ভিসা আবেদন সহজ করতে ব্যাংক ডকুমেন্টে কিউআর কোড (QR Code) বাধ্যতামূলক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশ ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেটসহ ভিসা সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক দলিলাদিতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘কুইক রেসপন্স’ বা কিউআর কোড (QR Code) সংযুক্ত করতে হবে। এর ফলে বিদেশি দূতাবাসগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারবে।
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (BRPD) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ?
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকরা যখন বিভিন্ন দেশের ভিসার জন্য আবেদন করেন, তখন তাদের ব্যাংক বিবরণী, সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা এসব কাগজের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কোনো ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় বিদেশি দূতাবাস বা ভিসা সেন্টারগুলো অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে যেমন দীর্ঘ সময় লাগছে, তেমনি প্রশাসনিক ব্যয়ও বাড়ছে। এই জটিলতা নিরসন এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কিউআর কোডের মাধ্যমে যা যাচাই করা যাবে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো যখন গ্রাহককে ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রদান করবে, তখন তাতে একটি কিউআর কোড যুক্ত থাকতে হবে। ওই কোড স্ক্যান করলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত অন্তত পাঁচটি মৌলিক তথ্য প্রদর্শিত হতে হবে:
১. হিসাব নম্বর (Account Number) ২. হিসাবধারীর নাম (Account Name) ৩. সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের শুরুর ব্যালেন্স (Report Date Opening Balance) ৪. সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের শেষ ব্যালেন্স (Report Date Closing Balance) ৫. স্টেটমেন্ট তৈরির তারিখ (Statement Generation Date)
সংরক্ষণের সময়সীমা ও নিরাপত্তা
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রদর্শিত এই তথ্যগুলো অন্তত ০৬ মাস পর্যন্ত অনলাইনে সংরক্ষিত ও যাচাইযোগ্য থাকতে হবে। এছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের সময় সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান সকল আইন ও বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা
ব্যাংকগুলোকে এই নতুন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সার্কুলার জারির তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সকল ব্যাংককে এই ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

