১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২০২৬ । শেষ পর্যন্ত সরকার কি এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করিল? - Technical Alamin
Latest News

১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২০২৬ । শেষ পর্যন্ত সরকার কি এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করিল?

হ্যাঁ, সরকার তথা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের জন্য এলপিজি গ্যাসের দাম বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে

গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঘোষিত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

১২ কেজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম (এপ্রিল ২০২৬):

  • নির্ধারিত সরকারি দাম: ১,৭২৮ টাকা (যা গত মার্চ মাসে ছিল ১,৩৪১ টাকা)।

  • বৃদ্ধির পরিমাণ: প্রায় ২৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • বাজার পরিস্থিতি: সরকারি দাম ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এবং খুচরা বাজারে এটি ১,৯০০ থেকে ২,১০০ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ২,২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।


অন্যান্য সিলিন্ডারের নতুন দাম:

বিইআরসি ১২ কেজি ছাড়াও অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে:

সিলিন্ডারের ওজন নির্ধারিত নতুন দাম (টাকা)
৫.৫ কেজি ৭৯২
১২.৫ কেজি ১,৮০১
১৫ কেজি ২,১৬১
১৮ কেজি ২,৫৯৩
৩০ কেজি ৪,৩২১
৪৫ কেজি ৬,৪২৮

অটোগ্যাস: গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও প্রতি লিটারে ৬১.৮৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা করা হয়েছে।

মূল্য বৃদ্ধির কারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের (সৌদি আরামকো সিপি) দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিইআরসি। তবে সরকারিভাবে দাম বাড়লেও তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ কি?

২০২৬ সালের এপ্রিলে রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সৌদি আরামকো সিপি (Saudi CP) বৃদ্ধি

বাংলাদেশে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারিত হয় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘আরামকো’র ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের দামের (Contract Price বা CP) ওপর ভিত্তি করে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এই কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

২. মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট

২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে শুধু গ্যাস নয়, বরং অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির দামও বেড়ে গেছে। সরবরাহ লাইনে ঝুঁকির কারণে বীমা ও জাহাজ ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে।

৩. ডলারের বিনিময় হার ও আমদানি ব্যয়

আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার প্রয়োজন হয়। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং ব্যাংকে এলসি (LC) খোলার জটিলতার কারণে আমদানিকারকদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এই বর্ধিত আমদানি ব্যয় মেটাতেই বিইআরসি গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

৪. লজিস্টিক ও পরিবহন সংকট

বিইআরসি জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের স্বল্পতা এবং কিছু পরিবহনকারী ভেসেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এলপিজি আমদানিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে উত্তেজনার কারণে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এবং খরচও বাড়ছে।

৫. চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতি

বাংলাদেশে বর্তমানে মাসিক এলপিজির চাহিদা প্রায় ১.৫ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত গ্যাস আনতে পারছেন না। বাজারে যখন চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকে, তখন সরকারি দামের চেয়েও অনেক বেশি দামে খুচরা বিক্রেতারা গ্যাস বিক্রি করে।

সারসংক্ষেপ: মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ডলারের উচ্চমূল্য—এই তিনটি কারণ মিলে এপ্রিল মাসে রান্নার গ্যাসের দামকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *