রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি, জাতীয় সেবা, ভাতা ও চাকরি তথ্যের নির্ভরযোগ্য সাইট

সর্বশেষ
ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ: ২০০ নম্বরের পরীক্ষা, আবেদনের শেষ সময় ৫ ডিসেম্বর ৯ম পে-স্কেলে নতুন করে অসন্তোষ: গ্রেডভিত্তিক বেতন ফিক্সেশন থেকে পাহাড়ি ভাতা—১০ দফা দাবি সরকারি কর্মচারীদের গ্রাম পুলিশের আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন: বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুযোগেও নতুন ঘোষণা ৯ম পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে বড় হিসাব: ৮ বছরেই প্রথম সুবিধা, পুরোনো টাইম স্কেল ও আইবাস++ ফিক্সেশনে যত জটিলতা ৯ম পে স্কেলে ২০ গ্রেডের বেতন কত থেকে শুরু, ১৮ বছর পর কত হবে? এক চার্টেই মিলবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব ৯ম পে-স্কেল ২০২৬: নতুন বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতার হিসাব হবে স্বয়ংক্রিয়! তৈরি হচ্ছে মাসিক বেতন বিবরণী ও স্যালারি শিট ৯ম পে স্কেলে প্রথম ধাপের বেতন নিয়ে হতাশা কেন? ২০২৭ সালে মূল বেতনে বড় পরিবর্তনের অপেক্ষায় সরকারি কর্মচারীরা পদোন্নতির পর বেতন কত বাড়বে? নতুন স্কেলে মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট হিসাবের সহজ পদ্ধতি বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের নতুন আবেদন থেকে নবায়ন: ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন প্রক্রিয়া জানুন শনিবার সরকারি অফিস, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ? সাপ্তাহিক ছুটি নিয়ে যেসব নিয়ম জানা জরুরি

তবে কি নবম পে-স্কেলের গেজেট আটকে গেছে? নাকি চলছে শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া?

তবে কি নবম পে-স্কেলের গেজেট আটকে গেছে?
তবে কি নবম পে-স্কেলের গেজেট আটকে গেছে? নাকি চলছে শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া? ছবি: টেকনিক্যাল আলামিন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল-২০২৬ নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। নির্ধারিত সময়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন—গেজেট কি আটকে গেছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে?

তবে সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে এখন পর্যন্ত ‘গেজেট আটকে গেছে’—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে ৩১ আগস্ট ২০২৬। ওইদিন মন্ত্রিসভা নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করে।

অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, মূল নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। এখন যে বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা, সেটি মূলত সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন/এসআরও হিসেবে প্রকাশ করা এবং বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা।


তাহলে গেজেট প্রকাশে দেরি হচ্ছে কেন?

এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

৩ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, পে-স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। বিজি প্রেস থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে এবং এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সরকারি আদেশ বা এসআরও নম্বর দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

অর্থাৎ, খসড়া প্রেসে যাওয়া মানেই গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়া নয়।

খসড়া প্রস্তুত → মুদ্রণ/ফরম্যাটিং সংক্রান্ত কাজ → সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া → আইনগত ভেটিং → প্রয়োজনীয় অনুমোদন/আনুষ্ঠানিকতা → এসআরও/প্রজ্ঞাপন → সরকারি গেজেট—এ ধরনের একাধিক ধাপ থাকতে পারে।

এ কারণে একটি নির্দিষ্ট দিনে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হলেও শেষ মুহূর্তে এক-দুই দিন সময় এগিয়ে-পিছিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।


‘গেজেট আটকে গেছে’—এমন ধারণা কেন তৈরি হলো?

এর পেছনে মূল কারণ বারবার প্রকাশের সময়সীমা পরিবর্তন।

মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, ওই সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন হয়ে যাবে। পরে অর্থসচিব ৬ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ রোববার গেজেট প্রকাশের কথা জানান।

কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গেজেট আর্কাইভে সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত গেজেটের রেকর্ড দেখা যাচ্ছে; নবম পে-স্কেলের গেজেট সেখানে এখনো দৃশ্যমান নয়।

এ কারণেই স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—৬ সেপ্টেম্বর কি সত্যিই গেজেট হবে?

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৬ সেপ্টেম্বরকে এখনো সম্ভাব্য প্রকাশের তারিখ হিসেবে দেখা উচিত; চূড়ান্ত গেজেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত প্রকাশ-তারিখ বলা ঠিক হবে না।


খসড়া বিজি প্রেসে—এটি কি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক সংকেত?

বরং এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায়।

কারণ ৩ সেপ্টেম্বরের একাধিক প্রতিবেদনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বক্তব্য এসেছে যে খসড়া ইতোমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সরকার দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে চায় এবং প্রক্রিয়াগত কারণেই সময় লাগছে।

অর্থাৎ, বর্তমানে যে অবস্থাটি সবচেয়ে যুক্তিসংগতভাবে বলা যায় তা হলো—

পে-স্কেল বাতিল হয়নি, নতুন করে মন্ত্রিসভায় ফেরত যায়নি এবং গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়নি। বরং অনুমোদিত সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সরকারি নথিতে রূপ দেওয়ার কাজ চলছে।


‘রাষ্ট্রপতির অনুমোদন’ নিয়ে যে কথা ছড়াচ্ছে, সেখানে সতর্কতা জরুরি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে—খসড়া মুদ্রণের পর সেটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গেজেট হবে।

কিছু সংবাদমাধ্যমও এমন একটি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছে—বিজি প্রেস → অর্থ মন্ত্রণালয় → আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং → রাষ্ট্রপতির অনুমোদন → গেজেট।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে।

নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনই গেজেট প্রকাশের বাধ্যতামূলক শেষ ধাপ—এ কথা সরকারি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়। কারণ সরকারি বিভিন্ন ধরনের বিধি, নিয়োগবিধি বা প্রজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অনুমোদনের ধাপ এক নয়। সরকারি একটি সেবাপদ্ধতির তথ্যেও দেখা যায়, কিছু নির্দিষ্ট বিধির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির ব্যবস্থা রয়েছে—কিন্তু সেটিকে সরাসরি জাতীয় পে-স্কেলের একই প্রক্রিয়া ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

তাই সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ ভাষা হলো—‘আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রজ্ঞাপন/এসআরও প্রকাশ হবে।’


তাহলে কি ৬ সেপ্টেম্বর গেজেট হবে?

সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

৩ সেপ্টেম্বর অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে ৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রেজুলেশন তৈরি করে বিজি প্রেসে পাঠানো এবং পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এখান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—

৬ সেপ্টেম্বর হলো একটি ঘোষিত লক্ষ্য/সম্ভাব্য তারিখ;

১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশের কথাও বিভিন্ন সূত্রে এসেছে।

তাই ৬ সেপ্টেম্বর একদিনে গেজেট না হলে সঙ্গে সঙ্গে ‘পে-স্কেল আটকে গেছে’ বা ‘পে-স্কেল বাতিল হয়ে গেছে’—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না।


তারিখ পরিবর্তন হলে কি পে-স্কেলের মূল সিদ্ধান্ত বদলে যাবে?

অবশ্যই নয়।

গেজেট প্রকাশের তারিখ এবং পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ—দুটি বিষয় আলাদা।

সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

ফলে গেজেট প্রকাশ যদি সেপ্টেম্বরের কয়েক দিন পরে হয়, তাতেই ১ জুলাইয়ের কার্যকর তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না।

বরং গেজেটে কীভাবে বেতন নির্ধারণ, বকেয়া/এরিয়ার, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, ভাতা এবং পেনশন-সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করা হচ্ছে—সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


বেতন বাস্তবায়নও হতে পারে ধাপে ধাপে

নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে শুধু গেজেট প্রকাশ করাই শেষ কথা নয়। এরপর শুরু হবে বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় কাজ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের একটি অংশ, পরবর্তী সময়ে আরও অংশ এবং পরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে।

এ কারণে গেজেট প্রকাশের পরও—

  • নতুন বেতন নির্ধারণ,
  • ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়,
  • বেতন ফিক্সেশন,
  • বকেয়া বেতন,
  • ভাতা নির্ধারণ,
  • পেনশন পুনর্নির্ধারণ,
  • অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা,
  • iBAS++-এ নতুন কাঠামো সংযোজন

ইত্যাদি নিয়ে আলাদা প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ গেজেট হচ্ছে দরজা খোলার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নয়।


আর্থিক বিষয়েও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, এই ব্যয় সরকারের জন্য হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো ব্যয় নয়; মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা বা MTBF-এ সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় রাখা হয়েছিল।

সরকারের হিসাবে নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হতে পারেন। অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু গেজেট প্রকাশ নয়—সঠিক সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনটি স্তরে দেখা যায়।

১. সিদ্ধান্ত হয়েছে

মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে।

২. খসড়া পর্যায় অতিক্রম করছে

অনুমোদিত কাঠামোর খসড়া/রেজুলেশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

৩. এখন আনুষ্ঠানিক প্রকাশের অপেক্ষা

আইনি ভেটিং, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এবং এসআরও/প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কাজ শেষ হলেই সরকারি গেজেট প্রকাশ হবে।

সুতরাং বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ‘গেজেট আটকে গেছে’ বলার চেয়ে ‘গেজেট প্রকাশের শেষ মুহূর্তের প্রক্রিয়া চলছে’—এই ব্যাখ্যাই বেশি গ্রহণযোগ্য।


তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

খসড়া কখনোই চূড়ান্ত গেজেট নয়।

বিজি প্রেসে পাঠানো খসড়ায় থাকা কোনো সংখ্যা, তারিখ, ভাতা, বাস্তবায়নের ধাপ বা শর্ত চূড়ান্ত গেজেটে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। এমনকি বাস্তবায়নের সময়সূচিও প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ‘ফাইনাল পে-স্কেল’, ‘চূড়ান্ত তারিখ’, ‘নিশ্চিত গেজেট’, ‘অমুক ভাতা বাতিল’, ‘অমুক গ্রেডে এত টাকা’—এসব তথ্য সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

শেষ কথা

নবম পে-স্কেল এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে, যেখানে মূল সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। খসড়া প্রেসে গেছে—এটি গেজেট প্রকাশের পথে অগ্রগতি। কিন্তু আইনগত ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে বলা যাবে না।

তাই ৬ সেপ্টেম্বর গেজেট না হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। একদিন, কয়েকদিন বা নির্দিষ্ট কোনো তারিখ পরিবর্তন হওয়া মানেই পে-স্কেল আটকে যাওয়া নয়। বরং এখন নজর রাখতে হবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন/এসআরও এবং বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট আর্কাইভে প্রকাশিত সরকারি নথির দিকে। সরকারি গেজেট আর্কাইভে প্রকাশিত নথিই হবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল।

অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতির সারকথা: ‘পে-স্কেল আটকে আছে’—এমন প্রমাণ নেই; বরং ‘গেজেট প্রকাশের শেষ ধাপগুলো চলছে’—এই অবস্থানটিই এখন বেশি তথ্যসমর্থিত।

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট আর্কাইভ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।