সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা সহায়তায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান: আবেদনের নিয়ম ও বিস্তারিত - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা সহায়তায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান: আবেদনের নিয়ম ও বিস্তারিত

একজন সরকারি কর্মচারী তার চাকরি জীবনে নিজের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এখন সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান পেতে পারেন। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।


অনুদান প্রাপ্তির নতুন নিয়ম ও সময়সীমা

২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট থেকে অনুদানের পরিমাণে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫-এর পূর্বে: এই সময়ের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ অনুদান ২ লাখ টাকা

  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ থেকে বর্তমান: এই তারিখ বা তার পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার জন্য অনুদান বৃদ্ধি করে ৩ লাখ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে এই অনুদান প্রযোজ্য?

এই কার্যক্রমের আওতায় মূলত আটটি বিশেষ রোগ ও দুর্ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

  1. ক্যান্সার

  2. হৃদরোগ

  3. কিডনি-ব্যাধি

  4. হেপাটাইটিস

  5. ডায়াবেটিস-মেলিটাস

  6. পক্ষাঘাত

  7. বক্ষব্যাধি

  8. কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন

  9. দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়া।

    এছাড়াও মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক অন্য কোনো রোগকে ‘জটিল ও ব্যয়বহুল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে সেটিও অনুদানের আওতায় আসবে।


আবেদন প্রক্রিয়া: অনলাইনে যেভাবে করবেন

সেবাটি পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

  1. অনলাইন আবেদন: প্রথমে www.bkkb.gov.bd অথবা সরাসরি eservice.bkkb.gov.bd/complex/ লিংকে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

  2. হার্ডকপি জমা: অনলাইন ফরমটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবর ফরওয়ার্ডিং চিঠির মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

  3. ডায়েরি নম্বর: আবেদন জমা হওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইলে SMS-এর মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ডায়েরি নম্বর ও তারিখ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্রের মূল কপি বা সত্যায়িত কপি যুক্ত করতে হবে:

  • হাসপাতালের মূল ছাড়পত্র (অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত)।

  • চিকিৎসা সংক্রান্ত মূল বিল-ভাউচার এবং ব্যবস্থাপত্র।

  • খরচের একটি সুনির্দিষ্ট হিসাববিবরণী (নিজস্ব স্বাক্ষরসহ)।

  • জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন (Payfixation) ফরমের সত্যায়িত কপি।

  • জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্তৃক প্রত্যয়ন ও অগ্রায়ন পত্র।


বাছাই ও অর্থ প্রদান পদ্ধতি

আবেদন জমা হওয়ার পর তা দুটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি রোগের সঠিকতা যাচাই করেন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে ব্যবস্থাপনা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। অনুমোদনের পর মঞ্জুরিকৃত অর্থ সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে EFT (Electronic Fund Transfer)-এর মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয় তথ্য
সেবা প্রদানকারী সংস্থা বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড
প্রয়োজনীয় সময় ৩৫ কার্যদিবস
আবেদন ফি কোনো ফি প্রয়োজন হয় না (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে)
সর্বোচ্চ অনুদান ৩,০০,০০০ টাকা (চাকরি জীবনে এক বা একাধিকবার)

প্রতিকার: যদি কোনো আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা না পান বা সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তিনি সরাসরি পরিচালক (প্রশাসন) বা মহাপরিচালক বরাবর প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে এই অনুদান কার্যক্রম একটি অত্যন্ত মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সবসময় বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফলো করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *