৯ম পে স্কেল নিউজ

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চার ধাপের পরিকল্পনা, মূল বেতন বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে দুই অর্থবছরে চার ধাপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতনের একটি অংশ চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে কার্যকর করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ এবং বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের সুপারিশ আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রথম ধাপে ৩০ শতাংশ কার্যকরের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতনের ৩০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকারিতার তারিখ হিসেবে অর্থবছরের শুরু বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ আগামী বছরের শুরু থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে প্রথম দুই ধাপেই নতুন প্রস্তাবিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

পরবর্তী অর্থবছরেও চলবে বাস্তবায়ন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই থেকে কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে।

এরপর একই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে চারটি পৃথক ধাপে ভাগ করার চিন্তা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ধাপগুলো হলো—

  • প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের ৩০ শতাংশ;
  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী বছরের শুরু থেকে আরও ৩৫ শতাংশ;
  • তৃতীয় ধাপ: পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই থেকে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশ;
  • চতুর্থ ধাপ: ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়ন।

অর্থাৎ পুরো নতুন পে স্কেল একবারে বাস্তবায়নের পরিবর্তে দুই অর্থবছরে চার ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

কেন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি সরাসরি সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর বেতন কাঠামো একযোগে পরিবর্তন হলে সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

এ কারণে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং পর্যায়ক্রমে অর্থের সংস্থান—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এই পদ্ধতিতে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকারের ওপর এককালীন বড় আর্থিক চাপও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

মূল বেতন বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাবে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে ‘সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ’ বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বাড়বে। চূড়ান্ত কাঠামোতে গ্রেডভেদে বেতন বৃদ্ধির হার, নতুন মূল বেতন এবং বেতন স্তরের মধ্যে পার্থক্য ভিন্ন হতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বিভিন্ন গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বেতন হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা বাড়ছে

নতুন পে স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমান বেতন কাঠামোর বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

প্রস্তাবিত চার ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীরা শুরু থেকেই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাওয়া শুরু করতে পারেন। তবে পুরো সুবিধা পেতে অপেক্ষা করতে হবে পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন শেষ হওয়া পর্যন্ত।

বিশেষ করে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ভাতার সম্পর্ক থাকায় চূড়ান্ত পে স্কেল কার্যকরের আগে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতার কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বর্তমানে যে পরিকল্পনার কথা জানা যাচ্ছে, তা মূলত প্রস্তাব ও সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে। তাই মন্ত্রিসভা বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাস্তবায়নের হার ও সময়সূচি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তবে প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এগোলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, বরং পরিকল্পিত চার ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে।

এতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করে পরবর্তী অর্থবছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতার নতুন কাঠামো কার্যকর করার পথ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, মূল্যস্ফীতিজনিত বাস্তবতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *