বিআরটিএ-র জরুরি সতর্কতা ২০২৬ । ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালেই জেল-জরিমানা?
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি বিআরটিএ ভবনের সদর কার্যালয় থেকে জারিকৃত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত বা লাইসেন্সে উল্লিখিত নির্দিষ্ট শ্রেণি বা ক্যাটাগরি ছাড়া অন্য কোনো মোটরযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্য করলে জেল ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান
বিআরটিএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করেছে:
-
লাইসেন্সবিহীন চালনা: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স (বা ক্ষেত্রমতে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স) ছাড়া পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাতে পারবেন না।
-
ক্যাটাগরি লঙ্ঘন: লাইসেন্সে যে শ্রেণির মোটরযান চালানোর অনুমতি আছে, তার বাইরে অন্য কোনো যান চালানো যাবে না।
-
শাস্তি: ধারা ৬৬ অনুযায়ী, যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতের ক্ষমতা
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যদি কোনো চালক লাইসেন্স ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালান, তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে তার লাইসেন্স স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে পারে। এছাড়া চালক যদি শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে অক্ষম হন কিংবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান, তবে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী তার লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা বিআরটিএ সংরক্ষণ করে।
বিআরটিএ-র উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ
বিআরটিএ লক্ষ্য করেছে যে, ইদানীং অনেকেই লাইসেন্স ছাড়া অথবা ভিন্ন ক্যাটাগরির লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো এবং অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ফলে সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মূল্যবান জীবনহানি ও আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণের মতো ঘটনা ঘটছে।
মালিক ও চালকদের প্রতি নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে:
১. চালকদের অবশ্যই বৈধ এবং সঠিক ক্যাটাগরির ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। ২. পরিবহন মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের নিয়োগকৃত চালকের সঠিক লাইসেন্স আছে কি না। ৩. কোনো অবস্থাতেই আইন বহির্ভূতভাবে গাড়ি চালানো যাবে না।
বিআরটিএ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই নির্দেশনা অমান্যকারী চালক ও মালিক—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিআরটিএ-র এই অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

