৯ম পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন দাবিতে কাল সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিক্ষোভ - Technical Alamin
Latest News

৯ম পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন দাবিতে কাল সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিক্ষোভ

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেতন বৈষম্য দূরীকরণে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রাজপথে নামছেন সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

কর্মসূচির পটভূমি

সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এক বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং শুধু আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই পে-কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই বক্তব্যকে ‘তামাশামূলক’ ও ‘হঠকারী’ আখ্যা দিয়ে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর সই করা এক বিবৃতিতে নিম্নলিখিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে:

  • ২৯ জানুয়ারি: সারাদেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বিক্ষোভ।

  • ৩০ জানুয়ারি: সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ।

  • ৪ ফেব্রুয়ারির আল্টিমেটাম: এই সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের সকল জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

শিক্ষক নেতাদের দাবি

শিক্ষক নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর অতিক্রান্ত হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে ১১-২০ গ্রেডের শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

“জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠনের পর দ্রব্যমূল্য দফায় দফায় বেড়েছে। ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কমিশন গঠন করে যদি বাস্তবায়ন না-ই করা হয়, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কেন করা হলো?” — অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী, সদস্য সচিব, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।

বিশ্লেষণ

গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৯ম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হলেও সরকারের নীতি-নির্ধারকদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে শিক্ষক মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে তারা লাগাতার কর্মবিরতি ও সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *