সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর: বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন যাতায়াত সুবিধার সুপারিশ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সুপারিশ করেছে নতুন বেতন কমিশন। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া কমিশনের প্রতিবেদনে বৈশাখী ভাতা দ্বিগুণ করা, যাতায়াত ভাতার পরিধি বাড়ানো এবং চিকিৎসা ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভাতা ও যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে কেবল ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেলেও, নতুন প্রস্তাবে ১০ম গ্রেডকেও এই সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
২. টিফিন ও বিশেষ ভাতা
বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাকে মাসে ২ হাজার টাকা বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য)।
৩. বাড়ি ভাড়া ও আবাসন
বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে কমিশন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের সুপারিশ করেছে:
-
১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: এই স্তরের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
-
১ম থেকে ১০ম গ্রেড: উচ্চতর গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৪. পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা
অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার একটি নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে:
| বয়স সীমা | প্রস্তাবিত মাসিক চিকিৎসা ভাতা |
| ৭৫ বছরের বেশি | ১০,০০০ টাকা |
| ৫৫ থেকে ৭৪ বছর | ৮,০০০ টাকা |
| ৪০ থেকে ৫৫ বছর | ৫,০০০ টাকা |
| ৪০ বছর বা তার কম | ৪,০০০ টাকা |
বাস্তবায়নের পথে পরবর্তী ধাপ
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা হওয়া এই সুপারিশগুলো এখন সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের ভিত্তিতে এই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখো সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।


