বিদ্যুৎ সাশ্রয় থেকে দুর্নীতি দমন, সরকারি কাজে গতি আনতে ২৩ দফা নির্দেশনা
সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত সচিব সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয়-সংক্রান্ত শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বিশেষভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা, সরকারি দপ্তরের পরিচ্ছন্নতা, সরকারি জমি ও সম্পত্তি রক্ষা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রতিটি দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ
সরকারি দপ্তরে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ দপ্তর ও কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জারিকৃত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং ডিজিটাল মেশিনে হাজিরা প্রদান করতে হবে।
এ জন্য সব দপ্তর ও কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরে এখনো এ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি, সেগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ ছাড়া হাজিরা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল হাজিরা কার্যকরভাবে চালু হলে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে অনিয়ম কমানো এবং দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি
সরকারি অফিস, দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টিও নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়েও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এর ফলে মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়গুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সরকারি কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়ম প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা বিধি-বিধান অনুসারে নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তদন্ত, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আচরণবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব এড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে দুর্নীতির অভিযোগ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সরকারি অর্থের ব্যবহার ও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ক্রয়প্রস্তাব প্রস্তুত, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করতে হবে। ক্রয়প্রস্তাব-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রস্তুতের সময় সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অর্থের সংস্থান ব্যতীত কোনো ক্রয়প্রস্তাব বা ভেরিয়েশন প্রস্তাব সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন বা প্রেরণ করা যাবে না।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এ ধরনের নির্দেশনা সরকারি অর্থের অপচয় কমানো, ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রতিরোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সরকারি জমি ও সম্পত্তি রক্ষায় পদক্ষেপ
সরকারি জমি, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি বা সম্পত্তি নিয়ে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারি জমি ও সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। মামলা পরিচালনা, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জমি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো এবং আইনি জটিলতা নিরসনে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে নির্দেশনার বিষয়বস্তু থেকে প্রতীয়মান হয়।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব পাঠাতে গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ
মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তাব প্রস্তুত ও পাঠানোর ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে হবে।
নির্দেশনায় মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া তা প্রকাশ না করার বিষয়টি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে
নির্দেশনায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে নির্ধারিত বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সোলার প্যানেল স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি বাস্তবে সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগ
সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল ব্যবস্থাপনা এবং শূন্যপদ পূরণের বিষয়টিও নির্দেশনায় স্থান পেয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বিদ্যমান শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সচল রাখতে অনুমোদিত পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
সরকারি কাজে সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্য
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার সামগ্রিক উদ্দেশ্য হলো সরকারি দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ডিজিটাল হাজিরা, পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি জমি রক্ষা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা—প্রতিটি বিষয়ই সরকারি সেবার মান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে নির্দেশনা জারি করাই শেষ কথা নয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কতটা কার্যকরভাবে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করছে, নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল হচ্ছে কি না এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তার ওপর এসব সিদ্ধান্তের বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে।
উপসংহার
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সচিব সভায় গৃহীত ২৩ দফা সিদ্ধান্ত সরকারি প্রশাসনে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে অফিস ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সরকারি অর্থ ব্যয়, সম্পত্তি রক্ষা এবং প্রশাসনিক তদারকির বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এখন এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোর প্রধান দায়িত্ব। কার্যকর তদারকি ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলোর সুফল সরকারি সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।





মন্তব্য (০)