সারাদেশে মসজিদ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা লক্ষাধিক মসজিদের সঠিক পরিসংখ্যান এবং সেখানে কর্মরত জনবলের তথ্য সংগ্রহের বিশাল এক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগ থেকে জারিকৃত এক পত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয় । চিঠিতে আগামী ২ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে এই তথ্য পাঠানোর জন্য জরুরি অনুরোধ করা হয়েছে ।
যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে
ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সরবরাহকৃত ছক অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
মসজিদের ধরণ: মসজিদটি কি জামে মসজিদ নাকি পাঞ্জেগানা, তার সঠিক উল্লেখ থাকতে হবে।
-
ব্যক্তিগত তথ্য: কর্মরত খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর এবং মোবাইল নম্বর।
-
ঠিকানা ও পেশা: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি তারা ইমামতি বা সংশ্লিষ্ট কাজের বাইরে অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত কি না, তাও জানাতে হবে।
-
সরকারি সুবিধা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি কোষাগার থেকে কোনো বেতন বা সম্মানী পান কি না। উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে তার বিস্তারিত বিবরণও যুক্ত করতে হবে।
বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন, উপ-পরিচালক মুহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি দেশের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা ও বিভাগীয় উপ-পরিচালকরা তাদের নিজ নিজ এলাকার আওতাধীন সকল মসজিদের তথ্য সংগ্রহ করে আগামী ২ মার্চের মধ্যে ই-মেইলের (ifacoordinationmosque@gmail.com) মাধ্যমে সফট কপি জমা দেবেন । এছাড়া এই তালিকা প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ পরবর্তীতে প্রদান করা হবে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয় ।
কেন এই উদ্যোগ?
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশের ধর্মীয় অবকাঠামো এবং এর সাথে যুক্ত বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় সেবকদের সঠিক কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ না থাকায় অনেক সময় সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বা সহায়তা প্রদান কঠিন হয়ে পড়ে। এই তালিকাটি সম্পন্ন হলে সরকার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মসজিদভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজতর হবে।


