সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা অনুদানে বড় পরিবর্তন: এখন পাওয়া যাবে বছরে ৬০ হাজার টাকা - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা অনুদানে বড় পরিবর্তন: এখন পাওয়া যাবে বছরে ৬০ হাজার টাকা

সরকারি এবং তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চিকিৎসা অনুদানের পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

অনুদানের নতুন নিয়ম ও সময়সীমা

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, এই বর্ধিত অনুদান গত ১৯ আগস্ট, ২০২৫ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে। ১৯ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা এবং এই তারিখের পর থেকে করা চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়া যাবে। বছরে একজন কর্মচারী একবার এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

  • কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজে: আমৃত্যু এই সুবিধা পাবেন।

  • পরিবারের সদস্যগণ: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বয়স ৭৫ বছর হওয়া পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা এই অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদন পদ্ধতি: সম্পূর্ণ অনলাইন

আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এখন পুরোপুরি অনলাইনে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীকে বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.bkkb.gov.bd) অথবা সরাসরি (www.eservice.bkkb.gov.bd/general) লিঙ্কে প্রবেশ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া

অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে আবেদন যাচাই করা হয়:

  1. বাছাই কমিটি: পরিচালক (প্রশাসন)-এর সভাপতিত্বে প্রাথমিক যাচাই ও অর্থ সুপারিশ করা হয়।

  2. উপ-কমিটি: মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়।

সতর্কবার্তা: কেন আবেদন বাতিল হতে পারে?

কল্যাণ বোর্ড জানিয়েছে, তিনটি প্রধান কারণে অনুদান স্থগিত বা বাতিল হতে পারে:

  • আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে।

  • প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র সংযুক্ত না করলে।

  • আবেদন ফরমে আবেদনকারী বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিল না থাকলে।

আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বা সহায়তার জন্য সরকারি ‘কল্যাণ লাইন ১৬১০৯’ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ রোগের চিকিৎসা বলতে কি বুঝনো হয়েছে?

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, ‘সাধারণ চিকিৎসা অনুদান’ বলতে মূলত সেই সকল রোগ বা চিকিৎসার ব্যয়কে বোঝানো হয় যা কোনো বড় বা দুরারোগ্য ব্যাধির (যেমন: ক্যান্সার, হার্ট সার্জারি বা কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট) তালিকায় পড়ে না, কিন্তু চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।

সহজ কথায়, সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের আওতাভুক্ত বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সাধারণ রোগ ও সার্জারি

যেকোনো সাধারণ অসুখ যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বা অস্ত্রোপচার (Surgery) করতে হয়েছে। যেমন: অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলিতে পাথর, হার্নিয়া, সাধারণ দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ইত্যাদি।

২. দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ রোগ

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা থাইরয়েডের মতো রোগ যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত দামী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়।

৩. প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দামী পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন: এমআরআই (MRI), সিটি স্ক্যান (CT Scan), এন্ডোস্কপি ইত্যাদি সাধারণ চিকিৎসার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪. ওষুধের ব্যয়

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রয়কৃত প্রয়োজনীয় ওষুধের রসিদ জমা দিয়ে এই অনুদান পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, রসিদগুলো অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত হতে হয়।

৫. প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসা

মাতৃত্বকালীন সেবা বা সিজারিয়ান অপারেশন এবং শিশুদের সাধারণ চিকিৎসার ব্যয়ও এই অনুদানের আওতায় অন্তর্ভুক্ত।


গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • বিশেষ চিকিৎসা অনুদান বনাম সাধারণ চিকিৎসা অনুদান: যদি রোগটি অত্যন্ত জটিল হয় (যেমন: লিভার সিরোসিস, ওপেন হার্ট সার্জারি, প্যারালাইসিস), তবে সেটির জন্য আলাদা ‘বিশেষ চিকিৎসা অনুদান’ (যা ৫-১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে) পাওয়ার সুযোগ থাকে।

  • সাধারণ চিকিৎসা অনুদান মূলত দৈনন্দিন বা তুলনামূলক কম জটিল রোগের ব্যপক খরচে সহায়তা করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *