নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের অপেক্ষায়, মন্ত্রিসভার পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন মূলত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা। অনুমোদন মিললে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে।
সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব উপস্থাপিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে এরপর দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর দ্রুত কার্যকর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ পর্যায়ে পে-স্কেল
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা রয়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, কমিশনের সুপারিশ এবং সচিব পর্যায়ের পর্যালোচনার পর এখন বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যেও নতুন পে-স্কেল নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মুখ্যসচিবের বক্তব্যে মিলেছিল দ্রুত ঘোষণার ইঙ্গিত
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে।
তার ওই বক্তব্য সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পে-স্কেলকে ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ উল্লেখ করা হয়।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও ছিল মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের কথা
এরও আগে গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনসংক্রান্ত কাজ এগিয়ে চলছে। কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
তিনি সে সময় আরও ইঙ্গিত দেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ দিকে যে কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল, আগস্টের শেষ দিনে এসে তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক তথ্যগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
কী হতে পারে পরবর্তী প্রক্রিয়া?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি হতে পারে কয়েক ধাপে।
প্রথমে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রস্তাবের আইনগত ও প্রশাসনিক দিকগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেডভিত্তিক বেতন, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং ভাতা-সংক্রান্ত সব অঙ্ককে চূড়ান্ত বলা যাবে না। কারণ, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তাবিত সুপারিশ ও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে পরিবর্তন থাকতে পারে।
বেতন বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন এবং ভাতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। কোথাও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, আবার কোথাও মূল বেতন আগে কার্যকরের সম্ভাবনার কথা এসেছে।
এ কারণে সরকারি কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা এখন চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের দিকে। কারণ, প্রজ্ঞাপনেই স্পষ্ট হবে—
- কোন গ্রেডে কত মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে;
- নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের তারিখ কী;
- বকেয়া বা আর্থিক সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে;
- বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে;
- বাস্তবায়ন একবারে হবে নাকি ধাপে ধাপে হবে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দুই ধাপে বা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরিজীবীদের চোখ এখন মন্ত্রিসভায়
সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার তথ্য, মুখ্যসচিবের দ্রুত ঘোষণার ইঙ্গিত এবং অর্থমন্ত্রীর আগের বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সোমবার মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হবে। এরপর আইনগত ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে পারে।
তবে সরকারি সূত্রের তথ্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে বলে চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে কোনো গ্রেডের নির্দিষ্ট বেতন বা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদ্ধতিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
এখন সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক ও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে।

