৯ম পে স্কেল নিউজ

আয়কর আইন ২০২৩: কীভাবে হিসাব করবেন আপনার কর রেয়াত? জেনে নিন ৩টি সহজ বিকল্প

দেশের করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কর রেয়াত বা করছাড় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন ‘আয়কর আইন, ২০২৩’ এর বিধান এবং এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে করদাতারা তাদের প্রদেয় কর থেকে রেয়াত সুবিধা পেতে পারেন। তবে এই রেয়াত সুবিধা সবার জন্য একরকম নয় এবং এর একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কর রেয়াত নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্পের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই পরিমাণ টাকাই রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে।

কারা পাবেন এই কর রেয়াত সুবিধা?

নতুন আইন অনুযায়ী, সব ধরনের করদাতা এই সুবিধা পাবেন না। মূলত দুই শ্রেণীর করদাতার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে:

১. নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা (Resident Individual Taxpayers)

২. অনিবাসী বাংলাদেশী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা (Non-resident Bangladeshi Individual Taxpayers)

কর রেয়াত গণনার ৩টি বিকল্প পদ্ধতি

নতুন নিয়মে একজন করদাতার কর রেয়াত কত হবে, তা নির্ধারণ করতে নিচের তিনটি বিষয় বা বিকল্প হিসাব করতে হবে। করদাতা এই তিনটির মধ্যে যে অংকটি সবচেয়ে কম হবে, ঠিক সেই পরিমাণ টাকাই কর রেয়াত হিসেবে সুবিধা পাবেন:

বিকল্প নম্বররেয়াত নির্ধারণের ভিত্তিবিবরণ
বিকল্প ১মোট করযোগ্য আয়ের শতাংশকরদাতার মোট করযোগ্য আয়ের (Total Taxable Income) ৩%।
বিকল্প ২প্রকৃত বিনিয়োগের শতাংশকরবর্ষে করদাতার অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের (Actual Investment) ১৫%।
বিকল্প ৩সর্বোচ্চ আইনি সীমাআইন অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা, যা হলো ১০ লক্ষ টাকা।

সহজ কথায় নিয়ম: একজন করদাতা উপরে উল্লেখিত ৩টি পদ্ধতিতে আলাদা আলাদাভাবে হিসাব করবেন। এই তিনটি ফলাফলের মধ্যে যে অঙ্কটি সবচেয়ে কম আসবে, সেটিই তার চূড়ান্ত রেয়াত বা করছাড় হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম ও সতর্কতা

তথ্য বিশ্লেষণ করে করদাতাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া গেছে:

  • কর কমানোর সরাসরি সুবিধা: এই রেয়াত বা ছাড়টি সরাসরি করদাতার মোট আয়ের ওপর প্রযোজ্য প্রদেয় আয়কর (Tax Payable) থেকে বিয়োগ বা সমন্বয় করা হবে।

  • তফসিল মেনে বিনিয়োগ: রেয়াত সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ৩-এ উল্লেখিত নির্ধারিত সীমা, শর্তাবলী ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট খাতসমূহে বিনিয়োগ করতে হবে।

  • প্রমাণক দলিল সংরক্ষণ: বিনিয়োগের বিপরীতে করছাড় দাবি করার জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সব ধরণের প্রমাণক দলিল বা বিনিয়োগের কাগজপত্র (যেমন: ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমা বা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগের রসিদ) সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যা রিটার্ন জমার সময় প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকৃত বিনিয়োগের সঠিক হিসাব এবং এই তিন বিকল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে করদাতারা সহজেই তাদের বৈধ কর রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারণ করে করের বোঝা অনেকটাই লাঘব করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *