পল্লী বিদ্যুৎ মিটার পাওয়ার উপায় ২০২৬: আবেদন থেকে সংযোগ, কত টাকা লাগে
২০২৬ সালে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে হলে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, বিদ্যুৎ সংযোগের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নির্ধারিত ফি ও জামানত পরিশোধের মাধ্যমে সংযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। অনেক গ্রাহকের মধ্যে নতুন মিটার পেতে কত টাকা লাগে এবং মিটার পাওয়ার জন্য কী কী করতে হয়—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার পেতে কী করতে হবে
পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকলে অনলাইনেই আবেদন করা যায়। আবেদনে গ্রাহকের পরিচয়, সংযোগের ঠিকানা, প্রয়োজনীয় লোড এবং অন্যান্য তথ্য দিতে হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে। বাড়ি বা স্থাপনার বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও সংযোগ দেওয়ার উপযোগিতাও যাচাই করা হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আসে।
নতুন সংযোগের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে
সাধারণ আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় মালিকানা বা দখল-সংক্রান্ত কাগজপত্র লাগতে পারে। এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও সংযোগের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখতে হতে পারে—
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা কপি
- আবেদনকারীর ছবি
- জমি বা বাড়ির মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজ
- নামজারি/খতিয়ান/দলিল বা প্রযোজ্য কাগজপত্র
- প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য প্রত্যয়নপত্র
- বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং-সংক্রান্ত তথ্য
তবে সব আবেদনকারীর জন্য একই ধরনের কাগজপত্র প্রযোজ্য হবে—এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুতের মিটার আনতে কত টাকা লাগে
নতুন সংযোগের খরচ নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক নয়। সংযোগের ধরন, অনুমোদিত লোড এবং প্রযোজ্য সরকারি ফি ও জামানতের ওপর মোট খরচ নির্ভর করে।
প্রকাশিত সরকারি পল্লী বিদ্যুৎ সিটিজেন চার্টারের তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদন ফি ১২০ টাকা এবং নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা জামানত প্রযোজ্য হতে পারে।
২ কিলোওয়াট পর্যন্ত লোডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত ৪৮০ টাকা প্রতি কিলোওয়াট এবং ২ কিলোওয়াটের বেশি লোডের ক্ষেত্রে ৭২০ টাকা প্রতি কিলোওয়াট হারে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ উদাহরণ হিসেবে ১ কিলোওয়াট আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে—
আবেদন ফি = ১২০ টাকা
নিরাপত্তা জামানত = ৪৮০ টাকা
মোট = ৬০০ টাকা
তবে এটি কেবল উদাহরণভিত্তিক হিসাব। নির্দিষ্ট সংযোগে অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ থাকলে মোট অর্থ এর চেয়ে বেশি হতে পারে।
সিঙ্গেল ফেজ ও থ্রি-ফেজ সংযোগে ফি
বিদ্যুৎ সংযোগের ধরন অনুযায়ী আবেদন ফিও আলাদা হতে পারে। সরকারি ট্যারিফ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন LT সংযোগের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজের আবেদন ফি ১২০ টাকা এবং থ্রি-ফেজের আবেদন ফি ৩৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই আবেদন করার আগে নিজের প্রয়োজনীয় লোড ও সংযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছ থেকে প্রযোজ্য ফি জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মিটার কি গ্রাহককে কিনতে হয়?
নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে ‘মিটার কেনার টাকা’ এবং ‘নতুন সংযোগের সরকারি ফি’—এই দুটি বিষয় এক করে দেখা ঠিক নয়। সংযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী মিটার ও সংযোগ-সংক্রান্ত ব্যয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
তাই কেউ ব্যক্তিগতভাবে এসে শুধু ‘মিটার লাগানোর জন্য’ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে তার সরকারি ভিত্তি ও রসিদ যাচাই করা উচিত।
দালালকে টাকা দেওয়া যাবে কি?
পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে নির্ধারিত সরকারি ফি ও জামানত সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা উচিত। রসিদ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
কেউ দ্রুত মিটার দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে যোগাযোগ করে প্রকৃত ফি ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা উচিত।
আবেদন করার পর কী হয়
আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। যেমন—
আবেদন → তথ্য যাচাই → সাইট/সংযোগের সম্ভাব্যতা যাচাই → প্রয়োজনীয় অনুমোদন → নির্ধারিত ফি ও জামানত → সংযোগের ব্যবস্থা → মিটার স্থাপন।
প্রতিটি এলাকার অবকাঠামো, সংযোগের ধরন ও আবেদনের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে।
নতুন মিটার নিতে গ্রাহকের করণীয়
নতুন সংযোগের আবেদন করার আগে বাড়ির বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং সঠিকভাবে সম্পন্ন করা উচিত। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও মালিকানা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
আবেদনের সময় ভুল তথ্য না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংযোগের ঠিকানা, মালিকানা, প্রয়োজনীয় লোড এবং আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
শেষ কথা
২০২৬ সালে পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার বা সংযোগ নিতে হলে নির্ধারিত সরকারি নিয়মে আবেদন করাই নিরাপদ পদ্ধতি। আবেদন ফি হিসেবে ১২০ টাকা এবং সংযোগের লোড অনুযায়ী নিরাপত্তা জামানত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট গ্রাহকের মোট খরচ সংযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রযোজ্য চার্জের ওপর নির্ভর করবে।
তাই মিটার পাওয়ার জন্য কোনো অননুমোদিত ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অর্থ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ও অর্থ পরিশোধ করা উচিত।

