শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি, জাতীয় সেবা, ভাতা ও চাকরি তথ্যের নির্ভরযোগ্য সাইট

সর্বশেষ
সরকারি সেবা পেতে কমবে ভোগান্তি? সেবা সহজীকরণ নির্দেশিকা–২০২৬-এ প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাসের গুরুত্ব সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরিতে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ, তথ্য দিলেই স্বয়ংক্রিয় হিসাব ও PDF ০৩ মাসের বকেয়া বিলের হিসাব অটো : মূল বেতন থেকে বকেয়া নিরূপণ, এক ক্যালকুলেটরেই মিলবে মাসওয়ারি হিসাব আইবাস++-এ জিপিএফ ত্রুটিতে বেতন বিল দাখিলে জটিলতা, ডিডিও অপশনে সংশোধনের পরামর্শ টিন আছে, রিটার্ন নেই: ই-রিটার্নে জরিমানার অঙ্ক দেখে ঘাবড়াবেন না, আইনে আছে মওকুফের পথ এইচএসসি ফল প্রকাশ শনিবার: অনলাইনে ও এসএমএসে ফল জানার নিয়ম, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ অনুদানের নতুন হার নির্ধারণ, চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা নতুন বেসিকে অক্টোবরের বেতন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি, পে-ফিকেশন অনুমোদনে যেসব বিষয় জানা জরুরি এমপিও শিক্ষকদের অবসর ভাতার হিসাব: ১০ থেকে ২৫ বছর চাকরিতে কত টাকা, জেনে নিন নিয়ম সরকারি কর্মচারীদের বেতন নিয়ে নতুন শঙ্কা, iBAS++-এর ত্রুটিতে আটকে বিল দাখিল

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের বড় উদ্যোগ: ২৩.৮৩ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ শুরু

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের বড় উদ্যোগ
গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের বড় উদ্যোগ: ২৩.৮৩ কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ শুরু ছবি: টেকনিক্যাল আলামিন

দেশের গ্রামীণ দুস্থ ও অসহায় নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের আওতাভুক্ত “পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি)” কর্মসূচির অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে চলমান এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের আওতায় চলতি অর্থবছরে ক্ষুদ্রঋণ খাতে মোট ২৩.৮৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ঋণের পরিমাণ ও বিশেষ সুবিধাসমূহ

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত একজন নারী সদস্য সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। এই ঋণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ সুদমুক্ত। তবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধুমাত্র ৫% হারে সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হবে। ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী, যেখানে ঋণ উত্তোলনে খরচ পড়বে মাত্র ১০ টাকা।

পরিশোধ পদ্ধতি ও সঞ্চয় সুবিধা

সুবিধাভোগীরা তাদের ব্যবসার ধরন বা স্কীম অনুযায়ী সমান ১০টি কিস্তিতে অথবা ১, ২ বা ৩ কিস্তিতে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। ঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়তে সদস্যদের প্রতি মাসে মাত্র ২০ টাকা করে সঞ্চয় জমা দিতে হবে, যা মেয়াদ শেষে লভ্যাংশসহ ফেরত পাবেন সদস্য নিজেই।

কারা পাবেন এই ঋণ?

পল্লী মাতৃকেন্দ্রের এই সুবিধা মূলত গ্রামের স্থায়ী নারী নাগরিকদের জন্য। ঋণের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার নিবন্ধিত সদস্য হতে হবে। বিশেষ করে নিষ্ঠাবান, সংগ্রামী, দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও আত্মপ্রত্যয়ী নারীদের এই ঋণ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে ঋণগ্রহীতাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:

  • ‘ক’ শ্রেণি (দরিদ্রতম): বার্ষিক আয় ৫০,০০০ টাকার নিচে।

  • ‘খ’ শ্রেণি (দরিদ্র): বার্ষিক আয় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে।

  • ‘গ’ শ্রেণি: বার্ষিক আয় ৬০,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে।

আবেদন ও সেবা প্রাপ্তির স্থান

দেশের ৬৪ জেলার মোট ৪৯৫টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই ঋণ ব্যক্তিগতভাবে নয় বরং গ্রাম বা মহল্লা কমিটির মাধ্যমে দলগতভাবে প্রদান করা হয়। নতুন নির্বাচিত গ্রাম বা মহল্লায় জরিপের ১ মাসের মধ্যে এবং পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে ঋণ পাওয়া সম্ভব।

তদারকি ও ব্যবস্থাপনা

সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে গ্রাম নির্বাচন, সঠিক সুবিধাভোগী বাছাই এবং ঋণ আদায় প্রক্রিয়া সচল রাখতে সমাজসেবা অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গ্রাম কমিটির সম্পাদিকার জন্য নির্ধারিত সম্মানীর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের এই বিশাল বরাদ্দ ও সহজ শর্তের ঋণ প্রান্তিক জনপদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগ্রহী নারীদের বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিজ নিজ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।