Latest News

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ১১ বছরের ব্যবধান : নতুন পে-স্কেলের যৌক্তিকতা নিয়ে বাড়ছে দাবি

দেশের বাজারে গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধানে চাল, ডাল, তেলসহ প্রায় প্রতিটি মৌলিক খাদ্যের দাম দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের এই প্রেক্ষাপটে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নতুন পে-স্কেলের জোর দাবি উঠেছে।

দ্রব্যমূল্যের তুলনামূলক চিত্র (২০১৬ বনাম ২০২৬)

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে যে পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ছিল, ২০২৬ সালে এসে সেগুলো বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। নিচের সারণিটি দ্রব্যমূল্যের এই ভয়াবহ পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে:

ক্রমিকপণ্যের নাম২০১৬ সালের দাম (টাকা)২০২৬ সালের দাম (টাকা)বৃদ্ধির হার (প্রায়)
১চাল (কেজি)৪০-৪৫৮০-৮৫১০০%
২মসুর ডাল (কেজি)৬০-৭০১৬০-১৭০১৪০%
৩সয়াবিন তেল (লিটার)৭০-৭৫১৭৫-১৮৫১৫০%
৪সরিষা তেল (লিটার)১৩০-১৫০২৮০-৩২০১১০%
৫আলু (কেজি)১৫৩০১০০%
৬চিনি (কেজি)৫৫-৬০১০০-১০৫৮০%
৭গরুর মাংস (কেজি)৩৪০-৩৫০৭৫০-৮০০১২৫%
৮আটা (কেজি)৩০-৩৫৫৫-৬৫৮৫%
৯কাঁচা মরিচ (কেজি)৪০-৬০১২০-১৮০২০০%
১০পেঁয়াজ (কেজি)৩০-৪০৬০-৭০৯০%
১১দেশী ডিম (পিস)১০২০১০০%
১২ব্রয়লার ডিম (পিস)৬.৫১২৮৫%

মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাস

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১১ বছরে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০০%। এছাড়া প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত গরুর মাংসের দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকায় ঠেকেছে। ডাল ও তেলের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এমনকি ডিমের মতো সুলভ খাদ্যটির দামও দ্বিগুণ হয়েছে।

পে-স্কেল কেন প্রয়োজন?

বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে নতুন পে-স্কেলের দাবি এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগীদের মতে, ২০১৬ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের আকাশচুম্বী বাজার সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মত: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন ঘোড়া থামাতে না পারলে এবং বেতন কাঠামো পুনর্গঠন না করলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অপুষ্টি ও ঋণগ্রস্ততার মুখে পড়বে। বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কাটাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আয়ের সাথে ব্যয়ের ভারসাম্য আনা জরুরি।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই একটি বাস্তবসম্মত পে-স্কেল ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *