এ তথ্য হিসাব করা হয়।

৫. শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি: এ ধরনের ছুটি কত দিন ভোগ করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট ঘরে লিখতে হবে।

ক্যালকুলেটরে শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির ঘরটি খালি রাখলে চাকরিকালের ভিত্তিতে প্রতি তিন বছরে ১৫ দিন ধরে একটি স্বয়ংক্রিয় হিসাব করা হয়। তবে এটি ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত গণনাপদ্ধতি; প্রকৃত ছুটির হিসাবের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিতে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।

অর্জিত ছুটি ও অর্ধগড় বেতনের ছুটি নির্ধারণের পদ্ধতি

ক্যালকুলেটরের কোড অনুযায়ী, কর্তব্যকালের প্রতি ১১ দিনের বিপরীতে এক দিন অর্জিত ছুটি হিসাব করা হয়েছে। বিনা বেতনে ছুটি, ভোগকৃত অর্জিত ছুটি, শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি, অর্ধগড় বেতনের ছুটি এবং অন্যান্য ছুটির নির্দিষ্ট সময় বাদ দিয়ে কর্তব্যকাল নির্ধারণ করা হয়।

এরপর মোট অর্জিত ছুটি থেকে ভোগ করা অর্জিত ছুটি এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটির দিন বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ছুটির হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, ক্যালকুলেটরে প্রতি বছর ১২ দিন হারে অর্ধগড় বেতনের ছুটি গণনা করা হয়েছে। ভোগ করা ছুটি বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে দুই দিয়ে ভাগ করে পূর্ণ গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তরের হিসাব করা হয়।

এই দুটি হিসাব একত্র করে মোট পূর্ণ গড় বেতনের ছুটির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্যালকুলেটরটি। তবে এ সূত্র ক্যালকুলেটরের নিজস্ব গণনাপদ্ধতি; সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও কর্মচারীর প্রকৃত ছুটির রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে না দেখে একে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

পিআরএল ও লাম্পগ্র্যান্টের হিসাব দেখাবে আলাদাভাবে

ক্যালকুলেটরটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, মোট পূর্ণ গড় বেতনের ছুটির ভিত্তিতে পিআরএল ও লাম্পগ্র্যান্টের হিসাব আলাদা করে দেখানো। এতে পিআরএলের সময়কাল, লাম্পগ্র্যান্টের জন্য গণনাযোগ্য ছুটি এবং অতিরিক্ত ভোগযোগ্য ছুটির পরিমাণ আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ক্যালকুলেটরের কোডে পিআরএলের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন এবং লাম্পগ্র্যান্টের জন্য সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন গণনার সীমা ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রথমে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন পিআরএল হিসেবে গণনা করা হয়। এরপর অবশিষ্ট ছুটি থেকে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন লাম্পগ্র্যান্টের জন্য হিসাব করা হয়।

এ দুই খাতে মোট ৯০০ দিন বা ৩০ মাসের ছুটি গণনার পরও কোনো ছুটি অবশিষ্ট থাকলে সেটি অতিরিক্ত পূর্ণ গড় বেতনে ভোগযোগ্য ছুটি হিসেবে দেখানো হয়। তবে এসব সীমা ক্যালকুলেটরের সূত্রে ব্যবহৃত হয়েছে বলেই প্রত্যেক কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পরিমাণ ছুটি বা সুবিধা পাবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ভর করবে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমোদিত ছুটির হিসাবের ওপর।

সর্বশেষ মূল বেতনের ভিত্তিতে লাম্পগ্র্যান্টের সম্ভাব্য অর্থ

লাম্পগ্র্যান্টের সম্ভাব্য অর্থ হিসাব করার জন্য ক্যালকুলেটরটিতে সর্বশেষ মূল বেতনকে ৩০ দিয়ে ভাগ করে দৈনিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দৈনিক মূল বেতনের সঙ্গে লাম্পগ্র্যান্টের জন্য গণনাযোগ্য ছুটির দিন গুণ করা হয়।

হিসাবের সূত্র:

লাম্পগ্র্যান্টের সম্ভাব্য অর্থ = (সর্বশেষ মূল বেতন ÷ ৩০) × গণনাযোগ্য ছুটির দিন।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর সর্বশেষ মূল বেতন ৪৫,০০০ টাকা এবং ক্যালকুলেটরের হিসাবে লাম্পগ্র্যান্টের জন্য গণনাযোগ্য ছুটি ৫৪০ দিন হলে হিসাবটি হবে নিম্নরূপ।

হিসাবের বিষয়পরিমাণ
সর্বশেষ মূল বেতন৪৫,০০০ টাকা
দৈনিক মূল বেতন১,৫০০ টাকা
গণনাযোগ্য ছুটি৫৪০ দিন
সম্ভাব্য লাম্পগ্র্যান্ট৮,১০,০০০ টাকা

এটি কেবল গাণিতিক উদাহরণ, কোনো সরকারি কর্মচারীর নিশ্চিত পাওনার হিসাব নয়। প্রকৃত অর্থ নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট বিধি, অনুমোদিত ছুটির পরিমাণ এবং কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত হিসাব অনুসরণ করতে হবে।

অবসরের সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করবে ক্যালকুলেটর

ক্যালকুলেটরে কর্মচারীর জন্মতারিখ দেওয়ার পর ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনকে অবসরের তারিখ হিসেবে ধরে হিসাব করা হয়। সেই তারিখ এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখের ব্যবধান থেকে মোট চাকরিকাল নির্ধারণ করা হয়।

এরপর মোট চাকরিকাল থেকে ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন ছুটির সময় বাদ দিয়ে কর্তব্যকাল বের করা হয়। কর্তব্যকালের ওপর ভিত্তি করেই অর্জিত ছুটি এবং অন্যান্য ছুটির হিসাব তৈরি হয়। এ কারণে জন্মতারিখ, যোগদানের তারিখ অথবা ছুটির তথ্য ভুল হলে ফলাফলও পরিবর্তিত হতে পারে।

ক্যালকুলেটরের এই তারিখকে চূড়ান্ত অবসরের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অবসরের বিধান ও চাকরির নথি যাচাই করতে হবে।

হিসাব সম্পন্ন হলে প্রিন্ট করার সুবিধা

ক্যালকুলেটরে হিসাব তৈরির পর ফলাফল কয়েকটি পৃথক বিভাগে দেখা যায়। কর্মচারীর পরিচিতি, ছুটির হিসাব, পিআরএল ও লাম্পগ্র্যান্ট এবং অতিরিক্ত ভোগযোগ্য ছুটির তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া ফলাফল প্রিন্ট করার জন্য আলাদা বোতাম রয়েছে। ফলে কর্মচারী চাইলে প্রাথমিক হিসাবটি প্রিন্ট করে নিজের সংরক্ষিত নথির সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। তবে এই প্রিন্ট কপি নিজে থেকে সরকারি অনুমোদন, ছুটি মঞ্জুরির আদেশ বা চূড়ান্ত আর্থিক নিষ্পত্তির নথি হিসেবে গণ্য হবে না।

চূড়ান্ত হিসাবের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

ক্যালকুলেটরটি অবসরকালীন ছুটির হিসাব সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও এর ফলাফল যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফাইলের নির্দেশনাতেই বলা হয়েছে, বেতন তালিকা আনুমানিক এবং চূড়ান্ত হিসাবের আগে সংশ্লিষ্ট বিধি ও অফিস আদেশ মিলিয়ে নিতে হবে।

এ জন্য কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত:

  • সর্বশেষ মূল বেতন বেতন নির্ধারণী বিবরণী বা প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

  • জন্মতারিখ ও চাকরিতে যোগদানের তারিখ সঠিকভাবে দিতে হবে।

  • সার্ভিস বুক এবং ছুটি মঞ্জুরির আদেশ অনুযায়ী ভোগ করা ছুটির তথ্য যাচাই করতে হবে।

  • কর্তব্যকাল থেকে কোন সময় বাদ যাবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

  • পিআরএল ও লাম্পগ্র্যান্টের প্রকৃত প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

শেষ কথা

অবসরের আগে ছুটি ও লাম্পগ্র্যান্টের সম্ভাব্য হিসাব সম্পর্কে ধারণা পেতে ছুটি নগদায়ন ও লাম্পগ্র্যান্ট ক্যালকুলেটর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি প্রাথমিক সহায়ক হতে পারে। এতে চাকরিকাল, অর্জিত ছুটি, অর্ধগড় বেতনের ছুটি, পিআরএল, লাম্পগ্র্যান্ট এবং অতিরিক্ত ভোগযোগ্য ছুটির হিসাব এক জায়গায় দেখার সুবিধা রয়েছে।

Click Now: ছুটি নগদায়ন ও লাম্পগ্র্যান্ট ক্যালকুলেটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *