৯ম পে স্কেল নিউজ

সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে, অক্টোবরে নতুন স্কেল: নভেম্বরেই কি বাড়তি বেতন হাতে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

গেজেট প্রকাশের পর এখন সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন পে-স্কেলে পে-ফিক্সেশন, বেতন বিল প্রস্তুত এবং জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া সমন্বয়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পুরোনো জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট করার পর অক্টোবর মাসের বেতন নতুন স্কেলে নির্ধারিত হবে কি না এবং সেই বেতন নভেম্বর মাসে হাতে পাওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের বেতন কেন ২০১৫ সালের স্কেলেই?

বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট করার নির্দেশনা রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুবিধা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বরং নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পার্থক্য তৈরি হবে, সেটি পরবর্তী সময়ে পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতে হিসাব ও সমন্বয়যোগ্য হবে।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে পরিশোধ হলেও নতুন স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকেই বহাল থাকবে। ফলে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের প্রাপ্য পার্থক্য নির্ধারণের সুযোগ থাকবে। নতুন স্কেলের গেজেটেও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

চলতি মাসেই পে-ফিক্সেশন—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

নতুন পে-স্কেলের পরবর্তী বড় কাজ হলো অনলাইনে পে-ফিক্সেশন। গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের iBAS++-এর নির্ধারিত Pay Fixation ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে। তথ্য জমা দেওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট DDO-এর মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অফিসে যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাবে।

এখানে শুধু গ্রেড জানলেই নতুন বেতন নির্ধারণ হবে না। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারীর মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড, বিদ্যমান বেতনক্রম এবং প্রযোজ্য বিধান বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

ফলে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন না হলে নতুন নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে পরবর্তী বেতন বিল প্রস্তুত করা কঠিন হবে।

অক্টোবরের বেতন কি নতুন স্কেলে হবে?

বর্তমান নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অক্টোবর-২০২৬ মাসের বেতন নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করার পথ তৈরি হচ্ছে।

কারণ প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এমন—

সেপ্টেম্বর:
জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী বেতন বিল → নতুন স্কেলে পে-ফিক্সেশন

পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন:
নতুন মূল বেতন নির্ধারণ → DDO যাচাই → হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন → Verification Number

অক্টোবর:
নতুন নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল প্রস্তুত করার সম্ভাবনা

নভেম্বর:
অক্টোবর মাসের বেতন সাধারণ নিয়মে পরিশোধের সময় নতুন নির্ধারিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়া এবং নতুন স্কেলের বেতন বাস্তবে ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া একই বিষয় নয়। পে-ফিক্সেশন, DDO-এর সাবমিশন, হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই-অনুমোদন এবং iBAS++-এ বেতন পরিশোধের তথ্য হালনাগাদ—সবগুলো ধাপ সম্পন্ন হতে হবে। গেজেটের প্রক্রিয়াতেও এসব যাচাইয়ের ধাপ রাখা হয়েছে।

তাহলে নভেম্বরেই কি নিশ্চিতভাবে নতুন বেতন?

এ মুহূর্তে সবচেয়ে সতর্ক উত্তর হলো—পে-ফিক্সেশন ও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হলে অক্টোবরের বেতন নভেম্বর মাসে নতুন নির্ধারিত স্কেলে পাওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তবে এটিকে এখনই শতভাগ নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না। কারণ বাস্তবে নতুন বেতন পাওয়ার সময় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, DDO, হিসাবরক্ষণ অফিস এবং iBAS++-এর কার্যক্রম কত দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে তার ওপর।

অর্থাৎ নতুন স্কেল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর—কিন্তু নতুন স্কেলের টাকা হাতে পাওয়ার জন্য প্রশাসনিক ও সফটওয়্যারভিত্তিক কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া কীভাবে আসবে?

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পুরোনো স্কেলে যে অর্থ পরিশোধ করা হবে এবং নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের পর যে অর্থ প্রাপ্য হবে—এই দুইয়ের পার্থক্যই বকেয়া বা আর্থিক সুবিধা হিসেবে হিসাব করা হবে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে নতুন মূল বেতনের অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।

তাই বকেয়া হিসাব করার সময় শুধু নতুন পে-স্কেলের পূর্ণ মূল বেতন ধরে সরাসরি তিন মাসের পার্থক্য করলেই হবে না। ২০২৬ সালের নতুন বেতন কাঠামোর ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিধানও বিবেচনায় নিতে হবে।

একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ

নতুন পে-স্কেলে কারও বেতন কত হবে—এটি শুধু গ্রেডের নতুন সর্বনিম্ন বেতন দেখে নির্ধারণ করা যাবে না। প্রত্যেক কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন এবং প্রযোজ্য পে-ফিক্সেশন বিধান অনুসারে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।

এ কারণে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন ভিন্ন হলে নতুন পে-স্কেলেও তাদের নির্ধারিত মূল বেতন ভিন্ন হতে পারে।

সম্ভাব্য টাইমলাইন এক নজরে

সময়সম্ভাব্য কার্যক্রম
জুলাই ২০২৬নতুন পে-স্কেল কার্যকর
আগস্ট ২০২৬পুরোনো স্কেলে বেতন চলমান
সেপ্টেম্বর ২০২৬২০১৫ স্কেলে বেতন বিল + নতুন স্কেলে পে-ফিক্সেশন
সেপ্টেম্বর/অক্টোবরপে-ফিক্সেশন যাচাই ও অনুমোদন
অক্টোবর ২০২৬নতুন নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুতের সম্ভাবনা
নভেম্বর ২০২৬অক্টোবরের নতুন স্কেলের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা
পরবর্তী সময়েজুলাই–সেপ্টেম্বরের প্রাপ্য বকেয়া/পার্থক্য সমন্বয়

শেষ কথা

নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর এখন মূল বিষয় আর ‘পে-স্কেল হবে কি না’ নয়; বরং ‘কখন থেকে নতুন নির্ধারিত বেতন কার্যকরভাবে বেতন বিলে প্রতিফলিত হবে’—সেটিই সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বরের বেতন ২০১৫ সালের স্কেলে সাবমিট করা হলেও সেটি নতুন পে-স্কেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ নয়। বরং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা গেলে অক্টোবর মাসের বেতন নতুন নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে প্রস্তুত হওয়ার পথ তৈরি হবে।

সেক্ষেত্রে অক্টোবরের বেতন যদি যথাসময়ে নতুন স্কেলে বিলভুক্ত করা যায়, তাহলে নভেম্বর মাসে বেতন পাওয়ার সময় সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন নির্ধারিত বেতন হাতে পেতে পারেন। আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য পার্থক্য পে-ফিক্সেশনের পর বিধি অনুযায়ী আলাদাভাবে হিসাব ও সমন্বয় করা হবে।

অর্থাৎ সহজ ভাষায়—সেপ্টেম্বরের বেতন পুরোনো স্কেলে, সেপ্টেম্বরেই পে-ফিক্সেশন, অক্টোবরের বেতন নতুন ফিক্সড স্কেলে এবং নভেম্বর মাসে সেই বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা—বর্তমান প্রক্রিয়ার সবচেয়ে যৌক্তিক ধারাবাহিকতা। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পে-ফিক্সেশন ও iBAS++ কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *