Latest News

নতুন করবর্ষের আয়কর নির্দেশিকা: বাড়বে করমুক্ত আয়ের সীমা, বিনিয়োগে মিলবে বিশেষ সুবিধা

আগামী ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের জন্য আয়করের নতুন হার এবং করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসাথে বৈধভাবে আয়কর কমানোর জন্য নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

১. সাধারণ ও বিশেষ শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা

নতুন করবর্ষে ব্যক্তিভেদে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নিম্নরূপ:

  • সাধারণ করদাতা: ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • মহিলা ও ৬৫ ঊর্ধ্ব করদাতা: ৪,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা: ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ (২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে আহত): ৫,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

  • অতিরিক্ত সুবিধা: প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক প্রতিটি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা করমুক্ত সীমার সুবিধা পাবেন।

২. ২০২৬-২০২৭ ও ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের কর হার

করমুক্ত সীমার পরবর্তী আয়ের ওপর ধাপ অনুযায়ী করের হার নিচে দেওয়া হলো:

মোট আয়ের ধাপকরের হার
প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত০% (শূন্য)
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর৩০%

বিশেষ দ্রষ্টব্য: তামাকজাত পণ্য (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ইত্যাদি) প্রস্তুতকারক করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সাধারণ কর হার প্রযোজ্য হবে না।

৩. বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াত (ট্যাক্স রিবেট) পাওয়ার উপায়

বৈধভাবে আয়কর সাশ্রয় করার জন্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। ছবি ২-এর তথ্য অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো:

  • জীবন বীমার প্রিমিয়াম: জীবন বীমায় প্রদত্ত কিস্তি।

  • সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড: সরকারি কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা।

  • ডিপোজিট পেনশন স্কিম (DPS): যেকোনো তফশিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ।

  • সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার: ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় এবং শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ।

  • কল্যাণমূলক অনুদান: যাকাত তহবিল, আইসিডিডিআর,বি (icddr,b), সিআরপি (CRP), সাভার এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদত্ত দান।

  • বিশেষ ফাউন্ডেশন: আহছানিয়া মিশন, ক্যান্সার হাসপাতাল বা প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে অনুদান।

৪. ন্যূনতম করের বিধান

যদি কোনো করদাতার আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে তাকে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। এলাকাভেদে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও নতুন করদাতাদের উৎসাহিত করতে তাদের জন্য এই হার মাত্র ১,০০০ টাকা রাখা হয়েছে। এমনকি বিনিয়োগ রেয়াত বিবেচনার পর প্রদেয় করের পরিমাণ শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও এই ন্যূনতম কর অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

উপসংহার:

আয়কর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বছরের শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে এখন থেকেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা উচিত। এতে করে করের বোঝা যেমন কমবে, তেমনি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *